মূল সংবাদে যান
২৪ আগস্ট ২০২৬

শেয়ার করুন

যশোরে ৬৯ বছর পর কালাজ্বরে আক্রান্ত এক রোগী শনাক্ত করা হয়েছে

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ৭৪ বার পঠিত ৩ মিনিটের পাঠ

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডেস্কঃ।

 

রোগীর নাম তাসলিমা খাতুন (৩৫)। তিনি যশোর সদর উপজেলার নূরপুর এলাকায় রিকশাচালক নজরুল ইসলাম শেখের স্ত্রী। তাদের মূল বাড়ি নড়াইলের কালিয়া উপজেলার কালীনগর গ্রামে।

 

তাসলিমা খাতুনকে বুধবার যশোর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে তার চিকিৎসা চলছে।

 

যশোরের সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল জানান, সরকারের কালাজ্বর নির্মূল প্রকল্পের আওতায় তার চিকিৎসার সব ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রকল্পের কর্মকর্তা শিগগিরই যশোরে আসবেন। একই সঙ্গে ময়মনসিংহের কালাজ্বর গবেষণা কেন্দ্রের কর্মকর্তাদেরও এই রোগীর বিষয়ে জানানো হয়েছে। তারাও এ বিষয়য়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

 

সিভিল সার্জন আরো বলেন, যশোরে সবশেষ ১৯৪৭ সালে কালাজ্বরের রোগী শনাক্তের রেকর্ড আছে। এরপর আর এই রোগী আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। এবার তাসমিলা খাতুনের শরীরের কালাজ্বর শনাক্ত করা হয়েছে।

 

উইকিপিডিয়া থেকে জানা যায়, কালাজ্বর হলো Visceral elephantiasis, Sahib`s disease, Dumdum fever, Black fever একটি রোগ যা লিশম্যানিয়াসিস রোগের কয়েকটির মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বর। লিশম্যানিয়া গণভুক্ত এক প্রকার প্রোটোজোয়া পরজীবী এই রোগটি ঘটায়। বেলেমাছির কামড়ের দ্বারা এটি বিস্তর লাভ করে। পরজীবী-ঘটিত রোগগুলোর মধ্যে এটি দ্বিতীয় প্রাণঘাতী রোগ। বাংলাদেশের ৪৬টি জেলায় কালাজ্বর দেখা যায়, এর মধ্যে ময়মনসিংহ, পাবনা, টাঙ্গাইল, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ ও জামালপুর অঞ্চলে এই রোগটি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।

 

মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. গৌতম কুমার আচার্য্য বলেন, কালাজ্বরের জীবাণুর বাহক বেলেমাছি। এই রোগকে ইনফেশন ডিজিজ বলা হয়। বুধবার পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে তাসলিমার শরীরের কালাজ্বরের বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দিয়েছি।

 

তিনি আরো বলেন, কালাজ্বরের প্রাদুর্ভাব ময়মনসিংহ অঞ্চলে দেখা যায়। যশোর অঞ্চলে ১৯৪৭ সালের পর দেখা যায়নি। প্রায় ৬৯ বছর পর যশোরে আবার কালাজ্বরের রোগী শনাক্ত হলো।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তাসলিমা খাতুন রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘৬/৭ মাস আগে জন্ডিসে আক্রান্ত হয়েছিলাম। এরপর থেকে জ্বর হয়। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা করেছি। সবশেষ যশোর শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. গৌতম কুমার আচার্যের কাছে চিকিৎসা নিয়েছিলাম। ৪/৫ দিন আগে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে কালাজ্বরে আক্রান্তের বিষয়টি জানতে পারি।’

 

এরপর চিকিৎসক তাকে হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন। বুধবার হাসপাতালে ভর্তি হোন তিনি।

 

তাসলিমার স্বামী রিকশাচালক নজরুল ইসলাম শেখ রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘অনেক ডাক্তার দেখিয়েও জ্বর কমছিল না। ডাক্তার জানায় কালাজ্বর হয়েছে। এতদিনে অনেক টাকা খরচ হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তির পর সরকারিভাবে চিকিৎসা চলছে।’

 

নজরুল ও তাসলিমা দম্পতির তিন ছেলে-মেয়ে রয়েছে। ছোট জমজ ছেলে দুটোর বয়স তিন বছর, বড় মেয়ের বয়স ছয় বছর।

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/ ৩০-০৬-২০১৬ ইং/মো: হাছিবুর রহমান