লালমনিরহাটে এসআইর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ
মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ রিপোর্টঃ
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার দোয়ানী পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) সেলিম রেজা চৌধুরীর বিরুদ্ধে নিরীহ মানুষকে ধরে নিয়ে মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় সাংসদ (হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম) সাবেক প্রতিমন্ত্রী মোতাহার হোসেনের কাছে প্রতিকার চেয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।
এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক মাস আগে দোয়ানী ফাঁড়িতে আসেন এসআই সেলিম। আসার পর থেকে তিনি একের পর এক নিরীহ মানুষকে হয়রানি করছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজন এসআই সেলিমের বিরুদ্ধে স্থানীয় সাংসদের কাছে কয়েকটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
ওই সব লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ১৪ সেপ্টেম্বর দোয়ানী গ্রামের দেশার আলীর ছেলে ফরিদুলকে আটক করেন এসআই সেলিম। এরপর তাঁকে ফাঁড়িতে নিয়ে মারধর করে তাঁর কাছে থাকা ৯ হাজার ৩০০ টাকা নিয়ে নেন তিনি। পরে ৫০০ টাকা হাতে ধরিয়ে দিয়ে ফরিদুলকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ফরিদুল বলেন, ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন তিনি। ঈদের ছুটিতে তিনি বাড়ি এসেছিলেন। ওই দিন দোয়ানী সীমান্ত বাজার থেকে কোনো কারণ ছাড়াই তাঁকে ধরে এনে মারধর করে টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেন এসআই সেলিম।
ওই ঘটনার এক দিন পর তিস্তা ব্যারাজে বেড়াতে আসা এক সরকারি চাকরিজীবীকে (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) মোটরসাইকেলসহ আটক করেন সেলিম। এ সময় ওই চাকরিজীবী মোটরসাইকেলের কাগজপত্র দেখাতে না পারায় তাঁর পরিচয়পত্র নিয়ে যাওয়া হয়। পরে এসআই সেলিমকে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দিয়ে ওই চাকরিজীবী তাঁর পরিচয়পত্রটি উদ্ধার করেন।
এর আগে ২ সেপ্টেম্বর আনোয়ার হোসেন নামের এক নৌকার মাঝিকে ধরে নিয়ে ১৫ হাজার টাকা ঘুষ আদায় করে ছেড়ে দেন সেলিম। নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ছোট খাতা গ্রামের আনোয়ার তিস্তা ব্যারাজ এলাকায় নৌকা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন।
আনোয়ার বলেন, এসআই সেলিম তাঁকে ধরে এনে পরিবারের লোকজনকে ফোনে মামলার ভয় দেখিয়ে ২৫ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে তাঁর পরিবার ১৫ হাজার টাকা দিয়ে তাঁকে ছাড়িয়ে নেয়।
এ ছাড়া সেলিমের কাছ থেকে শেষরক্ষা হয়নি পাটগ্রাম উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান লতিফা আক্তারেরও। কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, সম্প্রতি ওই ভাইস চেয়ারম্যান তাঁর স্বামীসহ মোটরসাইকেলে তিস্তা ব্যারাজ হয়ে রংপুর যাচ্ছিলেন। এ সময় তিস্তা ব্যারাজের প্রবেশদ্বারে তাঁদের মোটরসাইকেলের কাগজপত্র চেক করেন এসআই সেলিম। কিন্তু কাগজপত্র ঠিক থাকার পরও ওই মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের ব্যাগ চেক করা হয়। এতে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা হলে সেলিম তাঁদের (মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও তাঁর স্বামী) গালমন্দ করে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে দোয়ানী চেকপোস্টে বসিয়ে রাখেন। পরে স্থানীয় লোকজন এসে এর প্রতিবাদ জানালে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। ঘটনার কয়েক দিন পর বিষয়টি নিয়ে ওই এসআই দুঃখ প্রকাশ করায় তা মীমাংসা হয়ে যায়।
গড্ডিমারী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমান বলেন, এসআই সেলিম নানাভাবে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছেন। স্থানীয় লোকজন এ নিয়ে স্থানীয় সাংসদের কাছে প্রতিকার চেয়ে অভিযোগ করেছেন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এসআই সেলিম বলেন, ‘এখানে আসার পর থেকে এলাকায় মাদক ও জুয়া বন্ধ করেছি। এ কারণে এলাকার লোকজন আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলছেন।’
এ ব্যাপারে হাতীবান্ধা থানার ওসি রেজাউল করিম মঠো ফোনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, ‘মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের বিষয়টি স্থানীয় সাংসদ মহোদয় মীমাংসা করেছেন। এ ছাড়া সেলিমের বিরুদ্ধে অন্য কোনো অভিযোগ পুলিশ বিভাগে নেই। তবে সেলিম মাদক ও জুয়া বন্ধে এলাকায় ভালো কাজ করছেন।
মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম / ২৪-০৯-২০১৬ ইং/মোঃ হাছিব