মূল সংবাদে যান
২৪ আগস্ট ২০২৬

শেয়ার করুন

রওশনের বিরোধিতার মুখেও কাউন্সিলের প্রস্তুতি জাতীয় পার্টির

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ৫৪ বার পঠিত ৫ মিনিটের পাঠ

জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের ও মহাসচিব এবিএম রুহুল আমীন হাওলাদার ইস্যুতে দলটির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ও স্ত্রী রওশন এরশাদের মধ্যে এখনো সমঝোতা হয়নি। এ নিয়ে দুজনের অবস্থান দুই মেরুতে। এরশাদের সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ বিরোধীদলের নেতা। আর সিদ্ধান্ত বদলাতে রাজি নন এরশাদও। এনিয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতির ওপর ক্ষুব্ধ রওশন। সন্তোষজনক সমাধান না হওয়ায় এরশাদের কর্মসূচি বর্জন করছেন সাবেক এই ফার্স্টলেডি। এরই মধ্যেই আগামী ১৬ এপ্রিল ঠিক করা হয়েছে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কাউন্সিল।

 

জানা গেছে, বিরোধীদলের নেতা রওশন এরশাদের বিরোধিতার মুখে নির্ধারিত সময়ে কাউন্সিল করার জোরালো প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতীয় পার্টি। দলের চেয়ারম্যান এরশাদের নির্দেশনায় তার ছোটভাই দলের কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের ও দলের মহাসচিব এবিএম রুহুল আমীন হাওলাদারের নেতৃত্বে চলছে পার্টির এই সম্মেলন প্রস্তুতিপর্ব। তারা যে কোনো মূল্যে নির্ধারিত সময়ে নেতা-কর্মীদের একটি সুন্দর কাউন্সিল উপহার দিতে চান। ১৬ এপ্রিল রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কাউন্সিলের সম্ভাব্য ভেন্যু ঠিক করার চেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যে ভেন্যুর জন্য পুলিশের অনুমতি চাওয়া হয়েছে। অনুমতি পাওয়া গেলে সেখানেই অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় পার্টির জাতীয় সম্মেলন।

 

এ ব্যাপারে দলের মহাসচিব এবিএম রুহুল আমীন হাওলাদার বলেন, ‘পার্টির চেয়ারম্যান পল্লীবন্ধুর নির্দেশনায় ও দলের কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের নেতৃত্বে পার্টির কাউন্সিলের কাজ এগিয়ে চলছে। আমরা ১৬এপ্রিল দেশ ও জাতিকে একটি সুন্দর-সুশৃঙ্খল কাউন্সিল উপহার দেবো। কাউন্সিলের মাধ্যমে গণতান্ত্রিকভাবে জাতীয় পার্টির আগামী দিনের নেতৃত্ব নির্বাচিত হবে। ’

 

জানা গেছে, পার্টির কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের সভাপতিত্বে ৮ মার্চ জাতীয় পার্টির সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি সর্বশেষ সভা রাজধানীর বনানীতে এরশাদের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক ও দলের কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের। উপস্থিত ছিলেন সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব ও দলের মহাসচিব এবিএম রুহুল আমীন হাওলাদার, কমিটির সদস্য ও পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রফেসর দেলোয়ার হোসেন, প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি প্রমুখ। সভায় সম্মেলনের সুন্দর আয়োজন, নেতৃত্ব নির্বাচন, সার্বিক বিষয় নিয়ে  আলোচনা হয়।

 

কমিটির প্রভাবশালী সদস্য অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অনেকদিন পরে জাতীয় পার্টির কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। কাউন্সিলকে ঘিরে নেতা-কর্মীদের মনে নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। আমরা চাই গণতান্ত্রিকভাবে কাউন্সিলরদের মতামতের ভিত্তিতে এমন একটি নেতৃত্ব নির্বাচিত হোক। যে নেতৃত্ব দালালির পথ রুদ্ধ করে জাতীয় পার্টিকে আগামীতে ক্ষমতায় নিয়ে যাবে।’

 

দলীয় সূত্র জানায়, কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের আগেই দেশের অসমাপ্ত জেলা কমিটি সম্মেলনের মাধ্যমে পুনর্গঠন করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের ও মহাসচিব রুহুল আমীন হাওলাদারের উপস্থিতিতে শেরপুর, জামালপুর, পিরোজপুর, বাগেরহাট, নীলফামারী, ব্রাক্ষণবাড়ীয়া, নরসিংদী, মানিকগঞ্জসহ অনেকগুলো জেলা কমিটি সম্মেলনের মাধ্যমে গঠন করা হয়েছে। দলের জেলা কমিটির পাশাপাশি পুনর্গঠন করা হচ্ছে অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনগুলোর কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। ইতিমধ্যে জনপ্রিয় অভিনেতা মাসুদ পারভেজ সোহেল রানাকে আহ্বায়ক করে জাতীয় সাংস্কৃতিক পার্টির নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। জাতীয় শ্রমিক পার্টিতে নেতৃত্বের পরিবর্তন আনা হয়েছে।

 

জানা গেছে, কাউন্সিল সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে গঠনতন্ত্র সংশোধন, বিভিন্ন উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি কাউন্সিলকে সফল করতে রাত দিন কাজ করে যাচ্ছে।

 

জাতীয় পার্টির সর্বশেষ কেন্দ্রীয় কাউন্সিল হয়েছিল এক এগারোর পর। ওই কাউন্সিলে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদকে সরিয়ে ফের দলের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। মহাসচিব করা হয় এবিএম রুহুল আমীন হাওলাদারকে। কিন্তু কোনো প্রকার সম্মেলন ছাড়াই দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর হঠাৎ করে তাকে মহাসচিবের পদ থেকে সরিয়ে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুকে মহাসচিব করেন এরশাদ। ওই সময় তিন দফা ঘোষণা দিয়েও জাতীয় কাউন্সিল করতে ব্যর্থ হন বাবলু। একপর্যায়ে তিন বছর না যেতে না যেতেই দলের কাউন্সিল ছাড়া আবারো মহাসচিব পদে পরিবর্তন আনেন এরশাদ। জিএম কাদেরকে কো-চেয়ারম্যান করার সিদ্ধান্ত অমান্য করে এরশাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণে মহাসচিবের পদ থেকে জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুকে সরিয়ে ফের এবিএম রুহুল আমীন হাওলাদারকে মহাসচিব করেন সাবেক এ রাষ্ট্রপতি। দলের গঠনতন্ত্রেও ৩৯-ধারায় এরশাদ এসব সিদ্ধান্ত নেন।