মূল সংবাদে যান
২৪ আগস্ট ২০২৬

শেয়ার করুন

জনগণকে বাঘের ভূমিকায় রাজপথে দেখতে চান খালেদা জিয়া

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ৭৮ বার পঠিত ৪ মিনিটের পাঠ

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডেস্কঃ দেশ রক্ষায় ও অধিকার ফিরে পেতে দেশের জনগণকে বাঘের ভূমিকায় রাজপথে দেখতে চান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

 

বৃহস্পতিবার এক ইফতার মাহফিলে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, `সারা দেশের মানুষকে আজকে বিড়াল বানিয়ে রাখা হয়েছে। আর তারা (ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ) আজীবন ক্ষমতায় থাকার জন্য বাঘ, সিংহ সবকিছুই হতে চায়।’

 

রাজধানীর বনানীতে হোটেল সেরিনায় মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত ইফতার মাহফিলে খালেদা জিয়া বলেন, ‘সেই টাইগারগুলো কোথায় গেল? আজকে সবাইকে টাইগারের ভূমিকায় আসতে হবে। লায়নের ভূমিকায় আসতে হবে। তাহলেই দেশেটা রক্ষা করা যাবে। দেশের অনেক ক্ষতি হয়েছে। অনেক সময় নষ্ট হয়েছে। আর সহ্য করা যায় না।’

 

নিজে রাজপথে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, `আমি আপনাদের সঙ্গে সবসময় আছি, থাকব। রাস্তায় যেতে বললে এখনো রাস্তায় নামার মতো সাহস ও ক্ষমতা রাখি।`

 

বিডিআর হত্যাকাণ্ডের পর এই বাহিনী দুর্বল হয়ে গেছে দাবি করে বিএনপি নেত্রী বলেন, `আজকে বিডিআর নেই। নামও বদলে দেওয়া হয়েছে। আমি বিডিআরই বলে যাব। এরা একসময় বাঘ ছিল, এখন বিড়াল। তাদের হাতে বন্দুক আছে কিন্তু গুলি মারে না। দেশের মানুষকে বললে গুলিটা পট করে চালিয়ে দেবে। কিন্তু বর্ডারে কিছু করতে পারে না। মিয়ানমারের মতো দেশ আমার আকাশসীমা লঙ্ঘন করে হেলিকপ্টার নিয়ে ঘোরে, কেন একটা গুলিও মারতে পারে না? বিডিআর আজকে বাঘ থেকে বিড়াল হয়েছে।`

 

ভারতকে ট্রানজিট দেওয়া প্রসঙ্গে বিএনপি প্রধান বলেন, ‘যমুনা সেতুতে ৭০০-৮০০ টাকা দিতে হয়। বাস, ট্রাকের জন্য আলাদা ফি নির্ধারণ করা আছে। অথচ ১৯৫ টাকায় যে ট্রানজিট দেওয়া হলো এটা লজ্জার, এটাকে দয়াও বলা যেতে পারে। আজকে বাংলাদেশে নিজস্বতা, মান-সম্মান, স্বকীয়তা, স্বাধীনতা নেই।’

 

মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপানারা যুদ্ধ করেছিলেন দেশে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, সুশাসন, সকলের সমান অধিকারের জন্য। আজকে দেশে কোনোটাই নেই। দেশে চলছে এক ব্যক্তির শাসন।’

 

খালেদা জিয়া বলেন, ‘মুসলাম-হিন্দু সবাই এই আওয়ামী লীগের দ্বারা নির্যাতিত। সবাই আজ আওয়ামী লীগের হাত থেকে মুক্তি চায়। দেশে শান্তি, উন্নয়ন, গণতন্ত্র, কথা বলার অধিকার, বাকস্বাধীনতা চায়। আজকে কোনোটাই নেই।’

 

দেশ পুলিশি রাষ্ট্র হয়ে গেছে, এ মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘পুলিশ-র‌্যাব দিয়ে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে। গণঅভিযানের নামে ১৬ হাজার লোককে কারাগারে ঢুকিয়েছে। এর মধ্যে ৪ হাজার বিএনপির নেতা-কর্মী আছে।’

 

নিজের বিরুদ্ধে চলা মামলাগুলোর প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি নেত্রী বলেন, ‘হাসিনার ১৫টি মামলা উঠে গেলে আমার মামলাও উঠাতে হবে। আমি কোনো অন্যায়, অবিচার করিনি। দেশে কোনো ন্যায়বিচার নেই।’

 

মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজীজ উলফাতের সভাপতিত্বে ইফতার মাহফিলে যোগ দেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মোশাররফ হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক, অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল মোদাচ্ছের, অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল জয়নাল, অবসরপ্রাপ্ত মেজর আইন উদ্দিন প্রমুখ।

 

এ ছাড়া ২০ দলীয় জোটের শরিক এলডিপি প্রধান অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমদ, গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ, অর্থনীতিবিদ মাহবুব উল্লাহ ইফতার মাহফিলে যোগ দেন।

 

বিএনপির নেতাদের মধ্যে আরো যারা ইফতার মাহফিলে যোগ দেন, তারা হলেন- শামছুজ্জামান দুদু, খায়রুল কবির খোকন, সাদেক খান, শহিদুল ইসলাম মিলন, প্রাক্তন ছাত্রনেতা আতাউর রহমান ঢালী প্রমুখ।

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/ ৩০-০৬-২০১৬ ইং/মো: হাছিবুর রহমান