তনু হত্যার বিচার চাই, বাঁচার মতো বাঁচতে চাই
মো:আশরাফ আলী, স্টাফ রিপোর্টারঃ
আমার মাটি আমার মা, খুনি-ধর্ষকের হবে না। তনু হত্যার বিচার চাই, বাঁচার মতো বাঁচতে চাই।‘’মা টেইলারের কাছ থেকে আমার নতুন জামাটা আজ
নিয়ে আইসো, আমি কাল নতুন জামা পড়ে কলেজযাবো।’’ সোহাগী জাহান তনু’র জন্য দর্জি দিয়ে
বানানো নতুন পোশাকটি কখনোই পড়া হয়নি।তনু ছিলেন (এখন আর নেই) কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া
সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের দ্বিতীয় (সম্মান)
বর্ষের ছাত্রী। কুমিল্লার তিতাস উপজেলার বাসিন্দা
ইয়ার হোসেনের মেয়ে। ইয়ার হোসেন ময়নামতি
সেনানিবাস এলাকায় অলিপুর বালিকা উচ্চ
বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী। অসচ্ছল পরিবারে
বোঝা না হয়ে ছাত্রছাত্রী পড়িয়ে নিজের খরচ চালাত
প্রাণবন্ত উদ্যমী এই মানুষটি।
বাবা ইয়ার হোসেন রাত হয়ে যাওয়ার পরেও তনু বাসায়
ফিরছে না দেখে খুঁজতে বের হন। এ সময় রাস্তায় তিনি
মেয়ের জুতা দেখতে পান। পরে দেখতে পান কিছু দুরে
মেয়েদের চুল ছেড়া অবস্থায় পড়ে আছে এবং একটি
মোবাইলও পড়ে আছে। তারপর জঙ্গলের ভেতর রক্ত ও তনুর
লাশ দেখতে পান। (আমরা তাঁর পবিত্র মৃতদেহের বর্ণনা
দেবোনা)।
ক্যান্টনমেন্টের মতো সুরক্ষিত স্থানে একটি ধর্ষণ ও
হত্যার মতো জঘন্য অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। কোলে
পিঠে করে বড় করা, এক পিতা নিজ কন্যার ধর্ষিত
মৃতদেহ খুঁজে পান। এই বর্ণনার অতীত যন্ত্রণা চিন্তা
করলেও শিউড়ে উঠতে বাধ্য হই আমরা।
অতীত হয়ে যাওয়া মানুষটি’র সাথে ঘটে যাওয়া
অমানবিকতার পরবর্তী পর্বে, আমাদের নির্লিপ্ততা
দাঁড় করায় তাঁর ধর্ষক ও খুনি’র কাতারেই। নীরব সমর্থন
যেন করি এই জঘন্য অপরাধেরই। তাঁর পুরো পরিবারকে
চেপে ধরা হয়েছে যেন গণমাধ্যমের সাথে কথা না বলে।
কারা চেপে ধরেছে ? কেন চেপে ধরেছে ? তারা কি
রক্ত-মাংসের মানুষ ? তারাও কি কারও সন্তান ?
তাদেরও কি সন্তান আছে ?
আমি এক কন্যার পিতা যদিও আমার নাম ইয়ার হোসেন
নয়, তবে, ঈশ্বর জানেন তনু’কে নিজ কন্যার আসনে রেখে
আমি এই ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের বিচার চাইছি। একের পর
এক নৃশংসতায় আমরা হতবাক, কিন্তু প্রতিবাদী নই। কেউ
কি আসবেন প্রতিবাদী হয়ে ? আপনারা কি দাঁড়াবেন
আমার কন্যা’র হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ? নিজ নিজ
অবস্থানে কি চিৎকার করে জানাবেন, ‘তনু’ আমাদেরই
সন্তান অথবা বোন আমরা বিচার চাই।
বিঃদ্রঃ প্রথম সারির সকল গণমাধ্যম এই মৃত্যু’কে এড়িয়ে
ও ধামাচাপা দেয়ার যে অপচেষ্টা আপনারা করলেন,
তাতে আমার কন্যা তনু’র ধর্ষক ও খুনি’র মাঝে আপনাদের
কোন তফাত নেই। থুঃ থুঃ থুঃ ……