মূল সংবাদে যান
২৪ আগস্ট ২০২৬

শেয়ার করুন

প্রধান বিচারপতির কোনো আদেশ মানব না: বিচারপতি শামসুদ্দিন

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ৬ বার পঠিত ৫ মিনিটের পাঠ

অনিষ্পন্ন রায়ের সব মামলার ফাইল জমা দিতে প্রধান বিচারপতির নির্দেশ মানবেন না বলে জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী।

সোমবার বিকাল ৩টার দিকে সুপ্রিম কোর্টের বাইরে মাজার গেটের পাশে রাস্তার ওপর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা জানান।

এ সময় অবিলম্বে প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ দাবি করেন সম্প্রতি অবসরে যাওয়া বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী।

তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহা বিচারাঙ্গনকে বিতর্কিত করে চলছেন। রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে খালেদা জিয়ার এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন।

শামসুদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘আমি তার কোনো আদেশ মানি না, মানব না। এটি অবৈধ আদেশ। সংসদেও তার বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। আজকে আমি আমার লিখিত কয়েকটি রায় ও আদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি মো. ঈমান আলীর কাছে জমা দিচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘রোববার সন্ধ্যায় আমার লিখিত রায় ও আদেশগুলো নিতে রাজি হন আপিল বিভাগের অপর বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিঞা। আমি অবসরে যাওয়ার পর আমার রুমে প্রধান বিচারপতি তালা দিয়েছেন এবং আমার সব কর্মচারী, কাগজপত্র, কম্পিউটার নিয়ে গেছেন। এ কারণে আমি রায় লিখতে পারছি না। হাতে-কলমে রায়গুলো লিখে যাচ্ছি।’

গত বছরের অক্টোবরে অবসরে যান আপিল বিভাগের বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী। অবসরে যাওয়ার পর তার কাছে ১৯৬টি মামলার আদেশ ও রায় লেখার কাজ বাকি ছিল। এ অবস্থায় সুপ্রিম কোর্টের রোজিস্ট্রার দফতর থেকে তাকে দ্রুত রায় লেখা এবং রায়ের নথি ফেরত দেয়ার জন্য কয়েক দফা চিঠি দেয়া হয়। জবাবে পাল্টা চিঠি দেন তিনি। এরপর ১৯ জানুয়ারি এক বাণীতে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের রায় লেখা অসাংবিধানিক আখ্যা দেন।

সর্বশেষ রোববার বেলা ১১টার দিকে সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী সুপ্রিমকোর্টের রেজিস্ট্রার অফিস বরাবর একটি চিঠি পাঠান। বিষয়টি নিয়ে দুপুরে তিনি একটি প্রেস ব্রিফিং করেন। সেখানে তিনি বলেন, অবসরের পর তিনি তার হাতে থাকা মামলার রায় লেখা শেষ করে জমা দিতে গিয়েছিলেন, কিন্তু তা নেয়া হয়নি।

অবসরপ্রাপ্ত এ বিচারপতি বলেন, ‘রায় লেখা শেষ হয়ে যাওয়ার পর আমার যে প্রিজাইডিং বিচারপতি (বেঞ্চের নেতৃত্বদানকারী বিচারপতি) আবদুল ওয়াহহাব মিঞা, তার কাছে আমি গেলাম। তিনি স্বভাবতই অপারগতা প্রকাশ করেছেন। তার এছাড়া কিছু করার ছিল না। তিনি বলেছেন-দেখেন যেহেতু প্রধান বিচারপতি বলেছেন, যে অবসরে যাওয়া বিচারপতিরা আর রায় লিখতে পারবেন না, আর সই করতে পারবেন না- এ অবস্থান থেকে তো তিনি সরে যাননি। তিনি এখনো ওই অবস্থানে আছেন, সুতরাং আপনার রায় আমি কিভাবে গ্রহণ করি?’

পরে বিকালে সুপ্রিম কোর্টের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার জেনারেল আবু সৈয়দ দিলজার হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘প্রধান বিচারপতি আশা করেন যে, সাবেক বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মিডিয়াতে মামলার রায় ও আদেশ সংক্রান্ত কোনোরূপ বক্তব্য না দিয়ে তার কাছে যতগুলো অনিষ্পত্তিকৃত রায়ের মামলার ফাইল রয়েছে, তা সুপ্রিমকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল অফিসে অতি সত্বর ফেরত প্রদান করবেন, যাতে বিচারপ্রার্থীদের আর ভোগান্তি না হয়।’

রোববার বিচারকাজ চলাকালীন সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরীর ‘প্রেস কনফারেন্স’ প্রধান বিচারপতির গোচরীভূত হওয়ার পর এই সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়। এতে বলা হয়, ‘সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণে এ ধরনের প্রেস কনফারেন্স নজিরবিহীন। প্রধান বিচারপতি আশা করেন, বর্তমান ও ভবিষ্যতে বিচারপতিরা কোর্টের পবিত্রতা ও মর্যাদা বজায় রাখার স্বার্থে এ রূপ কার্য থেকে বিরত থাকবেন।’

এদিকে সোমবার সকালে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার সাব্বির ফয়েজ জানান, সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া সব ধরনের সংবাদ সম্মেলন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এ ধরনের নিয়ম কেন করা হলো- জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগে থেকেই এ রকম নিয়ম ছিল।

সাব্বির ফয়েজ বলেন, সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া কোর্ট চত্বরে কোনো ধরনের সংবাদ সম্মেলন করা যাবে না। তবে, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবন এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে।

হঠাৎ করে এ ঘোষণা কেন? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আপনারা তো বুঝতেই পেরেছেন কেন আমরা এ ঘোষণা দিলাম।’

এ ঘোষণার পর বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী বিকালে সুপ্রিম কোর্টের বাইরে মাজার গেটের পাশে রাস্তার ওপর সংবাদ সম্মেলন করলেন।