“জিয়াউর রহমান স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষক ছিলেন, তিনি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন, দীর্ঘ নয় মাস লড়াই করেছেন বীরোত্তম উপাধি পেয়েছেন এবং পরবর্তীতে এই আধুনিক বাংলাদেশের সত্যিকার অর্থে স্থপতি তিনি ছিলেন। গণতন্ত্রকে পুনরায় ফিরিয়ে এনেছেন।”
“সেই মানুষকে যদি কেউ অন্যভাবে চিহ্নিত করতে চায়, সেটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তাতে জনগণ বিভ্রান্ত হবে না।”
শুক্রবার শেরেবাংলা নগরে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ফখরুল এই প্রতিক্রিয়া জানান।
জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধকালীন ও পরবর্তী কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার খালেদ মোশাররফের মেয়ে সাংসদ মাহজাবিন খালেদ বৃহস্পতিবার সংসদে বলেন, পাকিস্তানের গোয়েন্দা বাহিনী আইএসআই-এর ‘চর’ হিসেবে জিয়া স্বাধীনতা সংগ্রামে অনুপ্রবেশ করেছিলেন।
বাংলাদেশে ক্ষমতা দখলের পর জিয়াউর রহমান দেশকে ‘পাকিস্তানে ফেরাতে চেয়েছিলেন’ অভিযোগ করে মাহজাবিন বলেন, “১৯৭৭ সালে পাকিস্তান সফরে গিয়ে জিয়া পাকিস্তানের সঙ্গে কনফেডারেশন করার ষড়যন্ত্র করেছিলেন।”
তার ওই বক্তব্য নাকচ করে ফখরুল বলেন, “দুর্ভাগ্যজনক হচ্ছে- এই ধরনের কথা-বার্তা বলে তারা মানুষের মূল দাবি যেটা, সমস্যা-সঙ্কট, তা থেকে জনগণের দৃষ্টি দূরে সরিয়ে রাখতে চায়।”
১৯ মার্চ দলের জাতীয় কাউন্সিলের জন্য এখন পর্যন্ত কোনো জায়গার অনুমতি পাননি জানিয়ে এর জন্য সরকারের সমালোচনা করেন বিএনপির এই ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।
“সরকারের দমননীতির কারণে সমগ্র দেশে এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। অনির্বাচিত এই সরকার গণতন্ত্রের মৌলিক অধিকারগুলো যেমন কথা বলার অধিকার, সভা-সমাবেশ করার অধিকার তা ক্রমেই বন্ধ করে দিয়েছে। সভার করার জন্য অনুমতিও পাওয়া যায়নি।”
“আমরা কাউন্সিলের জন্য কয়েকটি জায়গার অনুমতি চেয়েছি। এখন পর্যন্ত সরকারের তরফ থেকে জায়গার বিষয়ে ইতিবাচক কোনো সাড়া আমরা পাইনি। তারপরও আমরা প্রত্যাশা করছি, কাউন্সিলের জন্য জায়গা পাব। আমরা আশা করব সরকারের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে এবং দেশে একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য তারা কাজ করবে,” বলেন মির্জা ফখরুল।
সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকজন শিশু হত্যার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন এই বিএনপি নেতা।
ফখরুল বলেন, “দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে। গত কয়েকদিনে আমি যতটুকু জানি প্রায় ৪০ জন শিশু বোধহয় হত্যা হয়েছে। কী নির্মম নৃশংস! কোনো সভ্য সমাজে শিশুদের এভাবে হত্যা করা এটা প্রমাণ করে বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা কতটা অবনতি হয়েছে।”
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের দলীয় প্রার্থী চূড়ান্তকরণের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমরা আমাদের প্রার্থী চূড়ান্ত করছি, আমরা কাজও করছি এবং সঠিক সময়ে মধ্যেই আমাদের প্রার্থী চূড়ান্ত হবে। তারা নির্বাচনী মাঠে নামবে। যদিও নির্বাচনের অবস্থা সম্পর্কে আমরা আশাবাদী নই।”
সদ্য কারামুক্ত ছাত্রদল সভাপতি রাজিব আহসান, সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসানসহ সংগঠনের নতুন কমিটির নেতাদের নিয়ে সকালে জিয়ার কবরে ফুল দিতে যান ফখরুল।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আমানউল্লাহ আমান, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাজিমউদ্দিন আলম, ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি মামুনুর রশীদ, কেন্দ্রীয় নেতা এজমল হোসেন পাইলট, তারেক-উজ-জামান তারেক, ফয়সল আহমেদ সজল, মামুন বিল্লাহ, ইফতিখার রহমান কবির, আসাদুজ্জামান আসাদ, মিয়া মো. রাসেল, আবদুস সাত্তার পাটোয়ারি এ সময় উপস্থিত ছিলেন।