মূল সংবাদে যান
২৪ আগস্ট ২০২৬

শেয়ার করুন

রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের অক্সিজেন সিলিন্ডার লাপাত্তা

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ৩ বার পঠিত ৪ মিনিটের পাঠ

মোঃ সোহেল রানা, (স্টাফ রিপোটার):
রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের ৪৪ টি অক্সিজেন সিলিন্ডার এর কোন সন্ধান পাওয়া যাচ্ছেনা | হারিয়ে যাওয়া সিলিন্ডারের বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও দায়ী ব্যাক্তিদের বিষয়ে কোন ব্যাবস্থা নেওয়া হয়নি |

রাজবাড়ী জেলার সবচেয়ে বড় হাসপাতাল এটি | হাসপাতাল সূত্রের হিসাব অনুযায়ী এখন ও পর্যন্ত ১০১ টি অক্সিজেন সিলিন্ডার (শ্বাস কষ্টজনিত রোগীর জন্য ব্যাবহার করা হয়) এবং নাইটার্স সিলিন্ডার (অস্রোপাচার থিয়েটারে ব্যাবহার করা হয়)  | বর্তমানে হাসপাতালে সিলিন্ডারের সংখ্যা ৫৭ টি | ৪৪ টি সিলিন্ডার কবে কখন কোথায় হারিয়ে গেছে তা জানেনা হাসপাতাল কতৃপক্ষ | গত বছর এ বিষয়টি ব্যাবস্থাপনা কমিটির সভায়  সিলিন্ডার লাপাত্তা কারন আলোচনায় আসে |আলোচনায় আসার পর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা.গোলাম ফারুক কে প্রধান করে একটি জরিপ কমিটি গঠন করা হয় | ওই কমিটি গত বছবের নভেম্বরে জেলা সিভিল সার্জেনের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয় |প্রতিবেদনে হাসপাতালের সব ওর্য়াড থেকে সংগৃহিত অক্সিজেন ও নাইটার্স সিলিন্ডারের সংখ্যা দেখানো হয় ৫৭ টি | সূত্র আরো জানায়, জরিপ কমিটির প্রতিবেদন অলোচনা সভায় গত বছরের ১৪ মে স্বাস্থ্য সেবা কমিটিতে আলোচনা করা হয় | সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং সদর হাসপাতালের সাবেক আবাসিক চিকিৎসক কর্মকর্তা (আরএমও)ডা.রহিম বক্সকে প্রধান করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট আরেকটি কমিটি গঠন করা হয় | তদন্ত কমিটির প্রধান জানান,আমি এখন হাসপাতালের (আরএমও)দায়িত্বে নেই | তবে তদন্তের দ্বায়িত্ব পাওয়ার পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সিভিল সার্জনের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছি | সিলিন্ডার গুলো আনা নেওয়ার সময় হিসাব খাতায় (স্টক লেজার)ঠিকমতো লিপিবদ্ধ করা হয়নি | সভার রেজুলেশন খাতা সূত্রে জানা যায়, ১৪ মের সভা রেজুলেশনের ৪ নম্বর আলোচ্যসূচিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সিভিল সার্জন হাসপাতালের অক্সিজেন সিলিন্ডারের হিসাব গরমিল থাকায় সভাপতি এ বিষয়ে অধিকগুরত্ব দিয়ে সংশ্লিষ্ট দায়ী ব্যাক্তিদের বিরুদ্ধে প্রসাশনিক ব্যাবস্থা গ্রহনের অনুরোধ করেন | একই সাথে বিষয়টি সিভিল সার্জনকে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করা হয় | তবে ১৩ সেপ্টেম্বর হওয়া একই কমিটির পরবর্তী সভার রেজুলেশনে বিষয়টি আলোচ্য সূচিতে রাখা হয়নি | নাম প্রকাশে অনইচ্ছুক সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালের একটি চক্র বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী মেশিন বাইরের প্যাথলজি ব্যাবসায়ীদের দিয়ে থাকেন | তারা এর বিনিময়ে উপঢৌকন গ্রহন করেন মোটা অংকের | দীর্ঘ দিন বাইরে থাকার ফলে এসব মূল্যবান সামগ্রী আর জিনিস পত্রের খোজ রাখে না কেউ | লাপাত্তা হওয়া অক্সিজেন সিলিন্ডারের প্রতিটির মূল্য পাঁচ হাজার টাকা এবং নাইটার্স সিলিন্ডার এর দাম প্রতিটি দশ হাজার টাকা | জেলা সিভিল সার্জন ডা. মাহবুবুল হক বলেন, সম্প্রতি সময়ের সিলিন্ডার এ হিসাবে কোন গড় মিল নেই | কিন্তু আগে থেকে হিসেব করলে সিলিন্ডার এর সংখ্যা গড় মিল দেখা যাচ্ছে | বিষয়টি অনেক আগের তাই কাউকে অভিযুক্ত করা যাচ্ছেনা | আর যাতে কোন সিলিন্ডার না হারায় সে বিষয়ে সকল কর্মকর্তা আর কর্মচারীদের সতর্ক করা হয়েছে | প্রসঙ্গত এই হাসপাতালটি ১৯৭০ সালে ৫০ শয্যা নিয়ে যাত্রা শুরু করলে ও, ২০০৩ সালে ৫০-১০০ শয্যায় উন্নিত করা হয় হাসপাতালটি | ১০০ শয্যা হাসপাতালে সরাকারী নীতিমালা অনুযায়ী চিকিৎসক প্রয়োজন ৪২ জন | কিন্তু ৫০ শয্যার হিসেবে হাসপাতালের চিকিৎসকের পদ রয়েছে ১৮ টি | এর মধ্যে চিকিৎসকের নয়টি পদ শূণ্য রয়েছে |

 

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ডটকম/১৬-০২-২০১৬ইং/মইনুল হোসেন