স্বামী সালাহউদ্দিন আহমদের হাত জড়িয়ে ধরে কাঁদলেন হাসিনা আহমেদ

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠঃ দুই মাস পনের দিন। প্রতীক্ষার প্রহর। দীর্ঘ উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার অবসান। শিলং পুলিশের অনুমতি নেয়াই ছিল। ভারতের সময় রাত আটটা ২০ মিনিটে শিলংয়ের সিভিল হাসপাতালে হাসিনা আহমেদ পৌঁছালে মুহূর্তেই বদলে যায় চিত্র। আপ্লুত দু’জনই। বাক্রুদ্ধ। স্বামী সালাহউদ্দিন আহমদের হাত জড়িয়ে ধরে কাঁদলেন হাসিনা আহমেদ। সাক্ষাৎ শেষে বেরিয়ে সাংবাদিকদের বলেন,
উন্নত চিকিৎসার জন্য সালাহউদ্দিন আহমেদকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মুক্ত করে নিতে চান তৃতীয় কোন দেশে।
স্বামীকে ফিরে পাওয়ার সংবাদটি ফোনে শুনেছেন গত ১১ ই মে। সামান্য কথাও বলেছেন দুজনে। এরপর থেকে স্বামীর দেখা পেতে উদগ্রীব ছিলেন হাসিনা আহমেদ। স্বামী বেচে আছেন এ সংবাদটি জানার এক সপ্তাহ পর তাদের দেখা হয়েছে। যদিও সব মিলিয়ে দুই মাস ১৫ দিন পর তাদের দেখা। স্বামীর বেঁচে থাকার সংবাদ জানার মাঝখানে ভিসা নিয়ে দৌড়াদৌড়িতে ছিলেন হাসিনা আহমেদ। অবশেষে গত রোববার বিকালে ভিসা পান। ভিসা পেয়েই স্বামীর সান্নিধ্য পাওয়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে উঠেন। এদিন রাতেই শিলংয়ের উদ্দেশ্যে কলকাতায় যাওয়ার জন্য ঢাকা ছাড়েন। মাঝখানে শাহজাহাল আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরে তাকে বেশ ঝক্কি ঝামেলা পোহাতে হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কলকাতায় যেতে এয়ার ইন্ডিয়ার বোর্ডিং পাস সংগ্রহের পর ইমিগ্রেশন অতিক্রম করেন হাসিনা আহমেদ। কিন্তু ইমিগ্রেশন অতিক্রম করার পরও ভারতের যাওয়ার সময় সঙ্গে কি কি নিয়ে যাচ্ছেন তা চেক করেন ইমিগ্রেশনের দায়িত্বরত এসবি’র কর্মকর্তা। এ সময় তাকে আধা ঘন্টার বেশি সময় বসিয়ে রাখা হয়। কলকাতায় এসে রাত্রী যাপনের পর বেলা ১২ টার জেট এয়ারওয়েজের ফ্লাইটে গৌহাটি আসেন। এরপর ঝুম বৃষ্টির কারণে শিলংয়ে পৌঁছাতে হাসিনা আহমেদের পাঁচ ঘন্টা সময় লেগে যায়। এসেই এসপি’র অনুমতির জন্য ওই অফিসে যান। অনুমতি মেলার পর সোজা সিভিল হাসপাতালে আসেন। হাসপাতালে ছিল অন্য রকম পরিবেশ। সিভিল হাসপাতালের ইউটিপি সেলের ভেতরে সৃষ্টি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ। সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপি’র যুগ্ম- মহাসচিব সালাউদ্দিন আহমেদ ও তার স্ত্রী হাসিনা আহমেদ একে অপরকে অনেক দিন পর পেয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। আবেগের কারণে দুই জন পারিবারিক ভালমন্দ ছাড়া খুব বেশি কথাবার্তা বলতে পারেননি। স্বামীর সঙ্গে দেখা করার পর বাইরে বেরিয়ে হাসিনা আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, আমি ভারত সরকার, মেঘালয়ের প্রশাসন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে খুব বেশি কৃতজ্ঞ। কারণ তারা আমার স্বামীকে আশ্রয় দিয়েছেন ও সেবা দিচ্ছেন। আমার স্বামী খুব বেশি অসুস্থ। আমরা চেষ্টা করবো আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মুক্ত করে উন্নত চিকিৎসার জন্য থার্ড কোন দেশে নিয়ে যেতে। উনি অসুস্থ তাই খুব বেশি কথা বলতে পারি নাই। আগামীকাল (আজ) আবার আসবো। এসে আইনি প্রক্রিয়া সর্ম্পকে তার সঙ্গে কথাবার্তা বলবো। চেষ্টা করবো আইনজীবি নিয়ে এসে ওনার সঙ্গে কথাবার্তা বলতে। এখনও আইনজীবি ঠিক করিনি। তবে আইনজীবি নিয়োগের কথাবার্তা চলছে।
প্রিজন সেলে স্বামী- স্ত্রী দুজনে যা বললেন: ভারতের সময় রাত আটটা ২০ মিনিটে শিলংয়ের সিভিল হাসপাতালে আসেন সালাহউদ্দিন আহমেদের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ। এ সময় তার সঙ্গে বিএনপি’র সহ- দপ্তর সম্পাদক আব্দুল লতিফ জনিসহ কয়েক জন ছিলেন। হাসপাতালে এসেই তারা পুলিশের অনুমতি কক্ষে যান। এরপর ইউটিপি সেলে যান। হাসিনা আহমেদ সালাহউদ্দিনের প্রিজন সেলের সামনে গিয়েই তাকে জিজ্ঞাসা করেন আপনি কেমন আছেন? প্রতি উত্তরে সালাহউদ্দিন কিছু বলার আগেই তার চোখ ছল ছল করে উঠে। নিজের আবেগ সামলানোর চেষ্টা করেন। তবুও কষ্ট করে বলে উঠেন, আমি আছি মোটামুটি। বাচ্চারা ভাল আছে। এ সময় স্বামী- স্ত্রী দুজনকে একসঙ্গে হাত ধরাধরি করে কেদে উঠেন। প্রায় দুমিনিট ধরে তাদের কান্নাকাটি চলে। এ সময় কিছুটা দূরে দাড়িয়ে থাকা বিএনপি’র সহ- দপ্তর সম্পাদক আব্দুল লতিফ জনি, ভাতিজা আ. করিম, জাপান প্রবাসী ক্যাপ্টেন রবিন কে জামান ও ভাগ্নের চোখ ছল ছল করে উঠেন। পরিবেশ কিছুটা স্বাভাবিক হলে সালাহউদ্দিন বাচ্চারা কেমন আছে তা জানতে চান। হাসিনা আহমেদ এ সময় বাচ্চাদের পড়াশোনার বিষয়ে বলেন। মামলার পদক্ষেপ কিভাবে নেয়া যায় ওই বিষয়ে গাইড লাইন দেন সালাহউদ্দিন। স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলা শেষে ভায়রার হাত ধরে আবেগতাড়িত হন সালাহউদ্দিন। বলেন, বিপদের সময় আপনি আমার সন্তানদের আগলে রেখেছেন। এ ঋণ আমি কখনো ভূলবো না। এসব কথা বলার সময়েই পুলিশের কর্মকর্তারা বেরিয়ে যাওয়ার জন্য তাড়া দিতে থাকেন। কারণ নির্ধারিত সময়সীমা তখন শেষ হয়ে যায়। হাসিনা আহমেদ সালাহউদ্দিনকে বলেন, কাল আবার আসবো ওই সময় আলাপ করা যাবে। এভাবেই হাসিনা আহমেদ বাইরে বেরিয়ে আসেন। সঙ্গে ছিলেন তার শুভানুধ্যায়ীরা।
১৯ মে ২০১৫/ এম ইউ