দিনাজপুরে জ্বিনের বাদশা গ্রেপ্তার
দিনাজপুরে এক গৃহবধূর টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে আলমগীর কবির (৩৮) নামে কথিত এক জ্বিনের বাদশাকে গ্রেপ্তার করেছে ফুলবাড়ী থানা পুলিশ। গত শনিবার রাত ৯টার দিকে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কালীতলা বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার আলমগীর গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বিরাহীম গ্রামের আবুল ইসলামের ছেলে।
থানায় দায়ের করা এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৮ নভেম্বর রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ফুলবাড়ীর বেতদীঘি ইউনিয়নের নন্দীগ্রামের বাসিন্দা মোস্তফা কামালের স্ত্রী আমেনা বেগমের মোবাইল ফোনে একটি কল আসে। কলটি আমেনা বেগমের স্বামী মোস্তফা কামাল ধরলে তাকে নামাজ ও কোরআন শরীফ পড়াসহ মসজিদে একটি জায়নামাজ দেওয়ার জন্য বলা হয়।
এ কথা শুনে ভয়ে আমেনা বেগম ওইদিন সকাল ৮টা ২০ মিনিটে ওই নম্বরে ৫৫০ টাকা বিকাশ করে পাঠিয়ে দেন। এরপর ৯ নভেম্বর থেকে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত স্বামী ও সন্তানদের মৃত্যুসহ বিভিন্নভাবে ক্ষয়ক্ষতির ভয় দেখিয়ে বিকাশ নম্বরের মাধ্যমে এক লাখ ৬৩ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন কথিত ওই জ্বিনের বাদশা।
সর্বশেষ গত ১৪ নভেম্বর স্বর্ণের গয়না বিক্রি করে ১৪ হাজার টাকা পাঠান আমেনা বেগম। বিষয়টি আমেনা বেগমের ভাই একরামুল হক জানতে পেরে তাকে নিয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেন। পরে ১৫ নভেম্বর এ ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। ২২ নভেম্বর আমেনা বেগম বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন, যার নম্বর ১২।
মামলার সূত্র ধরে তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে এসআই আরিফসহ ফুলবাড়ী থানার একদল পুলিশ গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কালীতলা বাজার এলাকা থেকে কথিত জ্বিনের বাদশা আলমগীরকে গ্রেপ্তার করে।
প্রতারণার শিকার আমেনা বেগম বলেন, ‘ফোনে অদ্ভুত কণ্ঠে ধর্মীয় কথাবার্তা বলে স্বামী-সন্তানের মৃত্যুর ভয় দেখানো হতো। স্বামী-সন্তানের জীবনের কথা ভেবেই এক লাখ ৬৩ হাজার টাকা দিয়ে ফেলেছি। সর্বশেষ নিজের গয়নাও বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছিলাম। টাকা নেওয়ার পর থেকে ফোন ধরা বন্ধ করে দেয় প্রতারক।’
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জিয়াউর রহমান বলেন, ‘মামলাটি রেকর্ডের পর থেকে কথিত জ্বিনের বাদশাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হয়। সর্বশেষ তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে কথিত জ্বিনের বাদশা আলমগীরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশ্রাফুল ইসলাম বলেন, ‘আমেনা বেগমকে তার স্বামী ও সন্তানের মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে প্রতারকচক্র এক লাখ ৬৩ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। প্রতারক আলমগীরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে খোয়া যাওয়া টাকা উদ্ধারের চেষ্টা করা হচ্ছে।’