মূল সংবাদে যান
২৪ আগস্ট ২০২৬

শেয়ার করুন

আইএস এর ম্যাগাজিনে গুলশান হামলাসহ ছয়টি হামলা ও হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ করা হয়েছে

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ৬১ বার পঠিত ৩ মিনিটের পাঠ
মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডেস্কঃ
ইসলামিক স্টেট (আইএস) এর মুখপাত্র ‘দাবিক’ ম্যাগাজিনে বাংলাদেশে হলি আর্টিজান রেস্তোরায় হামলা সহ ছয়টি হামলা ও হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। রবিবার প্রকাশিত এর পঞ্চদশ সংস্করণে বিশ্বব্যাপী আইএসের অপারেশেনের কথা উল্লেখ করা হয়।
গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরায় হামলার বিষয়ে দাবিকে বলা হয়, ২৭ রমজান ঢাকার এই রেস্তোরায় বিদেশিরা নিয়মিত যাতায়াত করে। ৫ জন ইনঘিমাসি যোদ্ধা (আত্মঘাতী হামলাকারী) সেখানে হামলা চালিয়ে জিম্মি করে। পরে পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার আগে বহুসংখ্যক মানুষকে হত্যা ও আহত করার পরে তারা মৃত্যুবরণ করে।
উল্লেখ্য, সোমবার হলি আর্টিজানে হামলার একমাস হয়েছে। জুলাই মাসের ১ তারিখ নজিরবিহীন এই হামলায় ৫ জঙ্গিসহ ২৯ জন নিহত হয়। নিহতদের মধ্যে ছিলেন ১৭ জন বিদেশি, ৩ বাংলাদেশি, ২ পুলিশ কর্মকর্তা ও একজন সন্দেহভাজন জঙ্গি। হামলার সময়ে জিম্মিদের উদ্ধারে যাওয়া ৩৩ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়।
বাংলাদেশে আইএসের হত্যাকাণ্ডের তালিকায় সবার প্রথমে উল্লেখ করা হয়  রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক এ এফ এম রেজাউল করিম সিদ্দিকীর কথা। রাজশাহী নগরীতে বাড়ির কাছেই এই অধ্যাপককে মোটর সাইকেলে আসা দুই যুবক কুপিয়ে পালিয়ে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের উদ্ধৃত করে জানিয়ে ছিলেন বোয়ালিয়া থানার ওসি শাহদাত হোসেন। আইএসের বার্তা সংস্থা আমাকে এই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করা হয়েছিল।
এছাড়া ৩০ এপ্রিল টাঙ্গাইলের দর্জি নিখিল চন্দ্র জোয়ারদার, ৫ জুন বড়াইগ্রামের বনপাড়া পৌরসভার খ্রিস্টান ধর্মপল্লীর বাসিন্দা মুদি ব্যবসায়ী সুনীল গোমেজ, ৭ জুন ঝিনাইদহের সোনাখালি গ্রামের নলডাঙ্গা মন্দিরের পুরোহিত অনন্ত গোপাল গাঙ্গুলি ও ১০ জুন পাবনার একটি আশ্রমের সেবায়েত নিত্যরঞ্জন পাণ্ডেকে  হত্যার কথা দাবিকে উল্লেখ করা হয়। এদের সবাইকে ধারালো অস্ত্র দ্বারা কুপিয়ে তথাকথিত ‘খিলাফতের সৈনিক’-রা হত্যা করেছে বলে উল্লেখ করা হয়। উল্লেখ্য, হামলায় নিহত সবার নাম উল্লেখ করা হলেও নিত্যরঞ্জন পাণ্ডের নাম বলা হয়নি।
এই সব হামলার দায় আইএস এর বার্তা সংস্থা আমাক স্বীকার করেছিল বলে জানিয়েছিল জঙ্গিদের কর্মকাণ্ড নজরদারি প্রতিষ্ঠান সাইট ইন্টেলিজেন্স। ম্যাগাজিনটির পঞ্চদশ সংস্করণের সম্পাদকীয়তেও অরল্যান্ডো, ফ্রান্সের নিস-ম্যাগনাভিল-নরম্যান্ডি, জার্মানির উর্জবার্গ-আন্সবাখ হামলার পাশাপাশি ঢাকার গুলশান হামলার কথা উল্লেখ করা হয়। এসব হামলায় ৬০০ জন নিহত হওয়ার পাশাপাশি ১২ জন আইএস জঙ্গি নিহত হওয়ার কথা বলা হয়। আইএসের কথিত এই ১২ হামলাকারীর ৫ জন ছিলেন গুলশান হামলাকারী।
উল্লেখ্য, আইএস বরাবরই বিভিন্ন হামলার দায় স্বীকার করে আসলেও বাংলাদেশ সরকার তাদের অস্তিত্ব অস্বীকার করে এসেছে। স্থানীয় জঙ্গিরাই এসব হামলা করছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম / ১ – ০৮-২০১৬ ইং/মো:হাছিব