দেশের সব গুপ্তহত্যায় বিএনপি-জামাতের কর্মীদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে
মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ডেস্কঃ গত কয়েক মাস ধরে দেশে যেসব গুপ্তহত্যা হয়েছে তার সঙ্গে বিএনপি ও জামায়াত কর্মীদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। সরকারের কাছে ওইসব অভিযুক্ত ব্যক্তিদের জড়িত থাকার বিষয়ে যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ রয়েছে।
বুধবার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সম্প্রতি বুলগেরিয়া, জাপান ও সৌদি আরব সফর সম্পর্কে গণমাধ্যমকে জানানোর জন্যই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
এসব সফর থেকে দেশের অর্জনের বিষয়ে উল্লেখ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী সাম্প্রতিক আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশেষ করে নিরপরাধ লোকদের টার্গেটেড হত্যাকা- নিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ এম মাহমুদ আলী, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম ও প্রধানমন্ত্রীর মিডিয়া উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে বিএনপি ও জামায়াতকে অভিযুক্ত করে এ পর্যন্ত দেয়া সরকারের বক্তব্যকে পক্ষপাতদুষ্ট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করছে অনেকে। এ দাবি নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন, যারা এ দুটি দলকে রক্ষা করতে চায় এবং তাদের দুষ্কর্ম ঢাকতে চায় তারাই এসব কথা বলছে।
শেখ হাসিনা বলেন, সকল ক্লু, হত্যাকাণ্ডের ধরন এবং গ্রেপ্তরকৃতদের পরিচয় থেকে বোঝা যাচ্ছে এদের কোন না কোনভাবে জামায়াত ও বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে। এই জঘন্য ঘটনার সঙ্গে কোন জঙ্গি এবং সন্ত্রাসীর জড়িত থাকা সম্পর্কে কারো কাছে কোন তথ্য থাকলে তাদের নাম-ঠিকানা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে পারেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি ও জামায়াতের মদদে বাংলাদেশে জঙ্গিদের মাথা তুলে দাঁড়ানোর ঘটনা কেউ ভুলে যেতে পারে না। তাদের শাসনামলে পুলিশি প্রহরায় জঙ্গিরা মিছিল করেছে এবং দু’টি দলই যুদ্ধাপরাধী ও বঙ্গবন্ধুর খুনিদের সুরক্ষা দিয়েছে। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা, আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যাকাণ্ড, এসএএমএস কিবরিয়া হত্যাকাণ্ড এবং কোটালীপাড়ায় বোম হামলার প্রতিটি ঘটনার সঙ্গে বিএনপি জামায়াতের সম্পর্ক রয়েছে। সুতরাং সম্প্রতিক জঙ্গিবাদি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাদের কোন সম্পর্ক নেই, তার কি যুক্তি আছে?
প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রে সজিব ওয়াজেদ জয়কে হত্যার জন্য বিএনপির ষড়যন্ত্রের উল্লেখ করে বলেন, এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে বিএনপির দু’জন শীর্ষ বুদ্ধিজীবী জড়িত রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা এই রহস্য উদঘাটন করেছে। ফলে গুপ্ত হত্যাকাণ্ডের সাথে তাদের জড়িত থাকার অভিযোগ আমরা পেলে এতে কি ভুল হয়।
তিনি বলেন, সরকার প্রধান হিসেবে এ সব গুপ্তহত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাদের জড়িত থাকার বিষয়ে আমার কাছে তথ্য আছে এবং আমরা কোন তথ্য ছাড়া কিছু বলতে পারি না। তদন্তের স্বার্থে সরকার এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে পারে না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গুপ্তহত্যার সাথে বিএনপি জামায়াতের সম্পর্ক যারা খুঁজে পায় না, তারা জঙ্গিদের রক্ষা করছে এবং তাদের কর্মকাণ্ড উৎসাহিত করছে।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, যারা দেশের অগ্রগতি চায় না, তারাই এখন টার্গেট কিলিং চালাচ্ছে।
এ হত্যাকাণ্ডের ধরন দেখেই বলা যায়, কারা এ হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে। তারা এমনভাবে সফট টার্গেট কিলিং করছে, যেন বিশ্ববাসী এ নিয়ে কথা বলে। যারা দেশের অগ্রগতি চায় না, তারাই আসলে এ হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে।
শেখ হাসিনা জানান, সরকারও বসে নেই। হত্যাকারীদের ধরতে গোয়েন্দা সংস্থা ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে।
শেখ হাসিনা সাফ জানিয়ে দেন, বাংলাদেশে কখনোই জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটতে দেয়া হবে না।
প্রধানমন্ত্রী সবশেষ সৌদি আরব সফর শেষ করে গতকাল মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে দেশে ফেরেন। গত ৩ জুন সৌদি আরবের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়ে যান তিনি। সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদের বিশেষ আমন্ত্রণে ৩ জুন থেকে ৭ জুন পর্যন্ত সৌদি আরব সফরে প্রধানমন্ত্রী ওমরাহ পালন করেন এবং মদীনায় রাসুলের (সা.) রওজা জিয়ারত করেন।
এর আগে গত ২৬-২৯ মে জাপান সফর করেন প্রধানমন্ত্রী। শিল্পোন্নত দেশগুলোর জি-৭ সম্মেলনের আউটরিচ বৈঠকে অংশ গ্রহণের জন্যই ছিল তাঁর এই সফর।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, গত ১৮ থেকে ২২ মে গ্লোবাল উইমেন লিডারস ফোরামে অংশ নিতে বুলগেরিয়া সফর করেন।
সূত্র: বাসস