মূল সংবাদে যান
২৪ আগস্ট ২০২৬

শেয়ার করুন

দেশের বৃহৎ ১৮৮ তম জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায়

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ৯২ বার পঠিত ৪ মিনিটের পাঠ

sholak
প্রতিবছরের ন্যায় এবারও দেশের বৃহৎ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায়। আজ শনিবার শোলাকিয়ায় অনুষ্ঠিত ১৮৮তম জামাতে ইমামতি করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সাবেক পরিচালক, বাংলাদেশ ওলামা মাশায়েখ পরিষদ ও ইসলাহুল মুসলিমিন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার রাতেই দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা শত শত মুসল্লি ঈদগাহের খোলা মাঠে অবস্থান নেন। আজ শনিবার ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই শোলাকিয়ামুখী মুসল্লিদের ঢল নামে। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মূল ঈদগাহ চত্বর কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। সকাল ১০টায় শুরু হয় ঈদের জামাত। মাঠের রেওয়াজ অনুযায়ী জামাত শুরুর পাঁচ মিনিট আগে বন্দুকের গুলি ফুটিয়ে নামাজ শুরুর সংকেত দেওয়া হয়। এ সময় মূল মাঠে জায়গা না পেয়ে হাজার হাজার মুসল্লি রাস্তাঘাট, বাসাবাড়ি, নরসুন্দা নদীর পাড়ে নামাজের কাতারে দাঁড়িয়ে পড়েন।

নামাজ শেষে মোনাজাতে মুসলিম উম্মার ঐক্য, দেশের শান্তি ও কল্যাণ কামনা করে দোয়া করা হয়। শোলাকিয়ায় দেশের সবচেয়ে বড় ও বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। ১৮২৮ সালে শোলাকিয়ায় বড় জামাত অনুষ্ঠিত হলেও ঈদের নামাজ আদায় হয়ে আসছে ১৭৫০ সাল থেকে। সে হিসেবে এ মাঠের রয়েছে আড়াই শ বছরের ঐতিহ্য।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এবারের ঈদের জামাতে দেশের প্রায় সব জেলা থেকেই লোকজন এসেছে। দুই-তিন দিন আগে থেকে তাদের অনেকেই কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন আবাসিক হোটেল-মসজিদ, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুবান্ধবের বাসায় ওঠেন। তবে বেশির ভাগ মুসল্লি ভোরের দিকে ট্রেন, বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস, অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, সাইকেলে করে কিশোরগঞ্জে আসেন। পায়ে হেঁটেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক লোকজন জামায়েত হন শোলাকিয়ায়।

মুসল্লিদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ে ‘শোলাকিয়া স্পেশাল এক্সপ্রেস ট্রেন’ নামে দুটি বিশেষ ট্রেন চালু করে। একটি ভৈরব থেকে আরেকটি ময়মনসিংহ থেকে যথাক্রমে ভোর ৬টা ও পৌনে ৬টায় ছেড়ে আসে। দুপুর ১২টায় যাত্রীদের নিয়ে কিশোরগঞ্জ থেকে আবার আগের গন্তব্যে ফিরে যায় ট্রেন দুটি।

শোলাকিয়াকে ঘিরে এবার নেওয়া হয় বাড়তি নিরাপত্তা ও সর্তকতামূলক ব্যবস্থা। পুরো মাঠ ও আশপাশের এলাকায় ২৬টি সিসি ক্যামেরা ও ১১টি পর্যবেক্ষণ টাওয়ার স্থাপন করা হয়। এসব টাওয়ার থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পুরো মাঠ পর্যবেক্ষণ করে। মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে মুসল্লিদের দেহ তল্লাশি করে মাঠে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়। এ ছাড়া র‍্যাব, পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, রিজার্ভ পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ, আনসার, গ্রাম পুলিশসহ আড়াই শ স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ দেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার উদ্যোগে এ উপলক্ষে কিশোরগঞ্জ শহর ও শোলাকিয়া মাঠ ব্যানার পোস্টার, ফেস্টুন ও তোরণ দিয়ে সাজানো হয়। মুসল্লিদের জন্য বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থাসহ বেশ কয়েকটি মেডিক্যাল টিমও দায়িত্ব পালন করে।

শোলাকিয়া ঈদগাহ কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক জি এস এম জাফর উল্লাহ জানান, এবারের ঈদের জামাতে অনুমানিক তিন লক্ষাধিক মুসল্লি নামাজ আদায় করেছেন।

মাঠের চারপাশে বসানো হয় নিরাপত্তা চৌকি। পুরো এলাকায় সিসি ক্যামেরা বসানো ছাড়াও মাঠের ২৮টি প্রবেশ পথে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে মুসল্লিদের দেহ তল্লাশি করা হয়। নামাজ শেষে ফিলিস্তিনের গাঁজায় নিহতদের মাগফেরাত এবং দেশ-জাতি ও মুসলিম উম্মাহর জন্য মঙ্গল কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

কিশোরগঞ্জের জেলা জেলা প্রশাসক জি এস এম জাফর উল্লাহ, পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেন খান, জেলা পরিষদের প্রশাসক জিল্লুর রহমান, পিপি শাহ আজিজুল হক, জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এম এ আফজলসহ জাতীয় ও স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এখানে ঈদের নামাজ আদায় করেন।

জনশ্রুতি রয়েছে, কোনো এক ঈদের জামাতে শোলাকিয়ায় এক লাখ ২৫ হাজার বা ‘সোয়া লাখ’ মুসল্লি এক সঙ্গে নামাজ আদায় করেছিলেন। এরপর থেকে মাঠের নাম হয় ‘সোয়া লাখিয়া’। যা এখন শোলাকিয়া নামেই পরিচিত। প্রায় সাত একর আয়তনের এ মাঠে প্রতিবছর লাখ লাখ মুসল্লির ঢল নামে। প্রতিবছরের মতো এবার বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আই শোলাকিয়া থেকে ঈদের জামাত সরাসরি সম্প্রচার করে।