মূল সংবাদে যান
২৪ আগস্ট ২০২৬

শেয়ার করুন

গুলশান জঙ্গি হামলাকারী নিবরাস ইসলাম পরিচয় গোপন করে সাঈদ নামে ঝিনাইদহ শহরে আত্নগোপন ছিল

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ৪৯ বার পঠিত ৫ মিনিটের পাঠ

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডেস্কঃ ঢাকার গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলাকারী নিবরাস ইসলাম পরিচয় গোপন করে সাঈদ নামে ঝিনাইদহ শহরের সোনালীপাড়ায় বাসা ভাড়া নিয়েছিলেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, নিবরাস ইসলামের সাথে মোস্তফাসহ আরো ৭-৮ যুবক ওই ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। সোনালীপাড়া মসজিদের ইমাম ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়া বিভাগের ছাত্র রোকনুজ্জামান তাদের এই বাসা ভাড়া নেওয়ার ব্যাপারে সহায়তা করেন। নিবরাস ইসলাম ওরফে সাঈদ গত ২৮ জুন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার মাস ওই ভাড়া বাড়িতে ছিলেন।

বাড়ির মালিক সেনাবাহিনীর সাবেক সার্জেন্ট কাওছার আলী মোল্লার স্ত্রী বিলকিস নাহার এসব তথ্য জানান। তবে তিনি নিবরাস ইসলামকে সাঈদ বলে জানতেন। গত সোমবার একটি বেসরকারি টেলিভিশনের অনুসন্ধান দলের কাছে বিলকিস নাহার নিবরাস ইসলামের ছবি দেখে কথিত সাঈদ বলে শনাক্ত করেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে একদল সাংবাদিক সেনাবাহিনীর সাবেক সার্জেন্ট কওছার আলী মোল্লার বাড়িতে যান। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাড়ির মালিকের স্ত্রী বিলকিস নাহার বলেন, ‘গুলশান হামলায় সন্দেহভাজন জঙ্গি নিবরাস ইসলামই হচ্ছে সাঈদ। আমি ছবি দেখে বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি। ছবির সাথে চেহারার মিল রয়েছে।’

ঝিনাইদহ শহরের সোনালীপাড়ার বাসিন্দা সরকারি কেসি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ছাত্র নওর জামিল বর্ষণ জানান, সাঈদ তাদের পাড়ায় চার মাসের বেশি সময় ভাড়া ছিল। তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবেন বলে তাদের কাছে জানান। এ সময় সাঈদ তাদের সাথে ফুটবল খেলতেন। তিনি অনর্গল ইংরেজিতে কথা বলতে পারতেন। এ জন্য সবাই তাকে পচ্ছন্দ করতেন।

বর্ষণ আরো জানান, ঢাকার গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় সন্ত্রাসী হামলার সাথে জড়িত সন্দেহভাজন জঙ্গিদের ছবি প্রকাশের পর তারা তাজ্জব হয়ে যায়। তাদের সাথে খেলা করা সেই সাঈদই নিবরাস ইসলাম বলে ছবি দেখে জানতে পারেন।

এদিকে জঙ্গি নিবরাস ইসলামকে সহায়তার দায়ে ঝিনাইদহ থেকে ৫ জনকে আটক করেছে ঢাকা থেকে আগত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ টিম। আটকরা হলেন—ঝিনাইদহ শহরের সোনালীপাড়ার ঠান্ডু মোল্লার ছেলে কাওছার আলী মোল্লা, তার দুই ছেলে ঝিনাইদহ কলেজের ছাত্র বিনছার আলী, নারিকেলবাড়িয়া কলেজের ছাত্র বেনজির আলী, হামদহ সোনীপাড়া মসজিদের ইমাম যশোরের ঝিকরগাছার নায়রা গ্রামের রোকনুজ্জামান ও শারশিনা মাদ্রাসার ছাত্র আদর্শপাড়া কচাতলার মাদ্রাসাশিক্ষক আবুল কালাম আজাদের কিশোর ছেলে হাফেজ আব্দুর রব।

গত ৬ জুলাই সন্ধ্যার সময় এদের গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়া হয় বলে দাবি করেন বিলকিস নাহার। তিনি জানান, ঈদের দিন (৭ জুলাই) তাকেও ঝিনাইদহ র‌্যাব ক্যাম্পে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এর আগের দিন সন্ধ্যায় (৬ জুলাই) র‌্যাবসহ একটি বিশেষ বাহিনীর সদস্যরা তার স্বামী, দুই ছেলে, মসজিদের ইমাম ও তারাবির নামাজের হাফেজকে নিয়ে যায়।

সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে আরো কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য। সাঈদই যদি নিবরাস ইসলাম হয় তবে তিনি ঝিনাইদহ থাকা অবস্থায় জেলায় কিছু আলোচিত হত্যা সংঘটিত হয়। এই হত্যার তালিকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের দুই পুরোহিতসহ রয়েছে খ্রিস্টান হোমিও চিকিৎসক ও শিয়া মতবাদের এক ব্যক্তি। এই চার হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন আইএস দায় স্বীকার করে বিবৃতি প্রচার করে। যা গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় সন্ত্রাসী হামলার সাথে মিল রয়েছে।

গত ৭ জুন ঝিনাইদহ সদর উপজেলার করোতিপাড়া গ্রামের আনন্দ গোপাল গাঙ্গুলী খুন হন। নিহত আনন্দ গোপালের বাড়ি ও নিবরাস ইসলাম ওরফে সাঈদ যে বাড়িতে ভাড়া থাকতেন সেই বাসার মালিক কাওছার আলী মোল্লার বাড়ি একই গ্রাম বাগডাঙ্গা করোতিপাড়ায়। এ নিয়ে অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মাঝে নানা সন্দেহ ঘুরপাক খাচ্ছে। অনেকের মন্তব্য র‌্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দাদের নজর ফাঁকি দিয়ে ঝিনাইদহ শহরকে নিরাপদ হিসেবে গড়ে তোলে সন্দেহভাজন জঙ্গিরা।

এর আগে গত ৭ জানুয়ারি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কালুহাটী গ্রামের বেলেখাল বাজারে খ্রিস্টান হোমিও চিকিৎসক সমির বিশ্বাস ওরফে সমির খাজা ও ১৪ মার্চ কালীগঞ্জ শহরের নিমতলা এলাকার শিয়া মতবাদের হোমিও চিকিৎসক আব্দুর রাজ্জাককে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। সর্বশেষ গত ১ জুলাই ঝিনাইদহ সদর উপজেলার উত্তর কাস্টসাগরা গ্রামে এবার স্থানীয় রাধামদন মঠের সেবায়েত শ্যামানন্দ দাসকে (৬২) কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজবাহার শেখ বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না। এদের কে আটক করেছে, কেন করেছে বলতে পারছি না।’

তবে ঝিনাইদহ সদর থানার বিদায়ী ওসি হাসান হাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে কথা প্রসঙ্গে জানিয়েছিলেন, ঢাকার গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় সন্ত্রাসী হামলার সন্দেহভাজন এক জঙ্গি ঝিনাইদহ শহরের হামদহ এলাকায় ভাড়া থাকতেন

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/     ১৪- ০৭-২০১৬ ইং/মো:হাছিব