মূল সংবাদে যান
২৪ আগস্ট ২০২৬

শেয়ার করুন

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলবে ১৩ জুন

ডেস্ক রিপোর্ট ৬৫ বার পঠিত ৪ মিনিটের পাঠ

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি আগামী ১২ জুন পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। আজ বুধবার দুপুর ১২টায় এক ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন মন্ত্রী। এ সময় ১৩ জুন থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষানমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি আগামী ১২ জুন পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। ১৩ জুন থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হবে। আমাদের সকল প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নতুন করে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি না হলে সেদিন থেকে শিক্ষার্থীদের সশরীরে উপস্থিতিতে পাঠদান কার্যক্রম শুরু করা হবে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে খুলে দেওয়া নির্ভর করছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সবাইকে করোনা টিকার আওতায় নিয়ে আসার ওপর।’

ডা. দীপু মনি বলেন, ‘যদি ১৩ জুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিতে ২০২১ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থী ব্যাচকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তাদের সপ্তাহের ছয়দিন ক্লাসে আসতে হবে। ২০২২ সালে যারা এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থী তাদেরকেও হয়তো একই সময়ে ক্লাসে নিয়ে আসা হবে। অন্যান্য ক্লাসের ব্যাপারে হয়তো সপ্তাহে একদিন তাদের ক্লাসের নিয়ে আসা হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘স্কুল-কলেজ খোলার ব্যাপারে আমরা বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নিয়েই কাজ করছি। করোনা মোকাবিলায় পরামর্শক কমিটি রয়েছে তাদের সাথে আলোচনা করেই কিন্তু আমরা সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকি। সংক্রমণের হার শতকরা কত শতাংশ নেমে নেমে আসলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেওয়া সম্ভব। এখন আমরা দেখছি ৫ শতাংশ উপরে রয়েছে। আমাদেরকে এসব বিষয় মাথায় রেখে বিজ্ঞানের মধ্য থেকেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়।’

আবাসিক শিক্ষার্থীদের করোনা টিকার আওতায় আনার পর বিশ্ববিদ্যালয় খোলার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘ইতোমধ্যে কতজন শিক্ষক-শিক্ষার্থী টিকা পেয়েছে সে তথ্য ইউজিসির কাছে চেয়েছি। তবে যাদের বয়স চল্লিশের বেশি, বেশিভাগই টিকা গ্রহণ করেছেন বলে আমরা তথ্য পেয়েছি। শিক্ষার্থীদের বয়স ৪০-এর কম তাদেরকে বিশেষ বিবেচনায় টিকা দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী সম্মতি দিয়েছেন। নতুন টিকা আসলেই তারা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা পাবে। এক্ষেত্রে আবাসিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এ সংখ্যাটা যেহেতু বিশাল নয়, তাই দ্রুত ওদেরকে টিকার আওতায় নিয়ে আসতে পারবো। করোনা সংক্রমণ যদি উন্নতি হয় তবে জুনের মধ্যে হয়তো স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়া সম্ভব হবে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপারে পুরোপুরি নির্ভর করতে হবে করোনা টিকার ওপর। অঞ্চলভিত্তিক খুলে দেওয়ার ব্যাপারে অনেকেই মতামত দিচ্ছে এটিও আমাদের মাথায় আছে।’

২০২০ সালের মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহের শুরুতে দেশে করোনাভাইরাস ধরা পড়ে। ৮ মার্চ সংক্রমণ বাড়তে থাকায় দেশে লকডাউন শুরু হয় ২৬ মার্চ থেকে। ফলে বন্ধ হয়ে যায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর থেকে ধাপে ধাপে স্কুল-কলেজ-ইউনিভার্সিটির ছুটি বেড়েছে। এ বছরও ধাপে ধাপে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়ানো হয়। তবে, করোনা পরিস্থিতি চলমান স্বত্ত্বেও স্কুল-কলেজ খুলতে চেয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এ ব্যাপারে শিক্ষাব্যবস্থার সার্বিক পরিস্থিতি ও সরকারের অবস্থান বিষয়ে জানাতে সংবাদ সম্মেলন করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। সেখানেই নতুন ছুটির ঘোষণা দেন তিনি।

এদিকে, যেখানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গার্মেন্টসসহ সব প্রতিষ্ঠান খোলা রয়েছে, সেখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা অযৌক্তিক। তাই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মানববন্ধন করে অবিলম্বে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে ক্লাস ও পরীক্ষা চালুর দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।