মূল সংবাদে যান
২৪ আগস্ট ২০২৬

শেয়ার করুন

তাহিরপুরে বাঁধ ভেঙে এরালিয়াকোনো হাওর প্লাবিত

ডেস্ক রিপোর্ট ৬৬ বার পঠিত ৩ মিনিটের পাঠ

পাহাড়ি ঢলের তোড়ে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওর সংলগ্ন এরালিয়াকোনা হাওরের বাঁধ ভেঙে গেছে। এতে হাওরের দেড় শতাধিক একর জমির বোরো ধান তলিয়ে গেছে বলে স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন। ফলে জীবিকা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা। তবে তাহিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাসান উদ দোলা বলছেন, হাওরের ৪ থেকে সাড়ে ৪শ বিঘা জমির ধান পানিতে তলিয়েছে। বাঁধ মেরামতের চেষ্টা চালাচ্ছেন তারা।

সপ্তাহব্যাপী ধরে ভারতের পাহাড়ি ঢল এবং নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় আজ শুক্রবার সকাল থেকে এরালিয়াকোনা হাওরে পানি ঢুকতে থাকে। দুপুর ১টার দিকে বাঁধটি ভেঙে যায়। এ ছাড়াও পানি বাড়ার কারণে হাওরের বাঁধের কয়েকটি স্থান দিয়ে উপচে পানি প্রবেশ করছে।

তাহিরপুর উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের মন্দিয়াতা গ্রামের পাশ দিয়ে ফসল রক্ষা বাঁধ করা হয়েছে। এ হাওরে কয়েক গ্রামের কৃষক বোরো জমি চাষ করেছেন।

মন্দিয়াতা গ্রামের কৃষক ও ইউপি সদস্য সাজিনুর মিয়া বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওর সংলগ্ন গনিয়াকুড়ি, এরালিয়াকোনা, নান্দিয়া, লামারগুল, ফলিয়ার বিল, সন্যাসিসহ ছোট ছোট আটটি হাওর রয়েছে। কিন্তু এসব হাওরের ফসল রক্ষার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো প্রকল্প নেই। স্থানীয় কৃষকদের উদ্যোগেই বাঁধ নির্মাণ করা হয়।

এরালিয়াকোনা হাওরের কৃষক ওয়াহিদ মিয়া বলেন, ‘আমার সারা বছর চলার একমাত্র মাধ্যম বোরো ধান। শুক্রবার সকালে নিমিষেই আমার জমির ধান পানিতে তলিয়ে যায়। আমার সব শেষ হয়ে গেছে।’

কৃষক নুর জামান জানান, চলতি বছর এরালিয়াকোনা হাওরের প্রায় ২০০ একর জমিতে বোরোধান চাষাবাদ হয়েছিল। কোনো কৃষকই ধান কাটতে পারেননি। তাদের দেখার কেউ নেই। পানি উন্নয়ন বোর্ড এখানে বাঁধ দিলে আজ এ পরিণতি হতো না।

বাঁধটি স্থানীয় এলাকাবাসী ও ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তৈরি করা হয়। বাঁধটি বেশি দুর্বল হওয়ার খবর পেয়ে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হান কবির বস্তাসহ অন্যান্য প্রতিরক্ষা সামগ্রী পাঠান। কিন্তু তার আগের বাঁধ ভেঙে পানি হাওরে প্রবেশ করে বলে জানান টাঙ্গুয়ার হাওর ব্যাবস্থাপনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আহমেদ কবির।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হান কবির বলেন, এটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের অংশ না। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্মিত বাঁধগুলো কঠোর নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। এরালিয়াকোনা হাওরে পানি ঢোকার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক বাঁশ ও বস্তা নিয়ে হাজির হলেও পানির চাপ বেশি থাকায় তা রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।