মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডেস্কঃ সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শুকদেব রায় জানান, ফাহিমকে শুক্রবার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে হাজির করে ১৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয় পুলিশের পক্ষ থেকে।
শুনানি শেষে বিচারক মো. সাইদুর রহমান ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়ে ফাহিমকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।
গত বুধবার বিকালে সরকারি নাজিমউদ্দিন কলেজের গণিত বিভাগের প্রভাষক রিপন চক্রবর্তীকে জঙ্গি কায়দায় কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করে কয়েকজন যুবক।
তারা শহরের কলেজ গেইট এলাকায় রিপনের বাসার কড়া নেড়ে ঘরে ঢোকে এবং এরপর চাপাতি দিয়ে মাথা ও ঘাড়ে আঘাত করে বলে পুলিশের তথ্য।
রিপনের চিৎকারে আশপাশের মানুষ এগিয়ে এসে ফাহিমকে আটক করে। আহত শিক্ষককে প্রথমে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে এবং পরে সেখান থেকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ওই ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে মাদারীপুর সদর থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে একটি মামলা করেন এস আই আইয়ুব আলী। তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় একই থানার এসআই বারেক করিম হাওলাদারকে।
থানার ওসি জিয়াউল মোরশেদ জানান, ফাহিম প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাচেষ্টায় জড়িত আরও পাঁচজনের নাম বলেন। ওই ছয়জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয় মামলার এজাহারে।
ঘটনাস্থল থেকে আটক গোলাম ফাইজুল্লাহ ফাহিমছাড়া বাকি পাঁচজন হলেন সালমান তাসকিন, শাহরিয়ার হাসান, জাহিন, রায়হান ও মেজবাহ।ওসি বলেন, “ফাহিম নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত। দেশের দক্ষিণাঞ্চলে জঙ্গি কর্মকাণ্ড বিস্তৃত করার পরিকল্পনা নিয়ে মাদারীপুরে প্রথম হামলা চালায় তারা।”
১৮ বছরের ফাহিম উত্তরা হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তবে রসায়ন বিজ্ঞানের পরীক্ষা না দিয়েই সে ১১ জুন সকালে ঢাকার দক্ষিণ খানের বাসা থেকে নিরুদ্দেশ হয়।
একদিন পর ফাহিম তার বাবার মোবাইল ফোনে এসএমএস করে বলে, “বিদেশ চলে গেলাম, এছাড়া কোনো উপায় ছিল না। বেঁচে থাকলে আবারও দেখা হবে।”
বিষয়টি জানিয়ে ফাহিমের বাবা গোলাম ফারুক দক্ষিণ খান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এরপর বুধবার মাদারীপুরে ছেলের গ্রেপ্তার হওয়ার খবর পান তিনি।
মাদারীপুর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক কামরুল হাসানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল বৃহস্পতিবার বরিশালের হাসপাতালে গিয়ে আহত শিক্ষক রিপন চক্রবর্তীর জবানবন্দি শোনেন। তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও তারা কথা বলেন।
পরে পরিদর্শক কামরুল সাংবাদিকদের বলেন, “গভীরভাবে তদন্ত চলছে। খুব শিগগিরই ফলাফল পাওয়া যাবে।”
‘তদন্তের স্বার্থে’ এর বেশি কিছু বলতে তিনি রাজি না হলেও গোয়েন্দা পুলিশের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠন হিযবুত তাহরীরের সঙ্গে ফাহিমের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পেয়েছেন তারা।
“কলেজের এক বড় ভাই তাকে ওই পথে এনেছে। ঢাকার ওই কলেজের সামনে এক লাইব্রেরিতে প্রায়ই তারা বৈঠক করত। ঘটনার দিনই ফাহিম মাদারীপুরে আসে এবং শিক্ষক রিপন চক্রবর্তীকে অনুসরণ শুরু করে।”
মাদারীপুরের শিক্ষক রিপন চক্রবর্তীর উপর যেভাবে হামলা হয়েছে, ঠিক একই কায়দায় হামলায় গত এক বছরে লেখক, প্রকাশক, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট, অধ্যাপক ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু পুরোহিত-যাজক-ভিক্ষুরা খুন হয়েছেন।
রিপনের সঙ্গে কারও শত্রুতা না থাকা এবং হামলার ধরন দেখে এটাকেও ‘টার্গেট কিলিং’য়ের চেষ্টা মনে করছেন গোয়েন্দারা।
মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/ ১৭ -০৬-২০১৬ ইং/মো: হাছিবুর রহমান