মূল সংবাদে যান
২৪ আগস্ট ২০২৬

শেয়ার করুন

বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সংকট : মির্জা ফকরুল

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ৫৩ বার পঠিত ৪ মিনিটের পাঠ

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডেস্কঃ বাংলাদেশের বিরোধী দল বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পর পর দুটি সন্ত্রাসী হামলার পর বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সংকট বলে বর্ণনা করেছেন।

লন্ডন সফররত মিঃ আলমগীর বিবিসি বাংলার মোয়াজ্জেম হোসেনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন বাংলাদেশে সাম্প্রতিক জঙ্গী হামলার ঘটনা দেশটির জন্য একটা মোড় ঘোরানো ঘটনা।

বর্তমানে আন্তর্জাতিক জঙ্গীবাদের যে উত্থান তার মধ্যে বাংলাদেশকে ফেলে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে বলে তার দল মনে করছে।

তিনি বলেন এইসব হামলার ঘটনা যখন প্রথম থেকে ঘটতে শুরু করে তখন সরকারের কাছে তারা এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান জানিয়েছিলেন।

“কিন্তু দুভার্গ্যজনকভাবে সরকার সুষ্ঠু তদন্ত না করে পুরোটাই বিরোধী দলের ওপর চাপিয়ে দেবার চেষ্টা করেছে, যেটা আমার মনে হয় সত্য ঘটনাটাকে এড়িয়ে গেছে।”

মিঃ আলমগীর বলছেন সুপরিকল্পিতভাবে এসব ঘটনা ঘটেছে এবং কোনো না কোনো শক্তি এর মধ্যে আছে।

বিএনপি কোন্‌ শক্তির প্রতি ইঙ্গিত করছে এ প্রশ্ন করা হলে মিঃ আলমগীর বলেন সে বিষয়ে তার কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই।

“তবে আমার মনে হয় বাংলাদেশে যারা সত্যিকার অর্থে জঙ্গীবাদ ও উগ্রবাদ নিয়ে আসতে চায় এবং তাতে যাদের সুবিধা হবে তারাই এটা করেছে।”

 
 

“আমি ব্যক্তিগতভাবে যেটা মনে করি- আমার দলও যেটা মনে করে, সেটা হচ্ছে যখনই একটা দেশে গণতন্ত্র থাকবে না, তখন এধরনের ঘটনাগুলো সেখানে প্রশ্রয় পেতেই থাকবে।”

কিন্তু বিএনপি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হয়ে সরকারে থাকার পরেও একইধরনের বিশ্বাস ও আদর্শে উজ্জীবিত শক্তির উত্থান হয়েছিল এই যুক্তির উত্তরে মিঃ আলমগীর বলেন, “তখনকার ঘটনা এবং বর্তমানের ঘটনাগুলো সম্পূর্ণ এক নয় এবং তখন কারো ওপর দোষ না চাপিয়ে আমরা ঘটনাগুলোর মোকাবেলা করেছি এবং তাদের বিচারের আওতায় এনেছি।”

তিনি বলেন এখন জঙ্গী হামলার জন্য বিএনপি ও বিরোধীদের দায়ী করার ফলে “পুরো বিষয়টি সবচেয়ে ভয়াবহ হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

মিঃ আলমগীর বলেন বাংলাদেশে যে অবস্থা বর্তমানে বিরাজ করছে, তাতে উগ্রবাদ প্রশ্রয় পাওয়ার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন।

“জাতির এই সঙ্কটে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই ভয়ঙ্কর প্রবণতা – উগ্রবাদের এই দানবকে প্রতিরোধ করাটাই এখন হবে সবচেয়ে বড় কাজ।”

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা ইতিমধ্যেই বলে দিয়েছেন বিএনপি যদি জামায়াতের সঙ্গে থাকে বা জামায়াত যদি এই জোটের মধ্যে থাকে, তাহলে এই জাতীয় ঐক্যের কোনো ভবিষ্যত তারা দেখছেন না।

মিঃ আলমগীর বলেন জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির বর্তমানে যে জোট তা আন্দোলনের স্বার্থে, অতীতে তাদের সঙ্গে ছিল নির্বাচনী জোট ।

“আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই জামায়াতের সঙ্গে আমাদের কোনো আদর্শিক মিল বা জোট নেই।”

মিঃ আলমগীর অভিযোগ করে বলেন, “বিএনপি দেশের বৃহত্তম একটি রাজনৈতিক দল। কোনোরকম উদ্যোগ গ্রহণ না করে আমাদের বাদ দিয়ে তারা একটা ঐক্য তৈরি করতে পারবেন এরকম মনে করার তো কোনো কারণ নেই। আমরা যখন উদ্যোগের কথা বলেছি, তখন দায়িত্বশীল সরকার হিসাবে তাদের উচিত ছিল ঐ উদ্যোগটা নিয়ে জাতীয় ঐক্যের জন্য সবাইকে আহ্বান জানানো।”

 

160701210224_dhaka_gulshan_attack_640x360_focusbangla_nocredit

সরকারের সঙ্কীর্ণতা, দায়িত্বজ্ঞানহীনতা এবং দাম্ভিকতার কারণেই বাংলাদেশে এধরনের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে বলে তিনি বেশ জোরের সঙ্গে অভিযোগ করেন।

 

 

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম /২২  – ০৭-২০১৬ ইং/মো:হাছিব