ক্ষীণ দৃষ্টিশক্তি নিয়ে অসুখ বিসুখে আক্রান্ত হয়ে অর্ধাহারে অনাহারে বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব মোঃ নুরুল ইসলাম
মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ডটকম,
নিজস্ব প্রতিবেদক (এস কে শাহিন নবাব) : বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব মোঃ নুরুল ইসলামের জন্ম ১০ মে, ১৯৪৭। যুদ্ধ যখন শুরু হয় তখন তার বয়স ছিল প্রায় ২৪ বছর। অবিবাহিত টগবগে তরুন নুরুল ইসলাম ১৯৭১ সালে দেশ মাতৃকার টানে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।
১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহনের উদ্দেশ্যে সিলেট হয়ে ভারতের বাঘমারা এলাকার ট্রেনিং ক্যাম্পে ২৮ দিনের ট্রেনিং সম্পন্ন করে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করে। সেক্টর কমান্ডার কর্নেল তাহেরের অধীনে তিনি দেশ স্বাধীন হওয়ার আগ পর্যন্ত যুদ্ধ করে যান। তার যুদ্ধক্ষেত্র ছিল মূলত কিশোরগঞ্জ জেলা সদর (তৎকালীন কিশোরগঞ্জ মহকুমা) , করিমগঞ্জ, পাকুন্দিয়া, হোসেনপুর এবং ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল থানা।
অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে তিনিও পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর সাথে সম্মুখ সমরে অবতীর্ন হন। গাংগাটিয়ার তৎকালীন জমিদার মানবেন্দ্র নাথ চক্রবর্তী চৌধুরীর বাড়ীর অস্থায়ী ক্যাম্পে তিনি সহ অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধারা দীর্ঘসময় অবস্থান করেন।
যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর নুরুল ইসলাম নিজ গ্রাম বেরুয়াইল, খলাপাড়া (কিশোরগঞ্জ সদর) গ্রামে ফিরে আসেন। তার মুক্তিযোদ্ধা সনদ নং – ১০৮৫০, আইডি নং – ০৩০৫০১০০৫৬, মুক্তিবার্তা নং – ০১১৭০১০০৮৬। যুদ্ধ থেকে ফেরার পর তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বর্তমানে তার ৩ মেয়ে ২ ছেলের মধ্যে বড় ৩ মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। ছেলেরা বর্তমানে কলেজে ও স্কুলে পড়াশোনা করছে।
মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম ১৯৯৬ সন থেকে সরকারী ভাতা পেয়ে আসছেন। ১৯৯৬ সনের আগে তিনি কোন প্রকার সরকারী ভাতা পাননি। বর্তমানে চরম অর্থনৈতিক দুরবস্থার মধ্য দিয়ে তার দিন চলছে। ক্ষীণ দৃষ্টিশক্তি নিয়ে অসুখ বিসুখে আক্রান্ত হয়ে অর্ধাহারে অনাহারে তার দিন যাচ্ছে। ছেলেমেয়েদের পড়াশুনা এবং বিয়ের জন্য তিনি তার সমস্ত চাষাবাদের জমি বিক্রি করে দিয়েছেন। বর্তমানে ধার দেনা করে তিনি তার সংসার চালাচ্ছেন। তার সম্পদ বলতে এখন শুধুমাত্র তার বসতবাড়িটিই সম্বল। এমতাবস্থায় সরকারী পর্যায়ে তিনি যদি সাহায্য সহযোগিতা পান তাহলে তিনি তার ছেলেদের পড়াশুনা শেষ করতে পারবেন। তিনি তার ২ মেধাবী ছেলের চাকুরীর জন্য সরকার বরাবর আকুল আবেদন করেন।
মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ডটকমের এই প্রতিবেদক যখন তার কাছে যান এবং নিজের পরিচয় দেন তখন তিনি ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ -ধ্বনী দিয়ে তাকে সাদর আমন্ত্রণ জানান। দেশকে শত্রুমুক্ত করার জন্য তিনি সেইসময় যে ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন সেই ত্যাগের স্বার্থকতা আমরা পেতাম যদি আমরা সুস্থ সবল জীবনে সফল একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলামকে দেখতাম।
কিন্তু বাস্তবে তা কিন্তু হয়নি। তার দুঃখ হলো (সেই সাথে আমাদের সবারও) স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় যারা সরাসরি দেশবিরোধী হিসাবে রাজাকার -আলবদরের খাতায় নাম তারা প্রত্যেকেই যার যার অবস্থান থেকে জীবনে সফল হয়েছেন। তার মত যত মুক্তিযোদ্ধা আছে তাদের সবারই বর্তমানে করুণ অবস্থা। অর্থনৈতিক, শারীরিক, মানসিক সবদিক থেকে থেকেই তারা ক্লান্ত বিধ্বস্থ।
বর্তমানে নুরুল ইসলাম শুধু সরকার বরাবরে দাবী করেন তার সন্তানদের যেন সরকারীভাবে কোন চাকুরী বা অন্য কোন কর্ম দিয়ে সহায়তা করা হয় তবেই তিনি হাসিমুখে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কাটিয়ে দিবেন। তার আর কোন চাওয়া নেই বলে তিনি জানান।
মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ডটকম/০৫-০৬-২০১৬ইং/ অর্থ