মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডেস্কঃ সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানানোর সঙ্গে হাসানুল হক ইনুর সমালোচনাও করেছেন জাসদের অন্য অংশের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া ও নাজমুল হক প্রধান।
বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্র তৈরির জন্য জাসদকে দায়ী করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আশরাফের বক্তব্য নিয়ে মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এই প্রতিক্রিয়া জানান এই দুই নেতা।
কয়েক মাস আগে কাউন্সিলের পর ইনু নেতৃত্বাধীন জাসদ থেকে আলাদা হওয়া এই অংশটির বিবৃতিতে বলা হয়, মন্ত্রী বিশেষের ‘অতি চাটুকারিতার জন্য’ তাবৎ জাসদ সংগঠন ও নেতা-কর্মীদের উপর আঙুল তোলা ‘অযৌক্তিক’।
সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের এক সভায় পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্র তৈরির জন্য জাসদকে দায়ী করে আশরাফ বলেন, এ দল থেকে মন্ত্রী বানানোর জন্য আওয়ামী লীগকে ‘আজীবন প্রায়শ্চিত্ত’ করতে হবে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ছাত্রলীগের বিভক্তি থেকে আওয়ামী লীগের একটি অংশ বেরিয়ে জাসদ গঠন করে বঙ্গবন্ধু সরকারের বিরোধিতায় নেমেছিল।
জাসদ পরে আওয়ামী লীগে নেতৃত্বাধীন জোটে আসে। ১৯৯৬ সালে আ স ম আবদুর রবের পর শেখ হাসিনার এবারের সরকারে মন্ত্রী করা হয় ইনুকে।
তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা ইনুকে নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর পাশাপাশি আওয়ামী লীগের অনেক নেতার সমালোচনা রয়েছে।
ইনুকে নিয়ে সাবেক রাজনৈতিক সহকর্মী আম্বিয়া ও প্রধানের বিবৃতিতে নাম উল্লেখ না করে বলা হয়, “সরকারের মন্ত্রী বিশেষের ভূমিকা, অতি চাটুকারিতা নিয়ে জাসদকর্মীরা এমনিতেই বিব্রত।
“উক্ত মন্ত্রীর ওই লজ্জাজনক ভূমিকার কারণে সরকার, আশরাফ সাহেব ও তাদের সহকর্মীরা বিরক্ত, বিব্রত, বিক্ষুব্ধ এবং উত্যক্ত বোধ করলে তারা তো তা সমাধান করতেই পারেন, সে জন্য তাবৎ জাসদ সংগঠন, নেতা ও কর্মীদের ওপর আঙুল তোলা তো অযৌক্তিক এবং দুঃখজনক।”
আওয়ামী লীগের সঙ্গে দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক মিত্রতার ইতিহাস তুলে ধরে আম্বিয়া ও প্রধানের বিবৃতিতে বলা হয়, “যে কথা আশরাফ সাহেব উল্লেখ করেছেন তা আমাদের বিস্মিত করেছে।
“১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে। জাসদসহ সকলের ভুল-ভ্রান্তি নিয়ে কথা বলা যেতে পারে। কিন্তু স্মরণ করা উচিৎ, আমরা আওয়ামী লীগের সঙ্গে ১০ দলীয়, ১৫ দলীয় জোট গঠন করে ইতোপূর্বে সামরিক শাসকদের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক সংগ্রাম করেছি।”
কয়েক মাস আগে দ্বিধাবিভক্ত জাসদের দুই অংশই আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটে সক্রিয় রয়েছে।
আশরাফের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইনু নেতৃত্বাধীন অংশের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আক্তার বলেছেন, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের মন্তব্যে ঐক্য বিনষ্ট হবে।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আশরাফের ওই বক্তব্য তার ব্যক্তিগত মত, দলীয় অবস্থান নয়।
আশরাফের এই বক্তব্য ‘অসময়োচিত’ মন্তব্য করে আম্বিয়া ও প্রধানের বিবৃতিতে বলা হয়, “ঢালাও বক্তব্য দিয়ে তিনি যেসব বিতর্ক পুনরুজ্জীবিত করেছেন, তাকে আমরা অসময়োচিত এবং প্রকৃত সত্যকে আড়াল করার সামিল বলে মনে করি।
“বঙ্গবন্ধুকে খন্দকার মোশতাকের নেতৃত্বে এবং কোন কোন আওয়ামী নেতার মদদ নিয়ে হত্যা করা হয়েছিল, তা নতুন করে জনগণকে জানানোর কিছু আছে বলে আমরা মনে করি না।”
“তার এ বক্তব্য অসময়োচিত, বিভ্রান্তিকর এবং জাসদকর্মীদের জন্য বিব্রতকর। বঙ্গবন্ধু দেশে ফেরার আগে জাসদপন্থিরা দেশকে ছিন্ন ভিন্ন করে ফেলার যে অভিযোগ উত্থাপন করেছেন, তা একান্তই কাল্পনিক এবং অসত্য।”
আওয়ামী লীগের কিছু নেতা নিজেদের ‘রাজনৈতিক অক্ষমতা’ ঢাকার জন্য জাসদের ভুলত্রুটি খোঁজার চেষ্টা করে থাকেন বলে মন্তব্য করেন এই দুই নেতা।
গত বছর আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমও জাসদকে নিয়ে একই বক্তব্য দিলে তার সঙ্গে সুর মিলিয়েছিলেন আরও কয়েকজন নেতা।
জাসদের বিভক্তিতে আম্বিয়া-প্রধানের সঙ্গে থাকা মইন উদ্দিন খান বাদল ওই সময়ে বিতর্ক ওঠার পর বলেছিলেন, তারা ১৯৭২-৭৫ সালের ভুলের ‘কাফফারা’ দিচ্ছেন এখন।
এই মুহূর্তে ঐক্য ধরে রাখার উপর গুরুত্ব দিলেও জোটের বড় দল আওয়ামী লীগকে হুঁশিয়ার করে আম্বিয়া ও প্রধান বলেছেন, প্রয়োজনে যে কোনো পরিস্থিতিতে জাসদ ‘একলা’ চলতে পারে।