আওয়ামীলীগ গণতন্ত্রের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকছে : ফকরুল
মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডেস্কঃ বিএনপির নেতৃত্বকে রাজনীতি থেকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার চেষ্টার মধ্যমে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের গণতন্ত্রের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘যে আওয়ামী লীগ নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের নেতা বলে দাবি করে, গণতন্ত্রের শরিক হিসেবে দাবি করে, তাদের হাতেই আজ গণতন্ত্র নিহত হয়েছে।’
আজ বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্য বিএনপির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লন্ডন সফররত মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।
তারেক রহমানের বিরুদ্ধে আদালতের দেওয়া রায় প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, অর্থ পাচারের ধারাতেই এই মামলা পড়ে না। উদ্দেশ্য যেহেতু তারেক রহমানকে রাজনীতি থেকে দূরে সরানো, তাই এমন আরও অসংখ্য মামলা তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘শুধু তারেক রহমান নয়, বিএনপিকে রাজনীতি থেকে নিশ্চিহ্ন করতে হাজার হাজার মামলা দেওয়া হয়েছে। খালেদা জিয়ার নামে ২৯টি মামলা, যার সব কটিতেই চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। আমার নামে মামলা ৮৬টির ওপরে, যার ৩৬টির ওপরে চার্জশিট দেওয়া। বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মোট মামলার সংখ্যা প্রায় ৭৪ হাজার, যাতে আসামির সংখ্যা পাঁচ লাখের বেশি।’
গুলশান কার্যালয়ে অবরুদ্ধ থাকা অবস্থায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নাশকতা ও রাষ্ট্রদ্রোহসহ মোট ১৯টি মামলা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে নাইকো ও গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়া এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সমানভাবে আসামি করা হয়েছিল। কিন্তু শেখ হাসিনার নামটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হলেও খালেদা জিয়ার নামে মামলাটি চালাচ্ছে সরকার।
মির্জা ফখরুল বলেন, দেশে এক সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম হয়েছে। গত ছয় বছরে বিএনপির এক হাজার নেতা-কর্মী পুলিশ কিংবা সরকারি দলের কর্মীদের হাতে নিহত হয়েছেন। পাঁচ শতাধিক নেতা-কর্মী গুমের শিকার হয়েছেন।
গুলশান ও শোলাকিয়ায় সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশকে আলোচনায় নিয়ে এসেছে মন্তব্য করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, জঙ্গিবাদ এবং সন্ত্রাসবাদকে সরকার বারবার উপেক্ষা করেছে। কোনো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত না করে বিএনপির ওপর দায় চাপিয়েছে। যারা সুরাহা চায়, প্রতিকার চায় তাদের ওপর দায় চাপানো হচ্ছে। যে কারণে প্রকৃত সন্ত্রাসীরা পার পেয়ে গেছে।
নিম্ন আদালতের বিচারককে প্রভাবিত করে তারেক খালাস পেয়েছিলেন বলে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক যে মন্তব্য করেছেন, সে বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মির্জা ফখরুল বলেন, আইনমন্ত্রীর মন্তব্য সরাসরি আদালত অবমাননা। বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী তারেক রহমান রায়ের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন বলে জানান তিনি।
বিএনপিকে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা হাস্যকর মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিল।
জাতীয় ঐক্যের প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ জাতীয় ঐক্যে বিশ্বাস করে না। তারা আবার দেশে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখছে। বাংলাদেশে মানুষ তা মেনে নেবে না।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা সাবিহ উদ্দিন আহমেদ, বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক নিতাই রায় চৌধুরী, যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালেক ও সাধারণ সম্পাদক কয়সর আহমদ প্রমুখ।
মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম /২১ – ০৭-২০১৬ ইং/মো:হাছিব