মূল সংবাদে যান
২৫ আগস্ট ২০২৬

শেয়ার করুন

রাজশাহীতে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্ঘঘট শুরু

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ৬০ বার পঠিত ৩ মিনিটের পাঠ

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ডেস্কঃ- জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ এনে শনিবার ভোর ৫টা থেকে রাজশাহীতে অনির্দিষ্টকাল পরিবহন ধর্ঘঘট শুরু করেছে পরিবহন শ্রমিকরা। শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ ধর্মঘটের ডাক দেয়া হয়। এদিকে রাজশাহী থেকে দেশের সকল রুটে আকস্মিক যান চলাচল বন্ধ হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

শনিবার ভোরের দিকে লোকজন টার্মিনাল গিয়ে দেখেন শ্রমিকরা ধর্মঘট ডেকেছেন। অনেকে রাজশাহীতে আটকা পড়েছেন যারা বিভিন্ন কাজে এসেছিলেন।

রাজশাহী মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্মসম্পাদক মো. গাজী বলেন, জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাহাতাব উদ্দিনকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারি কমিশনার সুশান্ত কুমার রায় লাঞ্ছিত করেন। এর প্রতিবাদে মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজশাহী বাসস্ট্যান্ডে বিক্ষোভ করেন। এই বিক্ষোভ থেকেই আজ শনিবার ভোর ৫টা থেকে রাজশাহী থেকে দেশের সকল রুটে অনির্দিষ্টকাল পরিবহণ ধর্মঘটের ডাক দেয়া হয়। এই ধর্মঘট শুরু হয়েছে।

এদিকে শ্রমিক ও পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, শ্রমিক নেতা মাহাতাবের ঘনিষ্ঠ টিকাপাড়ার নাসিরুল্লাহ ও খুলিপাড়ার খোরশেদকে টার্মিনাল এলাকায় চলা জুয়ার আসর থেকে শুক্রবার রাত ৯টার দিকে আটক করেন সিটি ডিবির সহকারি কমিশনার সুশান্ত কুমার রায়। এই আটকের খবর পেয়েই মাহাতাব দুই জুয়াড়িকে ছাড়াতে ডিবি কার্যালয়ে ছুটে যান দলবল নিয়ে। এসময় সহকারি কমিশনার সুশান্ত কুমার রায়ের সঙ্গে মাহাতাবের কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ডিবির কর্মকর্তা মাহাতাবকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগ করেন শ্রমিক নেতৃবৃন্দ। এর জের ধরেই অনির্দিষ্টকাল পরিবহন ধর্মঘটের ঘোষণা দেয়া হয়।

তবে এ ব্যাপারে জানতে এসি সুশান্তের সঙ্গে রাতে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

তবে পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, শ্রমিক নেতা মাহাতাবের ছত্রছায়ায় রাজশাহীর সিরোইল বাস টার্মিনাল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একাধিক জুয়ার আসর চলে। শ্রমিক নামধারী কয়েকজন জুয়াড়ি জুয়ার আসর পরিচালনা করে। পুলিশ কাউকে আটক করলেই মাহাতাব মোটর শ্রমিক দাবি করে তাদের ছাড়ানোর চেষ্টা করেন। এর আগেও এই ধরনের একাধিক জুয়াড়িকে মাহাতাব পুলিশের কাছ থেকে চাপ দিয়ে ছাড়িয়ে নিতে সক্ষম হয়।

আরএমপির একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, শ্রমিক নেতা মহাতাবের দৌরাত্ম চরমে। টার্মিনাল এলাকায় তারই ছত্রছায়ায় মাদক বিক্রি থেকে জুয়ার আসর চলে অবাধে। আর পুলিশ কাউকে ধরলেই জনসাধারণকে জিম্মি করে পরিবহন ধর্মঘট ডেকে বসে।

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ডটকম/23-04-2016/মইনুল হোসেন