সনদের প্রয়োজন অনুভব করেননি মুক্তিযোদ্ধা হুমায়ুন ফরীদি
মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ডটকমঃ
তিনি মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, সনদের প্রয়োজন অনুভব করেননি। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কোন উচ্চবাচ্য ছিলোনা জীবনভর।তাঁর কাছে এ যেন ছিলো, দায়িত্ব পালন শেষে নিজের ঘরে ফেরার মতো বিষয়।
চার বছর পূর্বে, ফাগুনের প্রথম দিনটিতে তাঁর মহাপ্রয়ান আমরা আজও ভুলতে পারিনি।শ্রদ্ধেয় হুমায়ূন ফরীদি বিহীন বসন্তের দিনগুলোতে, গাঁদা ফুলের উজ্জ্বলতা ও গোলাপের ঘ্রান অন্তত আমাদের জন্য কিছুটা ম্লান ও ধুসর।
জীবন সুন্দর…
আকাশ বাতাস পাহাড় সমুদ্র সবুজ বনানী ঘেরা প্রকৃতি সুন্দর
আর সবচেয়ে সুন্দর, এই বেঁচে থাকা
তবুও কি আজীবন বেঁচে থাকা যায়?
বিদায়ের শেহনাই বাজে
নিয়ে যাবার পালকি এসে দাঁড়ায় দুয়ারে
সুন্দর এই পৃথিবী ছেড়ে, এই যে বেঁচে ছিলাম
দীর্ঘশ্বাস নিয়ে যেতে হয়, সবাইকে অজানা গন্তব্যে
হঠাত ডেকে ওঠে নাম না জানা পাখি
অজান্তেই চমকে উঠি, জীবন, ফুরালো নাকি?
বড় অন্যায় করলেন আপনি, এভাবে না গেলেই কি হতোনা ? ফাগুনের প্রথম দিনটিকেই বেছে নিতে হলো মহাপ্রয়ানের জন্য ?
কিংবদন্তী হুমায়ুন কামরুল ইসলাম ফরীদি (হুমায়ুন ফরীদি) ২৯ মে ১৯৫২–১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১২
আমাদের অভিনয় জগতের সবচে বর্নাঢ্য মানুষ৷ বাংলাদেশের অবিসংবাদিত অভিনেতা তিনি। মঞ্চ, টিভি আর চলচ্চিত্রে এরকম ভার্সেটাইল অভিনেতা একটিও নেই। কী অসাধারণ ক্ষমতা নিয়ে এসেছিলেন ফরীদি। বিটিভির সাদাকালো যুগের সবচে অসাধারন, সবচে শক্তিমান এই বর্নিল অভিনেতা। বিটিভির ৮০’র দশকের দর্শক যারা, তারা সবচে বেশী সৌভাগ্যবান এই অসামান্য গুনী অভিনেতার অভিনয় দেখতে পেরেছে বলে।
জীবনকে যাপন করেছেন আপনি, আপনাকে যাপন করার সুযোগ দেননি৷ প্রবলভাবে বেঁচে ছিলেন আমৃত্যু৷ আপনার বেঁচে থাকা ছিলো গোপনে, গহিনে আশাবাদী মানুষের মতো৷
প্রতিনিয়ত যন্ত্রণাক্লিষ্ট মানুষ অন্য মানুষকে ভুলে যেতে পারে, পাখিরা পারে না, গাছরা পারে না। তাই তো বন উজাড়ে বাসা বানাতে না পারা পাখিরা এখনও মানুষকে গান শোনায়, ধ্বংসের শেষ প্রান্তে এসেও গাছরা ফুল ফোটায়-ভালোবাসায়, নিঃস্বার্থে, আনন্দ বারতায়!
শ্রদ্ধেয় ফরীদি ভাই, যেখানেই থাকুন, ভালো থাকুন-শান্তিতে থাকুন ৷ বড়ো ভালোমানুষ ছিলেন আপনি ।
সূত্র- গেরিলা ৭১
মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ডটকম/১৩-০২-২০১৬/নিঝুম
