মূল সংবাদে যান
২৪ আগস্ট ২০২৬

শেয়ার করুন

জাতীয় প্রেসক্লাবে এপিএল প্রকাশিত বইয়ের প্রকাশনা উৎসব

ডেস্ক রিপোর্ট ১২৪ বার পঠিত ৬ মিনিটের পাঠ

দেশের অন্যতম প্রকাশনা সংস্থা “একাডেমিয়া পাব্লিশিং হাউজ লিমিটেড (এপিএল)” কর্তৃক সদ্য প্রকাশিত ড. মোঃ ফোরকান মিয়া রচিত ও অধ্যাপক ড. আবদুল লতিফ মাসুম সম্পাদিত মওলানা ভাসানী ” রাজনীতি, দর্শন ও ধর্ম” বইয়ের প্রকাশনা উৎসব উদ্‌যাপন হয়ে গেল ২ এপ্রিল ২০২২, শনিবার সকাল ১০:০০ টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে।

এপিএলের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ড. এম আব্দুল আজিজের সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও বইটির সম্পাদক ড. আবদুল লতিফ মাসুম, সাপ্তাহিক হক কথার সাবেক সম্পাদক সৈয়দ এরফানুল বারী, বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট নাজমুল হক নান্নু, কবি সাংবাদিক ও গবেষক অধ্যাপক আবদুল হাই শিকদার, সরকারি শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত টিচার্স ট্রেনিং কলেজের অধ্যাপক ও বইটির রচয়িতা ড. মোঃ ফোরকান মিয়া, খাজা ইউনুছ আলী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ট্রেজারার এবং মওলানা ভাসানীর ভ্রাতুস্পুত্র এম এ রশিদ খান সহ বরেণ্য কবি সাহিত্যিক ও লেখক বৃন্দ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরী বলেন, পৃথিবীর এই অঞ্চলের মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসে মওলানা ভাসানী এক অবিস্মরণীয় পিতৃপুরুষের নাম। উপনিবেশিক শৃঙ্খলমুক্তি তথা বৃটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামে যারা ছিলেন শীর্ষস্থানীয় তিনি তাদের একজন। পরবর্তীকালে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ উপনিবেশ বিরোধী স্বাধীনতার আন্দোলনে তিনিই ছিলেন উৎসমূল। মওলানা ভাসানী গ্রাম বাংলার পথে পথে বেড়িয়েছেন। অসহায় মানুষদের দুখ দুর্দশা সচক্ষে দেখেছেন। তার ধর্ম ইসলাম। তিনি ইসলামের মর্মবানীকে রাজনীতিতে প্রবেশ করিয়েছেন। শেখ মজিবকে তিনি পুত্রসম ভাবতেন।

ড. আবদুল লতিফ মাসুম বলেন, বাংলাদেশের সার্থক স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন মাওলানা ভাসানী। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাকে যথাযথ সম্মান করতেন। তার রাজনৈতিক গুরু হিসেবে ভাসানীকে অনেক ভক্তি শ্রদ্ধা করতেন। তিনি আরো বলেন মাওলানা ভাসানী সাম্রাজ্যবাদীদের বিরুদ্ধে জিহাদ করে গেছেন। তিনি মানুষকে কোরআন ও হাদীসকে ব্যাখ্যা করে বুঝাতেন ও নিজে আমল করতেন। পাকভারত উপমহাদেশে ভাসানী মাহাত্যগান্ধীর মতোই অভিসংবাদিত নেতা ছিলেন। তিনি পাকিস্তানী সরকারের শোষনের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। মজলুম জনতার পক্ষে কথা বলতে ও লড়তে গিয়ে তিনি দীর্ঘ ৯ মাস কারাবন্ধী ছিলেন। তার ধর্ম বিশ্বাস ছিল রাজনীতির অন্যতম উপাদান। ধর্মীয় মূল্যবোধকে তিনি রাজনীতিতে নিয়ে এসেছেন। বঙ্গবন্ধু যদি জাতির পিতা হন, তাহলে ভাসানী হলেন জাতির দাদা

সৈয়দ এরফানুল বারী বলেন, ভাসানী এতো বড় কঠিন সত্য যে তাকে বড় করার জন্য মিথ্যা কাহিনী রচনার দরকার পড়েনা। তার সাথে ছিল আমার অন্তরঙ্গ সম্পর্কতা। আমি সবাইকে তার গ্রামের বাড়ি ভ্রমনের আহবান করছি। সেখানে তিন বেলা ফ্রী খাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। তার সম্পর্কে চমকপ্রদ কথা বলা সহজ কিন্ত তাকে ধারণ করা কঠিন। তিনি মসজিদে বাংলা খুতবা দিতেন। সব ইমাম ও খতীবদের বাংলায় খুতবা দেওয়ার আহবান করে গেছেন।

অ্যাডভোকেট নাজমুল হক নান্নু বলেন, অর্থের লোভ ও ক্ষমতার মোহ ত্যাগ করে মানবতাবাদী রাজনীতির জন্য পৃথিবীর ইতিহাসে যে গুটিকয়েক রাজনীতিবিদ স্মরণীয় হয়ে আছেন মওলানা ভাসানী তাদের একজন। এজন্য তাঁর নামের সাথে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়েছিল। ‘মজলুম জননেতা’।

অধ্যাপক কবি আবদুল হাই শিকদার বলেন, তিনি ছিলেন প্রমিথিউসের মতো। সাম্রাজ্যবাদীদের থাবা থেকে দেশ ও জাতিকে উদ্ধারে তিনি ছিলেন সদা তৎপর। তিনি নির্দিষ্ট কোনো পন্থী ছিলেন না, তিনি ছিলেন মানবপন্থী। সবসময় শোষণ বিরুধী ছিলেন। জমিদার বিরুধী আন্দোলন করতে গিয়ে তিনি বহুবাধার মূখে পড়েন। তার রাজনীতি ছিল কৃষক-মজুরের জন্য। তিনি ব্যক্তি জীবনে সরল ছিলেন কিন্তু ভন্ডামির সরল ছিলেননা। ভাসানী আমাদের বড় গাছ, যার তলে সবাই আশ্রয় নিতে পারে।

ড. মোঃ ফোরকান মিয়া বলেন, প্রগতিশীলরা ও ইসলামপন্থীরা তাঁকে ভিন্ন ভিন্ন ভাবে বিশ্লেষণ করেছেন। মূলত প্রগতিশীল রাজনীতি ও ইসলামী রাজনীতি তথা সমাজতন্ত্র ও ইসলামের মধ্যে তিনি কীভাবে সমন্বয় করেছেন তারই একটি বিশ্লেষণ এই গ্রন্থ। এছাড়া তাঁর রাজনৈতিক কর্মপদ্ধতি ও বাস্তবায়ন কৌশল এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে তাঁর অবস্থান নিয়ে যে বিতর্ক আছে তার একটা নির্মোহ পর্যালোচনা সন্নিবেশিত হয়েছে এ গ্রন্থে।

এম এ রশিদ খান মাওলানা ভাসানীকে গান্ধীর সাথে তুলনা করলে ভাসানীকে ছোট করা হবে। ভাসানীর মর্তবা গান্ধীর চেয়ে অনেক উর্ধে। তিনি জাতির স্বার্থের সাথে কখনো বেইমানি করেননি। রাজনীতি ছিল তার কাছে একটি মহৎ কর্মপ্রয়াস। মূখে ও কর্মে তিনি ছিলেন সদা এক। এমন নেতা পাওয়া বর্তমানে খুবই দুষ্কর। তিনি ধর্মভীরু ছিলেন কিন্তু ধর্ম অন্ধ ছিলেননা। মজলুমদের জন্য কাজ করতে গিয়ে তিনি নিজেও মজলুম হয়েছেন। তার জীবনে তিনি ৫০ এর মত পত্রিকা উদ্বোধন করেন। তিনি ছিলেন বিশ্ব নেতা। দেশ ও জাতির স্বার্থে আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। ১০০ এর বেশি আন্দোলনে তিনি নেতৃত্ব দেন। তিনি জাতীয় জীবনের প্রেরণার উৎস।

সভাপতির ভাষণে ড. এম আজিজ বলেন, কাউকে খাটো বা বড় করার জন্য নয় বরং প্রত্যেক জাতীয় ব্যক্তিত্বদের শ্রদ্ধার সাথে নির্মোহ ভাবে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা উচিত। এরই অংশ হিসেবে মওলানা ভাষানীকে নিয়ে এদেশে একাডেমিক চর্চা আরো বাড়ানো দরকার এবং প্রাইমারী থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত তাঁর জীবনী পাঠ্যভুক্ত করা উচিত। পরিশেষে সভাপতি উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষনা করেন।