মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডেস্কঃ
জঙ্গি দমনে সারাদেশে চলমান ‘সাঁড়াশি’ অভিযানে এ পর্যন্ত যে আট হাজার লোককে গ্রেপ্তারের তথ্য পুলিশ দিয়েছে, তাদের মধ্যে অন্তত ২ হাজার ১০০ জন বিএনপির নেতা-কর্মী রয়েছেন বলে দাবি করেছেন দলটির নেতা রুহুল কবির রিজভী
সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, “দেশে উগ্রবাদীদের হত্যাকাণ্ড নিয়ে এই কয়েকদিনের অভিযানে যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, এর মধ্যে ২১ শ’র অধিক বিএনপির গ্রাম-থানা-ইউনিয়ন পর্যায়ে নেতা-কর্মীও রয়েছেন। এখন পর্যন্ত আমরা কয়েকটি জেলার খবর পাইনি, সেগুলোর খবর পেলে গ্রেপ্তারের সংখ্যা আরও বেড়ে যাবে।”
গত এক বছরে একের পর এক ব্লগার, লেখক, ধর্মীয় সংখ্যালঘু খুন হওয়ার পর চট্টগ্রামে একজন পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী খুন হলে ৯ জুন পুলিশের এই এক সপ্তাহের ‘সাঁড়াশি অভিযানের’ ঘোষণা আসে।
বিএনপি শুরু থেকেই বলে আসছিল, পুলিশের এই ‘সাঁড়াশি’ অভিযান আসলে ‘সরকারবিরোধী ওপর দমন-পীড়ান চালানোর কৌশল’।
শুক্রবার ভোর থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানের প্রথম তিন দিনে মোট আট হাজার ১৯২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ১১৯ জন সন্দেহভাজন জঙ্গি সদস্য বলে পুলিশের ভাষ্য।
বাকিরা বিভিন্ন মামলায় পরোয়ানাভুক্ত আসামি বলে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে। তবে তাদের রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে কোনো তথ্য পুলিশ দেয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে রিজভী অভিযোগ করেন, এই অভিযানে ‘অসংখ্য নিরীহ ও সাধারণ মানুষকে’ গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। পুলিশ মূল জঙ্গিদের ‘এখনো চিহ্নিতই করতে পারেনি’।
“সরকার জঙ্গিদের আটক ও তাদের গুপ্ত আস্তানা ধ্বংস করার পরিবর্তে সাধারণ মানুষকে পুলিশি নির্যাতনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্য একটাই- ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ড বন্ধ নয়, গণতান্ত্রিক আন্দোলন যাতে গড়ে না ওঠে- সেজন্য নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।”
নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, পুলিশ একদিকে তৃণমূল থেকে অভিযান চালাচ্ছে, অন্যদিকে তার দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতাদের ওপর ‘চাপ’ দেওয়া হচ্ছে।
“সাদা পোশাকধারীরা নেতাদের বাসার সামনে দাঁড়িয়ে আছে, নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করছে। সরকারের ভীতিটা হচ্ছে… তাদের (সরকার) অবৈধ সত্ত্বা, তারা যে অন্যায়ভাবে ক্ষমতা দখল করে আছে, এরজন্য গণতান্ত্রিক আন্দোলন গড়ে উঠবে, এটা দমন করতেই এ গ্রেপ্তার অভিযান।”
যাদের গ্রেপ্তারের কথা বলা হচ্ছে, তাদের মুক্তির জন্য বিএনপি কী করবে জানতে চাইলে রিজভী বলেন, “স্থানীয় পর্যায়ে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের লিগ্যাল এইড কমিটি এ ব্যাপারে কাজ করছে। ওই কমিটি তাদের সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। যারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন, তা আমরাও সংশ্লিষ্ট কমিটিকে বলছি।”
অভিযানের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, “স্বয়ং মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানসহ সুধী সমাজ এই অভিযানে পুলিশের গ্রেপ্তার বাণিজ্যের নিন্দা জানিয়েছেন। একদলীয় সরকার নিজেদের স্বার্থে কোনো আইনকে তোয়াক্কা করে না। সেজন্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছাড়া গ্রেপ্তার না করতে উচ্চ আদালতের নির্দেশনাকে সরকার ধৃষ্টতার সাথে অগ্রাহ্য করে চলেছে। এরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে উর্দিপরা ক্রিমিনালে পরিণত করেছে।”
আওয়ামী লীগের ‘সন্ত্রাসীরা’ রোববার জয়পুরহাটের নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান এ কে আজাদ এবং হবিগঞ্জে দুইজনসহ সারাদেশে মোট ১৬ জনকে ‘হত্যা করেছে’ বলে অভিযোগ করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব।
তিনি বলেন, “সরকার কোনো কিছুতে ভ্রুক্ষেপ করছে না। এতো ঘটনা হচ্ছে, এতো রক্তপাত… প্রতিদিন একটার পর একটা একই কায়দায় খুন হচ্ছে, কিন্ত একেকজন মন্ত্রী একেক রকম কথা বলছেন।… নো ওয়ান ইন দ্য করিডোর অব পাওয়ার ইজ ওরিড। উনারা কেউ ওরিড না। এটা নিয়ে উনারা তামাশা করছেন, উনার খেলা করছেন।”
অন্যদের মধ্যে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মজিবুর রহমান সারোয়ার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস শিরিন, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, মাহবুবুল হক নান্নু, কেন্দ্রীয় নেতা আসাদুল করীম শাহিন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহসভাপতি মুনির হোসেন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/ ১৩ -০৬-২০১৬ ইং/মো: হাছিবুর রহমান