বগুড়ায় ‘অস্ত্র তৈরির কারখানার’ সন্ধান
বগুড়ার কাহালুতে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ। সেখান থেকে এক নলা বন্দুক থেকে আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির বিপুল পরিমাণ যন্ত্রাংশসহ বাবা-ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার রাতে কাহালু উপজেলার মালঞ্চা ইউনিয়নের কলমাশিবা গ্রাম থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন কলমাশিবা গ্রামের নিলু চন্দ্র প্রামানিক (৪৫) এবং নিলুর ছেলে সঞ্জিত চন্দ্র প্রামানিক (২২)।
আজ শনিবার বেলা ১২টায় জেলা পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী তার নিজ কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান।
পুলিশ সুপার বলেন, গত ১৪ এপ্রিল মধ্যরাতে কলমাশিবা গ্রামের একরাম হোসেন সরদার ওরফে বগা (৩২) নামের এক তরুণের দুই পায়ে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনার তদন্তকালে সন্দেহভাজন হিসেবে নিলু ও তার ছেলে সঞ্জিতকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যে নিলুর বাড়ি থেকে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় বিপুল পরিমাণ দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র (একনলা বন্দুক) তৈরির যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার করা যন্ত্রাংশের মধ্যে রয়েছে একনলা বন্দুক তৈরির পাঁচটি ব্যারেল, লোহার তৈরি তিনটি রিকয়েলিং স্প্রিং, ছয়টি ফায়ারিং পিন, স্টিলের তৈরির ছয়টি বন্দুকের ট্রিগার, একনলা বন্দুক তৈরির স্টিলের খাপ পাঁটি, বন্দুক তৈরির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সাইজের ১৯টি লোহার পাত, লোহার তৈরি জং ধরা একটি ব্যারেলের শেষ অংশ, তিনটি লোহার রড, ড্রিল মেশিনের মাথায় ব্যবহৃত চারটি লোহার ফলা, লোহার তৈরি হ্যামার ছয়টি ও চারটি স্টিলের পাত।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র অর্থাৎ একনলা বন্দুক তৈরির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ উদ্ধারের ঘটনায় কাহালু থানার একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অধিকতর তদন্তের স্বার্থে গ্রেপ্তার দুজনকে রিমান্ডে নিতে আদালতে আবেদন জানানো হবে। এছাড়া একরামের দুই পায়ে গুলিবিদ্ধের ঘটনায় কলমাশিবা এলাকার আকরাম হোসেনের ছেলে শামিম হোসেন (৩০) নামের এক তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কাহালু থানার ওসি আমবার হোসেন বলেন, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধের জের ধরে একরাম হোসেন বগার দুই পায়ে গুলি করে শামিম। এলাকায় তাদের পৃথক পৃথক পক্ষ রয়েছে। এই মামলা তদন্ত করতে গিয়ে অস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান পাওয়া যায়। অস্ত্র তৈরির সঙ্গে বিভিন্ন এলাকার আরও কয়েকজন জড়িত রয়েছে।