৩১৭ কিলোমিটার হেঁটে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে ময়মনসিংহের মোস্তফা
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় শোকের মাসে তার কবর জিয়ারতের জন্য ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে হেঁটে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় পৌঁছেছেন ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর উপজেলার ৭১ বছর বয়সী বৃদ্ধ মো. মোস্তফা।
শুক্রবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে তিনি জাতির পিতার সমাধিতে পৌঁছান। এরপর কিছু সময় বিশ্রাম নিয়ে বঙ্গবন্ধুর সমাধি সৌধ বেদির সামনে দাঁড়িয়ে ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাত করেন। এ সময় তার ছেলে মো. মনিরুজ্জামান সঙ্গে ছিলেন।
গত ৮ আগস্ট বিকেলে ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে হেঁটে টুঙ্গিপাড়ার উদ্দেশে রওনা হন তিনি। বিকেল ৩টার দিকে ফুলপুর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে মহাসড়ক দিয়ে হেঁটে টুঙ্গিপাড়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন তিনি। মঙ্গলবার (৯ আগস্ট) রাত ৯টা পর্যন্ত হেঁটে জেলার ভালুকা উপজেলার ভরাডোবা বাজার পর্যন্ত পৌঁছান। সেখানেই রাতযাপন করেন।
মোস্তফা ফুলপুর উপজেলার পয়ারী ইউনিয়নের সাহাপুর গ্রামের মৃত সোনা মিয়ার ছেলে। তিনি ওই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য।
গত ১০ আগস্ট সকালে মোস্তফা মিয়ার ছেলে মো. মনিরুজ্জামান বলেন, বাবা ফজরের নামাজ পড়ে টুঙ্গিপাড়ার উদ্দেশ্যে ভালুকা থেকে রওনা দেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা থেকেই হেঁটে তার কবর জিয়ারত করতে যাচ্ছেন বাবা।
এলাকায় প্রচার রয়েছে- ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর থেকে আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তফা জুতা পরতেন না। দীর্ঘ ২৫ বছর বছর তিনি জুতা না পরে কাটিয়েছেন। এমনকি তিনি খালি পায়ে বিয়েও করতে গিয়েছিলেন। পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের বিচারের রায় ঘোষিত হলে ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনের পাঁচবারের সংসদ সদস্য ভাষা সৈনিক মরহুম এম শামছুল হক তাকে জুতা কিনে দেন।
বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর পায়ে জুতা পড়া ছেড়ে দিয়েছিলেন ময়মনসিংহের ফুলপুরের বঙ্গবন্ধুপাগল মো. মোস্তফা মিয়া। বিয়ের দিনও তার পায়ে কেউ জুতা পরাতে পারেনি। খালি পায়েই বিয়ের আসরে গিয়েছিলেন তিনি। এবার সেই মোস্তফা আলোচনায় এসেছেন হেঁটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কবর জিয়ারত করতে টুঙ্গিপাড়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করায়। মোস্তফা মিয়া ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার বাসিন্দা। উপজেলার সাহাপুর গ্রামের মৃত সোনা মিয়ার ছেলে তিনি।
এরই মধ্যেই অনেকের মনেই প্রশ্ন জেগেছে, কেন মোস্তফা জুতা পরা ছেড়েছিলেন। সেই উত্তর খুঁজতেই যোগাযোগ করা হয় মোস্তফার ছেলে মনিরুজ্জামানের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমার দাদি বঙ্গবন্ধুর খুব ভক্ত ছিলেন। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর আমার বাবার সঙ্গে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিভিন্ন আলাপ বলছিলেন। দেশ স্বাধীনে বঙ্গবন্ধু অবদান স্মরণ করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন দাদি। এ সময় তার চোখের পানি মাটিতে গড়িয়ে পড়ে। সে সময় বাবাও খুব কষ্ট পেয়েছিলেন। তিনি প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে মাটিতে নিজের মায়ের চোখের পানি পড়েছে সেই মাটিতে আর জুতা পা দিয়েই হাঁটবেন না আমার বাবা। পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচারের রায় ঘোষিত হলে ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনের ৫ বারের নির্বাচিত এমপি ভাষাসৈনিক মরহুম এম শামছুল হক তাকে জুতা কিনে দেন ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতাদের অনুরোধে তিনি জুতা পরেন।