মূল সংবাদে যান
২৪ আগস্ট ২০২৬

শেয়ার করুন

বরিশালে ১০ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মাঠে বিজিবি

ডেস্ক রিপোর্ট ২৬ বার পঠিত ৪ মিনিটের পাঠ

বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনিবুর রহমানের সরকারি বাসভবনে হামলার ঘটনায় পুলিশের পাশাপাশি বর্ডার ১০ প্লাটুন গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। নগরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্র বলছে, এর মধ্যে ১০ প্লাটুন বিজিবির সদস্য বরিশালের পথে রয়েছে। রাতে তারা বরিশালে পৌঁছাবে। বিজিবির সঙ্গে সার্বক্ষণিক থাকবেন ১০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এ জন্য বরিশালের বাইরের জেলা থেকে ১০ জন ম্যাজিস্ট্রেট চাওয়া হয়েছে। ৮ জন চলে এসেছেন। বাকিরাও আসবেন। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে বরিশালের জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সূত্র জানায়, গতকাল বুধবার রাতে বরিশাল সদরের ইউএনওর বাসভবনে হামলার ঘটনার পর নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে বিজিবি ও অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট চাওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে খুলনা থেকে ১০ প্লাটুন বিজিবি রওনা হয়েছে। এ ছাড়া পিরোজপুর ও পটুয়াখালী থেকে ১০ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসছেন।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) আলী আশরাফ ভূঞা বলেন, ‘ইউএনওর সরকারি বাসভবনে হামলার ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে। একটির বাদী পুলিশ, অপর মামলাটি ইউএনও নিজেই করেছেন। এসব মামলায় এখন পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জড়িত অন্যদের আটক করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

এ বিষয়ে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল ইসলাম বলেন, ‘মামলায় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ৩০ নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।’

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে আছেন মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান মাহমুদ ওরফে বাবু, ত্রাণবিষয়ক সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন ওরফে ফিরোজ, জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি অলিউল্লাহ অলিসহ প্রমুখ।

এদিকে আজ বৃহস্পতিবার বরিশাল সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর বাসভবনে অভিযানের উদ্দেশ্যে গিয়েছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কিন্তু যে আসামির খবরে গিয়েছিল পুলিশ সেরকম কাউকে না পেয়ে পরক্ষণেই ফিরে এসেছে। এ বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল ইসলাম জানান, মূলত ইউএনওর বাসভবনে হামলা ও পুলিশের সরকারি কাজে বাধা দানের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার আসামি গ্রেপ্তারে মেয়রের বাসায় অভিযান চালাতে যায়।

তিনি জানান, তাদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য ছিল যে, তার বাসায় আসামিরা আত্মগোপনে ছিল। এজন্য পুলিশ সেখানে জড়ো হয়েছিল। তবে পরক্ষণে নিশ্চিত হয় সেখানে আসামি নেই। সেখা‌নে গি‌য়ে সেরকম কাউ‌কে পাওয়া যায়‌নি এবং কাউকে সেখান থে‌কে আটকও করা হয়‌নি। ওসি আরও জানান, গতকাল বুধবা‌র রা‌তের ঘটনায় দু‌টি মামলা দায়ের করা হ‌য়ে‌ছে। এ ঘটনায় মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান মাহামুদ বাবু ও রুপাতলী বাস শ্র‌মিক ইউ‌নিয়নের সাধারণ সম্পাদক আহ‌ম্মেদ শাহা‌রিয়ার বাবুসহ ১২ জন‌কে গ্রেপ্তার করা হ‌য়ে‌ছে। দু‌টি মামলার ম‌ধ্যে এক‌টির বাদী ব‌রিশাল সদর উপ‌জেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মু‌নিবুর রহমান এবং অপরটির বাদী পুলিশ।

উপ‌জেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মামলায় তার বাসায় হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ আনা হয়েছে। আর পুলিশের দায়ের করা মামলায় সরকা‌রি কাজে বাধা, পু‌লিশের ওপর আক্রমণ, জনগণকে লা‌ঞ্ছিত ও ভাঙচুর করার অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া দু‌টি মামলায় ৩০ থেকে ৪০ জনের মতো নামধারী এবং কয়েকশত অজ্ঞাত আসমি আছে বলেও জানান ওসি নুরুল ইসলাম।