মূল সংবাদে যান
২৪ আগস্ট ২০২৬

শেয়ার করুন

জয়েই আওয়ামীলীগের শেষ ভরসা

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ৬১ বার পঠিত ৪ মিনিটের পাঠ

 

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ রিপোর্টঃ

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা এবং তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে কেন্দ্রীয় কমিটিতে চান আওয়ামী লীগের নেতারা। দলটির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম জয়কে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, ‘শেখ হাসিনা আমাদের শেষ ভরসা। আর এখানে আছেন আরেকজন শেষ ভরসা। তিনিই নেতৃত্ব দিয়ে এগিয়ে নেবেন।’

আজ শনিবার বিকেলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে নেতারা এ দাবি তোলেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এই পর্বে দেশের প্রতিটি বিভাগ থেকে একজন করে মোট ছয়জন জেলা নেতা বক্তৃতা দেওয়ার সুযোগ পান। এর বাইরে বক্তৃতা করেন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি। এই আটজনের সবাই দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং তাঁর দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার দাবি জানান। সাতজন সজীব ওয়াজেদ জয়কে নেতৃত্বে নিয়ে আসার দাবি জানান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে না এলেও দ্বিতীয় পর্বে সম্মেলনে যোগ দেন রংপুর থেকে কাউন্সিলর সজীব ওয়াজেদ জয়। বেলা সাড়ে ৩টায় সম্মেলনস্থলে তাঁর উপস্থিতির কথা মাইকে ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ। জয় মঞ্চের সামনে বসেছিলেন। তাকে মঞ্চে ওঠার অনুরোধ জানানো হয়। এরপর তিনি মঞ্চে উঠে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মাঝখানের চেয়ারে বসেন। এরপর সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম মাইকে বলেন, ‘জয়, তুমি একটু উঠে দাঁড়াও। সবাই তোমাকে দেখতে চায়।’ সৈয়দ আশরাফ বলেন, ‘শেখ হাসিনা আমাদের শেষ ভরসা। আর এখানে আছেন আরেকজন শেষ ভরসা। তিনিই নেতৃত্ব দিয়ে এগিয়ে নেবেন। তিনি বলেন জয় এসেছে। তার বন্ধুরা আসবে। সহপাঠীরা আসবে। দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আমাদের বয়স হয়েছে। খুব বেশি কিছু দেওয়ারও নাই, শক্তিও নাই। নতুনদের আসার সুযোগ করে দিতে হবে। তারা যেন এই আওয়ামী লীগকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে।’

কাউন্সিলরদের বক্তব্য শুরু হয় বরিশাল বিভাগের মধ্য দিয়ে। এই বিভাগ থেকে বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাংসদ ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু দলীয় প্রধান শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনি ক্ষুধা-দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে যে যুদ্ধ করছেন, তা অব্যাহত রাখতে হবে। আপনি বিদায় নিতে পারবেন না। আপনার অবর্তমানে জয় এই যুদ্ধ এগিয়ে নিয়ে যাবেন। দেশের ১৬ কোটি মানুষ তাঁর দিকে তাকিয়ে আছে।’

সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘জয় ক্লিন ইমেজের (স্বচ্ছ ভাবমূর্তি) মানুষ। তাঁর হাত ধরে দেশে ডিজিটাল বাংলাদেশ এসেছে। তাঁকেই ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে দেখতে চাই।’

রাজশাহী বিভাগের অধীন বগুড়া আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন বলেন, ‘জয়কে কেন্দ্রীয় কমিটিতে উপযুক্ত পদে স্থান দেওয়া হোক।’
চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সাধারণ সম্পাদক আবদুস সালাম বলেন, ‘নেত্রী, সংগঠন করব আপনার নেতৃত্বে। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নত দেশে পরিণত করার জন্য কাকে আপনার রানিংমেট করা দরকার, তা আপনি করবেন। তরুণ সমাজ জয়কে কেন্দ্রে দেখতে চায়। সব স্তরের নেতারাও তাঁকে নেতৃত্বে চায়।’

যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সহিদুর রহমান ফারুক বলেন, ‘তরুণ প্রজন্ম জয়কে চায়। নতুন প্রজন্মকে জয়ের হাতে তুলে দিতে চাই আমরা।’

যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, পরবর্তী কেন্দ্রীয় কমিটিতে জয় যে কোনো একটি পদে থাকবে বলে আশা করছি।
খুলনা আওয়ামী লীগের সভাপতি হারুনুর রশিদ বলেন, ‘জয়কে আগামী কেন্দ্রীয় কমিটিতে একটি সম্মানজনক পদে রাখার দাবি করছি।’ এই বিষয়ে উপস্থিত কাউন্সিলররা রাজি আছেন কি না, তা জানতে চান হারুনুর রশিদ। এ সময় উপস্থিত কাউন্সিলর ও প্রতিনিধিরা এক যুগে হ্যাঁ সূচক আওয়াজ তোলেন। এরপর তিনি বলেন, হাত তুলে জানান। তখন সবাই হাত তুলে সমর্থন করেন।

বিকেল পাঁচটার পর ২০তম সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান মুলতবি করেন দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা। আগামীকাল রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বসবে কাউন্সিল অধিবেশন। এই দিনই নির্বাচিত হবেন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। প্রথম আলো

 

 

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম /     ২২-১০-২০১৬ ইং/মোঃ হাছিব