দেখা হয় নাই পৃথিবীটা -জামাল উদ্দিন আহমেদ
মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ডটকমঃ
রাত তখন ১১:০০ টা। হঠাৎ মুঠোফোন বেজে উঠল। রিসিভ করে দেখলাম ছোট শালিকা-কণা। সে কক্সবাজার বেড়াতে যাবে স্বামীকে সাথে নিয়ে। আর মাত্র দু’দিন বাকী। আমার উৎসাহ না থাকলেও গিন্নী সাহেবা আর বড় মেয়ে জেরীন উৎসাহের ভাটা নেই। তার যুক্তি জীবনে এটাই তার বড় ইচ্ছে। জেরীন খালার সাথে বেড়াতে যাবে আনন্দে লাফিয়ে উঠল। বিবি সাহেবা কানের কাছে গ্যানর গ্যানর- প্যানর প্যার করতে শুরু করল। সেও কক্সবাজার বেড়াতে যাবে। বিবি সাহেবা রাতদিন পরিশ্রম করে চিড়া, মুড়ি, নাড়– বানিয়ে আয়োজন সমাপ্ত করলেন। এখন যাত্রা করলেই হয়। আমি অফিস থেকে তিন দিনের নৈমিত্তিক ছুটি অনুমোদন করিয়ে নিলাম। প্রাইভেটকার ভাড়া করল শালিকা- কণা। ভাইরা ভাই আমাকে গাড়ীর ভাড়াটা মুঠোফোনে ঠিক করলেন। সারা রাত ঘুম ধরেনি মেয়েদের। ছোট মেয়ে আফরীনও তেমন ঘুমালো না। ভোর হয়ে এল। গাড়ী এসে বাসার সামনে থামলো। যথাসময়ে যাত্রা শুরু হলো। আস্তে আস্তে গাড়ী চালাতে বললাম ড্রাইভারকে। ড্রাইভার কথামত গাড়ী আস্তে আস্তে চালাতে থাকলো। রাস্তায় যানজটে গাড়ী আরো আস্তে আস্তে চালাতে থাকলো ড্রাইভার। রাস্তায় বিবি সাহেবা, শালিকা এবং বাচ্চারাও গাড়ীতে ঘুমিয়ে পড়লো। দুপুর গড়িয়ে বিকেল পড়ে এলো। একটি বট বৃক্ষের নিচে গাড়ী থামাতে বললাম ড্রাইভারকে। ড্রাইভার গাড়ীটা আস্তে থামিয়ে দিল। গাছের নিচে একজন মহিলাকে দেখা গেল। দু’টি ছোট বাচ্চা আগলে করে বসে বসে কাঁদছে। আমি কাছে গিয়ে বললাম। কি হয়েছে আপনার। মহিলা কি বলেন ভাষা তেমন বুঝা গেল না। বুঝা গেল সে বাংলাদেশী মহিলা নয়। ওপাড়ের হবে। অথবা বার্মার হবে। মহিলাকে আমি অনেক কথা জিজ্ঞেস করলাম। তার কোন কথাই আমার বোধগম্য হল না। বাচ্চা দুটো কুলের উপর ঘুমিয়ে আছে। না খেয়ে খেয়ে শরীর প্রায় হাড্ডিসার। আমি তাকে কিছু টাকা দিলাম। সে আঁচলে চোখ মুছে হাত পেতে নিয়ে নিল। বললাম, আমাদের সাথে যাবে কী না। মাথায় ইশারা করে বলল না, চোখ ইশারায় দেখাল ওপাড়ে যাবো। আমি তাকে ও বাচ্চাদেরকে গাড়ী করে শহরে নিয়ে গেলাম এবং খুঁজে খুঁজে আশ্রয় শিবিরে রেখে এলাম। সে আমাকে দু’হাত তুলে আঁচল পেতে অশ্র“ ভোজা নয়নে দোয়া করল।
লেখকঃ জামাল উদ্দিন আহমেদ।
মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ডটকম/২০-০৮-২০১৬ইং/ অর্থ