মূল সংবাদে যান
২৪ আগস্ট ২০২৬

শেয়ার করুন

অবিরাম বৃষ্টির ফলে সুনামগঞ্জে বন্যার বেহাল দশা

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ৬৪ বার পঠিত ৪ মিনিটের পাঠ

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডেস্কঃ অবিরাম বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে হাওরের জেলা সুনামগঞ্জে হু হু করে বাড়ছে পানি। সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ৮৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, শাল্লা, ধর্মপাশা, দোয়ারাবাজার ও সুনামগঞ্জ সদর উপজেলাকে বন্যাকবলিত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের জেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আফসারুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ছয়টায় সুনামগঞ্জে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার চেয়ে ৮৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল; যা গত ১০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। এই নদীর বিপৎসীমা ধরা হয় ৮ দশমিক ২৫ মিটার। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার চেয়ে ৬০ সেন্টিমিটার ওপরে ছিল।

বন্যার পানির কারণে সুনামগঞ্জ থেকে তাহিরপুরে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস বন্ধ হয়ে গেছে। বাড়িঘরের পাশাপাশি বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা পরিষদসহ কয়েকটি সরকারি অফিসও পানিবন্দী হয়ে গেছে। বিশ্বম্ভরপুরের পাঁচটি ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন বলে আজ বিকেলে উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় জানানো হয়েছে। সভায় আশ্রয়কেন্দ্র খোলার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হারুনুর রশিদ।

সরেজমিন বন্যা পরিস্থিতি দেখতে বের হন এই দুই প্রতিবেদক। তাঁরা জানান, সকালে সুনামগঞ্জ জেলা সদর থেকে তাহিরপুর যাওয়ার জন্য রওনা হলে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার দুর্গাপুর পর্যন্ত গিয়েই আটকে যেতে হয়। সেখানকার লোকজন জানান, সড়কের দুই থেকে আড়াই কিলোমিটার পথ পানিতে ডুবে গেছে। ফলে সড়ক দিয়ে যানচলাচল বন্ধ। এর আগে বিশ্বম্ভরপুর সদরে দেখা যায়, উপজেলা পরিষদ ভবনের ঠিক সামনেই পানি। এই ভবনে যেতে হলে পানি পেরিয়ে যেতে হয়। একই চিত্র থানা ভবনের।

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা পরিষদের একেবারে কাছেই অবস্থিত সদর উপজেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষক আছেন, কিন্তু ছাত্রছাত্রী নেই। প্রধান শিক্ষক রেহানা খাতুন জানালেন, গতকাল আশপাশে পানি বেড়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা আসতে পারেনি।

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা পরিষদ ভবন প্রাঙ্গণে হাঁটু সমান পানি। ছবিটি বিকেল পাঁচটার দিকে তোলা। ছবি: খলিল রহমান, সুনামগঞ্জতাহিরপুরের বালিজুড়ি হাজি এলাহী বক্স উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে গিয়ে দেখা যায় বিদ্যালয়টি পানিবন্দী। কিন্তু জানা গেল, অর্ধবার্ষিক ও দশম শ্রেণির প্রাক্‌-নির্বাচনী পরীক্ষা থাকার কারণে পানি পেরিয়েই স্কুলে যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

তাহিরপুরের জামলাবাজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রতনশ্রী পূর্ব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, স্কুল দুটি পানিবন্দী। নৌকা দিয়ে শিশুরা স্কুলে আসা-যাওয়া করছে।
বিকেলে তাহিরপুর থেকে সুনামগঞ্জে আসার পথে দেখা যায়, মূল সড়কের অন্তত ১০টি জায়গায় কয়েক কিলোমিটারে পানি উঠে গেছে। এ কারণে যান চলাচল বন্ধ গেছে। আনোয়ারপুর এলাকায় হেঁটে আসাও বিপজ্জনক হয়ে গেছে। এখানে তাহিরপুর পোস্ট অফিসে কর্মরত একজন জানালেন, কী আর করা, ঝুঁকি নিয়েই পার হতে হচ্ছে। পথে কয়েকজন বললেন, একে তো বন্যা, এর মধ্যে টানা বৃষ্টির কারণে কষ্ট আরও বেড়ে গেছে। যাওয়া-আসার পথে দেখা গেল, সড়কের আশপাশের বাড়িগুলো পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। সেখানে এখন নৌকাই একমাত্র বাহন হয়ে গেছে।

সন্ধ্যায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কামরুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, বন্যাকবলিত প্রত্যেক উপজেলায় পাঁচ টন করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আজ সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা ডাকা হয়েছে

 

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম /২১  – ০৭-২০১৬ ইং/মো:হাছিব