সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে বাটখারা দিয়ে বাটপারী; সাধারণ ক্রেতারা প্রতারিত
ইমরান হোসেন আপন, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
রায়গঞ্জে ব্যবসায়ী মহলের ওজন মাপার বাটখারার মারপ্যাচে সাধারণ ক্রেতা-বিক্রতারা চরম প্রতারণার স্বীকার হচ্ছে। দীর্ঘ কয়েক দশকে বাটখারা নিয়ন্ত্রনে প্রশাসনের অভিযান পরিচালিত না হওয়ায় জনমনে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। সরেজমিনে জানা যায় রায়গঞ্জ উপজেলার কিছু অসাধু ফড়িয়া ব্যবসায়িরা ধান, পাট, সরিষা সহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য ক্রয়ের সময় অতিরিক্ত ওজনের বাটখারা ব্যবহারের মাধ্যমে বিক্রেতাদের প্রতারিত করে অতিরিক্ত মুনাফা অর্জন করছে। অপরদিকে মাছ-মাংস , শব্জী সহ বিভিন্ন ভোগ্য পণ্য বিক্রির সময় কম ওজনের বাটখারা ব্যবহার চলছে অবাধে। বাজার থেকে ১ কে,জি, ওজনের মাছ বা মাংস ক্রয় করে সঠিক ওজনের বাটখারা দিয়ে পরিমাপ করলে তা ১কেজির স্থলে ৮০০ গ্রাম পাওয়া যায়। বাজারে ১কে.জি. মাংসের মূল্য ৪০০ টাকা ধরে ২০০ গ্রাম কম দিয়ে প্রতি কে.জিতে অতিরিক্ত ৮০ টাকা মুনাফা অর্জন করছে প্রতারক ব্যবসায়ীরা। রায়গঞ্জ পৌরসভার ঝাপড়া কুটিরচর মহল্লার ক্রেতা আব্দুল মান্নান জানান ক্ষুদ্র আয়ের মানুষ হিসেবে বাজারের এ সব বাটখারার ওজনে মাছ.মাংস, শব্জী সহ বিভিন্ন পন্য ক্রয়ে প্রতিনিয়ত প্রতারিত হলেও দেখার যেন কেউ নেই । দুধ সহ বিভিন্ন তরল জাতীয় ভোগ্য পণ্য পরিমাপের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা হচ্ছে মান্ধাত্তা আমলের বাটখারা । রায়গঞ্জে ঢিমা গুড়ের কদর ও চাহিদা বেশী হওয়ায় গুড় বিক্রেতারা আরও এক ধাপ বেশী মুনাফা লাভের আশায় ১ কেজির স্থলে ৬০০ গ্রামের ঢিমা তৈরী করে বাজারজাত করছে। এ দিকে গাভীর খাটি দুধ পরীক্ষার ব্যবস্থা স্থানীয় হাট বাজারে দেখা না মিললেও পরিমাপের পাত্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে হাঁস মার্কা নারিকেল তেলের খালি কৌটা অথবা সঠিক পরিমাপবিহিন এলুমনিয়াম মগ । ১ লিটার দুধ ক্রয় করে সঠিক পরিমাপের পর প্রতি লিটারে ২০০/২৫০ মিলিলিটার দুধ কম পাওয়া যায়। স্বর্ণ ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে পরিমাপের একক হিসেবে গ্রাম বাধ্যতামূলক থাকলেও সরেজমিনে দেখা যায় ভিন্ন দৃশ্য। স্বর্ণ পরিমাপের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে ভরি, আনা, তোলা, রতি বা কোন ক্ষেত্রে অনেক পুরাতন পাকিস্তানী ধাতব মুদ্রা বা পয়সা। সাধারণ ক্রেতারা অভিযোগের সুুরে বলেন মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে ঘোষনা দেয়ার আগে শহর ও পল্লী গ্রামের মধ্যে বৈষম্য দূর করতে এ অসঙ্গতিসমূহ দুর করা উচিত। এ ছাড়াও সরকারী খাদ্য গুদামগুলো থেকে সরবরাহকৃত চাউল বা গমের বস্তায় পাওয়া যায় ১০০ কেজির স্থলে ৯৫ কেজি, এ যেন সরষের মধ্যে ভুত। যে কারণে ওজন কমিয়ে চাউলের বস্তা সরবরাহ করায় রিলিফ বিতরনের সময় সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান, সদস্যদের পড়তে হয় চরম বিপাকে। ভোক্তা সাধারণ ও সমাজের সচেতন মহল সহ জনপ্রতিনিধিরা বাটখারা নিয়ন্ত্রন অভিযান পরিচালনা সহ সকল অসঙ্গতি দূর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবী জানিয়েছেন।
মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ডটকম/০১-১০-২০১৬ইং/ অর্থ