মূল সংবাদে যান
২৪ আগস্ট ২০২৬

শেয়ার করুন

বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে পুরো পৃথিবী ধারণাতীত রকমের গরম হয়ে উঠতে পারে

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ৬৫ বার পঠিত ৩ মিনিটের পাঠ

বর্তমান সময়ে বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে পুরো পৃথিবী ধারণাতীত রকমের গরম হয়ে উঠতে পারে বলে জানিয়েছে গবেষকেরা। গবেষণার ফলাফল জানিয়ে একই সাথে সতর্কও করেছেন গবেষকরা।

গবেষকদের ধারণা ছিল পৃথিবীর তাপমাত্রা ২ দশমিক ১ ডিগ্রি থেকে ৪ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে বর্তমান গবেষণায় আর বিচার বিশ্লেষণে তাপমাত্রা কল্পনারো অতীত বাড়তে পারে বলেই ধারনা তাদের ।

ইয়েল ইউনিভার্সিটি ও লরেন্স লিভারমোর ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির গবেষকদের নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণায় এ তথ্য পাওয়া গেছে। চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত সায়েন্স জার্নালে এরকম আশংকার খবর প্রকাশিত হয়েছে। গবেষকদের দাবী , বিশ্বজুড়ে কার্বন ডাই অক্সাইডের উপস্থিতি দ্বিগুণ হওয়ার কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা ভয়াবহ রকমের উষ্ণ হতে পারে।

নাসা ও ডিপার্টমেন্ট অব এনার্জি অফিস অব সাইন্স’র অর্থায়নে এ গবেষণা হয়েছে বলে জানিয়েছে সায়েন্স জার্নাল ।

গবেষণার ফল থেকে ইয়েল ইউনিভার্সিটির গবেষক আইভি টান বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে, জলবায়ুর সংবেদনশীলতা চার ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৫-৫ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়েছে। মেঘমালা ধারণার চেয়ে বেশি উষ্ণ হচ্ছে। এমন অবস্থায় বিশ্বজুড়ে সতর্কতা জরুরী বলেও জানিয়েছেন তিনি ।

অন্যদিকে, বৈশ্বিক উষ্ণতা কমানোর লক্ষ্যে স্যাটেলাইট মাধ্যমে বায়ুমন্ডলে ক্ষতিকর গ্যাস নিঃসরণ পর্যবেক্ষণ করতে বিশ্বের বেশ কয়েকটি মহাকাশ সংস্থা এ সপ্তাহে একটি সমন্বিত পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এর নীচে অর্থাৎ, শিল্প-পূর্ববর্তী সময়ের চেয়েও কমিয়ে আনার লক্ষ্যে বিশ্ব নেতারা এর আগে গত বছর প্যারিসে ঐতিহাসিক বিশ্ব পরিবেশ চুক্তি স্বাক্ষর করেন। এরপর এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যার সর্বশেষ সংযোজন স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ক্ষতিকর গ্যাস নিঃসরণ পর্যবেক্ষণ করা।

গত রবিবার দিল্লিতে আয়োজিত এক সভায় বেশ কয়েকটি মহাকাশ সংস্থার প্রধানরা একটি সমন্বিত পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা তৈরির সিদ্ধান্ত নেন।

ফ্রান্সের ন্যাশনাল স্পেইস স্টাডিজ সেন্টার ‘সিএনইএস’ এর প্রেসিডেন্ট জাঁ-ইভ লি গল বলেন, “বৈশ্বিক উষ্ণতার জন্য দায়ী ক্ষতিকর গ্যাসগুলোর মাত্রা পর্যবেক্ষণ করায় স্যাটেলাইট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আমাদের উদ্দেশ্য কার্বন এবং মিথেন নিঃসরণের মাত্রা জানার লক্ষ্যে বিভিন্ন স্পেইস অ্যাজেনসিগুলোর স্যাটেলাইট প্রকল্পের সমন্বয় ঘটানো।”

বিশ্বের বেশ কিছু দেশ ইতোমধ্যে বায়ুমন্ডলে ক্ষতিকর গ্যাস নিঃসরণের মাত্রা পর্যবেক্ষণ করছে, তবে এর আগে এ কাজে কোন সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় নি।

প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান বিষয়ক ওয়েবসাইট বিপ্রজ ডট কম জানিয়েছে, চীন, ফ্রান্স, ইন্ডিয়া, জাপান এবং অ্যামেরিকার স্পেইস এজেনসিগুলো এবার একসঙ্গে কাজ করবে। এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য বৈশ্বিক নিঃসরণ পর্যবেক্ষণ এবং তার পাশাপাশি প্রতিটি দেশের নিঃসরণ মাত্রা পরিমাপ করা।

গত বছর মেক্সিকোতেও এমন একটি সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে তারা গ্রিনহাউজ গ্যাসের মাত্রা কমানোয় স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করেন।

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ডটকম/09-04-2016/মইনুল হোসেন