মূল সংবাদে যান
২৪ আগস্ট ২০২৬

শেয়ার করুন

১৯৭১, নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ : এভাবে কী ক্ষণজন্মা হতে হয় বীরদের?

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ৯ বার পঠিত ৩ মিনিটের পাঠ

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ রিপোর্টঃ 

১৯৭১, নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ। সাতক্ষীরার শ্যামনগর স্কুলে জড়ো হয়েছে পাকিস্তানিরা। বৃহত্তর বরিশাল এলাকা খেকে পাকিস্তানিরা পালিয়ে এসে জড়ো হচ্ছে বরিশাল শহরে। পালাতে পারেনি এরা। এখন ওদের আনুষ্ঠানিক পরাজয় কেবল সময়ের ব্যাপার। স্কুলের ভিতর সুরক্ষিত অবস্থান নিলেও সহায়হীন ও সমর্থনহীন এরা।

মুক্তিযোদ্ধা এবং এলাকাবাসী কঠিন অবরোধ তৈরি করে রেখেছে। আহার বা রসদের ব্যাবস্থা নেই ওদের। পাশবিক চরিত্রের বহিপ্রকাশ হিসাবে থেকে থেকে জানালা দিয়ে গুলি করছে। লোহার খাড়া শিকের জানালা। এতে মুক্তিযোদ্ধারা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। কিন্তু দূর খেকে তারা জানালার ভিতরে শত্রুর উপর গুলি করতে পারছে না।

এমন সময় এক কিশোর প্রস্তাব করলো যে সে ক্রলিং করে নিঁচু দিয়ে গিয়ে জানালা দিয়ে দু’টি গ্রেনেড পর পর ফেলে আসবে সেই ঘরটিতে,হতাহত করবে শত্রুদের। ছেলেটির ক্রলিংকরে এগিয়ে যাওয়া যেন শত্রু দেখতে না পায়, সে জন্য অনবরত জানালার দৃষ্টিতে মুক্তিযোগ্ধারা গুলি করতে থাকবে। ছেলেটি গ্রেনেড ছুড়ে না আসা পর্যন্ত এই গুলিবর্ষন অর্থাৎ কভারিং ফায়ার অব্যাহত থাকবে।

মৃত্যুর এতটুকু তোয়াক্কা না করে না করে ছেলেটি পরিকল্পনামতো এগিয়ে যায়।মুক্তিযোদ্ধারা সবই দেখতে পাচ্ছে।পাকিস্তানিরা কিছুই দেখতে পাচ্ছে না,অনুমানওকরতে পারছে না। প্রথম গ্রেনেডটা নিক্ষেপিত হলো। হতাহত যা-ই হলো বাইরে থেকে কিছুই বুঝা গেলো না। তবে শত্রু যে হতভম্ব হয়ে গেছে বেশ বুঝা গেলো। সঙ্গে সঙ্গেই ওদের গুলিবর্ষণ বন্ধ হয়ে গেলো।

এবার দ্বিতীয় গ্রেনেডটি ছোড়া হলো। কি নিষ্ঠুর নিয়তি, গ্রেনেডটি জানালার শিকে লেগে সবার চোখের সামনে ছেলেটির পিঠের উপর এসে পড়লো। মুহূর্তেই বিকট শব্দে কচি কিশোরটির দেহ ছিন্নভিন্ন করে গ্রেনেডটি বিষ্ফোরিত হলো।

এভাবে কী ক্ষণজন্মা হতে হয় বীরদের?

(আমাদের অত্যন্ত শ্রদ্ধার ও প্রিয় সুহৃদ বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অবঃ) কামরুল হাসান ভূঁইয়া। তাঁর স্মৃতিচারণ থেকে সংগৃহীত এই লেখাটি। পুরো দেশ ঘুরে ঘুরে তিনি খুঁজে বের করেছেন জনারণ্যে মিলিয়ে যাওয়া জনযুদ্ধের গণযোদ্ধাদের বীরত্ব। তাঁর এই বিশাল কাজের জন্য আমৃত্যু তাঁর প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা থাকবে)

সূত্রঃ গেরিলা ৭১।

 

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/২৩-০৯-২০১৬ইং/ অর্থ