যশোরের অভয়নগর গ্রামে সেপটিক ট্যাঙ্কে পড়ে দুই ভাইয়ের মৃত্যু
মুক্তিযোদ্ধের কণ্ঠ ডেস্কঃ যশোরের অভয়নগর উপজেলার পায়রা ইউনিয়নের বারান্দী গ্রামে সেপটিক ট্যাঙ্কে পড়ে দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে।
নিহতরা হলেন- হানেছ মুন্সীর ছেলে রমজান আলী (৪৫) ও ওমর আলীর ছেলে হাসান আলী মোল্লা (৩৮)। তারা সম্পর্কে চাচাত ভাই।
একটি মোবাইল ফোনের চার্জার খুঁজতে গিয়ে মঙ্গলবার বিকেলে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনায় অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন রমজানের আরেক চাচতো ভাই জহুরুল ইসলাম (৩০) ও রমজানের স্ত্রী রোজিনা (৩২)। একই পরিবারের দুজনের মৃত্যু ও দুজন অসুস্থ হওয়ায় ওই এলাকায় মাতম চলছে।
পায়রা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফিরোজ আলম জানান, মঙ্গলবার ভোরে রমজান আলীর ছোট ছেলে মোবাইল ফোনের চার্জার নিয়ে বাথরুমে যায় এবং সেখানে সেটি হারিয়ে ফেলে। এদিন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রমজান চার্জারটি খুঁজতে সেখানে যান। এক পর্যায়ে সেফটিক ট্যাঙ্কের উপরের অংশ ভেঙে নিচে পড়ে যান। রমজানকে উদ্ধার করতে গিয়ে তার স্ত্রী রোজিনা (৩২) ট্যাঙ্কের মধ্যে পড়ে যান। এরপর ছেলের চিৎকারে রমজানের চাচাতো ভাই হাসান আলী মোল্লা (৩৫) ও জহুরুল ইসলাম (৩০) ট্যাঙ্কির মধ্যে থেকে রমজান ও রোজিনাকে উদ্ধারের চেষ্টা করে। কিন্তু তারাও ট্যাঙ্কির মধ্যে পড়ে যায়। এ সময় গ্রামের লোকজন এগিয়ে এসে সেপটিক ট্যাঙ্কের গ্যাস থেকে তাদের বাঁচাতে হাত পাখার বাতাস দিয়ে তাদের অক্সিজেন সরবরাহের চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে কয়েকজন ভেতরে নেমে তাদের উদ্ধার করেন। প্রতিবেশীদের সহায়তায় প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় চারজনকে উদ্ধার করা হয়। পরে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনলে রমজান আলীকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। অপর তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসান মোল্লা মারা যান। চিকিৎসকরা জানান, ল্যাট্রিনের সেপটিক ট্যাঙ্কে বিষাক্ত গ্যাসের কারণে তাদের মৃত্যু হতে পারে।
মুক্তিযোদ্ধের কণ্ঠ ডটকম/ ০৭-০৬-২০১৬ ইং/ মোঃ হাছিব