খাদ্য উপার্জনের জন্য শিক্ষা ছেড়ে অটো/রিক্সা চালায় এই শিশুরা
মোঃ আশরাফ আলী, স্টাফ রিপোর্টারঃ
ভেঙে আবার গড়তে জানে সে চির সুন্দর, তোরা সব জয়ধ্বনি কর,, কিশোরগঞ্জ শহরে চোখের সামনে দিয়ে এমন এক মানবাধিকারহীন শিশু জুবায়ের ও রাজন প্রতিদিন আসা যাওয়া করছে। জুবায়ের দিনে একবার খেয়ে স্কুলে যেত রাজনও। স্কুল থেকে এসে খাবার না পেয়ে কান্না করতো।
এভাবে কয়েক মাস/বছর পার হলে এর আর কোন সমাধান মিলেনি। এরই মধ্যে জুবায়ের এর মাদকাসক্ত বাবার জেল হয়ে যায়। রাজনের বাবা হয়ে যায় অসুস্থ। নিরুপায় হয়ে শিশু জুবায়ের (৮) ও রাজন (৯) উপার্জনের পথ খুঁজতে থাকে।
কারণ জুবায়েরের মা-বাবা ও বোনসহ চার জনের উপার্জনকারী কেউ নেই। রাজনের তিন বোন ও বা-মা সে নিজেসহ ৬ জনের উপার্জনকারী কেউ নেই। তাই গত দুই বৎসর যাবৎ শিক্ষা ছেড়ে খাদ্য উপার্জন করতে জুবায়ের চালায় অটো রিক্সা, রাজন চালায় রিক্সা। জুবায়েরের সার্থপর বড় ভাই বেহাল অবস্থায় পরিবারকে ছেড়ে চলে গেলে তার পরিবারের উপার্জনের জন্য সে নিজেই অটোর স্ট্যারিং ধরে। আর রাজন অসুস্থ্য বাবার কাকুতি দেখে সেও রিক্সায় চড়ে বসে আজ থেকে ২ বৎসর পূর্বে।
নূন্যতম মানবাধিকার তাদের নেই। তারা পাচ্ছে না শিশু অধিকার, খাদ্য অধিকার, বস্ত্র অধিকার, বিনোদন অধিকার, শিক্ষা অধিকার, সর্বপরি সে যেন আজ পৃথিবীর বোঝা, কেউ নেই তাদের পাশে। বলা চলে…
“কাজীর গরু খাতায় আছে,গোয়ালে নেই”
কিশোরগঞ্জ শহরের আনাচে-কানাচে, অলিতে-গলিতে ছুটে চলে অসংখ্য অটো রিক্সা। তারেই ভিরে প্রতিযোগীতা চলে, কে যাবে কার আগে। কে কত বেশি যাত্রী পরিবহন করতে পারবে। সাথে সাথে পাবে অর্থ। এমনি এক প্রতিযোগীতায় দেখা যাচ্ছে ১০ বছরের শিশু জুবায়ের ও ১১ বছরের শিশু রাজনকে।
নীলগঞ্জ বাজারের পূর্ব পাশে অন্ধকার গ্রামে অন্ধকার পথযাত্রী জুবায়ের। মহিনন্দ ইউনিয়নে আরজাদী গ্রামে ১০ বছরের রাজন সেও অন্ধকার পথে পা বারাচ্ছে হাটি হাটি করে। জীবনে কোনদিন শিক্ষা বা ব্যক্তি অধিকার পাবে কিনা অনিশ্চিত।
জুবায়ের ২য় শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় শিক্ষা ছেড়ে কাজে নামে। আর রাজন প্রাক-প্রাথমিকে পড়া অবস্থায় কাজে নামে।
যে শিশু মা-বাবা, ভাই-বোন ও নিজের জীবনের খাদ্য উপার্জনের জন্য আজ রাস্তায় তারই সমবয়সী অন্য শিশুরা বিনোদন ও শিক্ষা নিয়ে ব্যস্থ। বিএম স্কুলে একজন শিশুর জন্য প্রতি মাসে খরচ করা হয় ২৫-৩০ হাজার টাকা। আর অটো/রিক্সা চালক এই শিশুদ্বয় খাদ্য উপার্জনের জন্য অটো/রিক্সা মালিকের জমা বাদে প্রতিদিন উপার্জন করে ৪০০-৫০০ টাকা। ওরা চায় বাবা-মা, ভাই-বোন নিয়ে তিন বেলা ডাল-ভাত খেতে। ভবিষ্যত কি তারা জানে না।
তাই কবি নজরুলের ভাষায় বলা চলে- নাই দানব, নাই অসুর। চাইনি সুর, চাই মানব। (অগ্নীবিনা)
দিগম্বরের জটায় লুটায় শিশু চাঁদের কর, আলো তার ভরবে এবার ঘর। তোরা সব জয়ের ধ্বনি কর।
পরিশেষে দুই শিশুর ভবিষ্যত নিয়ে সুধীজনের কাছে প্রশ্ন জুবায়ের ও রাজন কি সমবায়ের বা শিশু পরিবারের একটি অংশ হতে পারে না? তাদের পারিবারিক চলাচলের জন্য সরকারের ত্রাণ কর্মকর্তার বা জনপ্রশাসন, জনপ্রতিনিধি (জুবায়ের) মাইজকাপন ইউনিয়ন, (রাজনের) মহিনন্দ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান কি একটু হাত বাড়াতে পারেন না?
এই প্রশ্ন মানবতার ???
এই প্রশ্ন সমাজের ???
মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ডটকম/১৮-০৮-২০১৬ইং/ অর্থ
