গুদামে লুকানো সয়াবিন উদ্ধার করে বিক্রি করলেন ইউএনও
ময়মনসিংহের ফুলপুরে গুদাম থেকে সয়াবিন উদ্ধার করে সাধারণ ক্রেতাদের মাঝে বিক্রি করলেন ইউএনও শীতেষ চন্দ্র সরকার।
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সয়াবিন তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে আসছিল। সাধারণ মানুষ বাজারে কোথাও তেল না পেয়ে হাহাকার করছিল। এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ছুটছিল তেলের জন্য। তবে বোতলজাত সয়াবিন তেল এক প্রকার বাজার থেকে উধাও হলেও কিছু দোকানে লুকিয়ে লুকিয়ে বেশি দামে বিক্রি করছিল। সেই সাথে খোলা তেল ২শ থেকে ২২০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছিল। কিন্তু গত দুদিন ধরে বোতল বা খোলা কোন সয়াবিন তেল বাজারে পাওয়া যাচ্ছিল না। এ নিয়ে পত্র-পত্রিকায় ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে তা প্রশাসনের নজরে আসে।
এরপর সোমবার (২ মে) বিকালে সয়াবিন তেল ইস্যু নিয়ে বাজার মনিটরিংয়ে নামেন ফুলপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শীতেষ চন্দ্র সরকারের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত। ভ্রাম্যমান আদালত পৌরসভার আমুয়াকান্দা বাজারে অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন দোকানে লুকিয়ে রাখা সয়াবিন তেলের সন্ধান পেয়ে তা উদ্ধার করেন এবং প্রাথমিকভাবে কোন জরিমানা না করে অসাধু ব্যবসায়ীদের গুদাম থেকে উদ্ধার করা এসব তেল তাৎক্ষণিকভাবে ভোক্তাদের মাঝে বোতলের গায়ে লেখা মূল্য অনুযায়ী বিক্রি করে দেন। প্রায় প্রতিটি দোকানীর গুদামেই সয়াবিন তেলের মজুদ ছিলো।
এরমধ্যে টিকে কোম্পানির ডিলার রহমান ব্রাদার্সের প্রোপ্রাইটর হাজী লুৎফর রহমানের গুদামে সবচেয়ে বেশি সয়াবিন মজুদ ছিল বলে জানান জানা যায়।
ফুলপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শীতেষ চন্দ্র সরকার বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সয়াবিন তেলের সংকট নিয়ে যে খবর বেরিয়েছিল আমরা এর সত্যতা পেয়েছি এবং ব্যবসায়ীদের গুদামে লুকিয়ে রাখা সয়াবিন তেল উদ্ধার করে সাধারণ ক্রেতাদের মাঝে বোতলের গায়ের মূল্য অনুযায়ী তাৎক্ষণিকভাবে বিক্রি করে দিয়েছি। এসময় চলমান সয়াবিন তেলের প্রাপ্তি ও দর নিয়ে যারা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কবার্তা প্রদান করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফুলপুর থানার এসআই তরিকুল ইসলাম, এএসআই আব্দুল হান্নান, এএসআই ফখরুল ইসলাম, কনস্টেবল মাসুদ প্রমুখ।