মৌলবাদী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে জাগরণ মঞ্চের আহ্বান
অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ওয়াশিকুর রহমানকে কুপিয়ে হত্যার প্রতিবাদে সোমবার বিকেলে শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরে সামনে বিক্ষোভ মিছিল থেকে এ আহ্বান জানান মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার।
মিছিলটি শাহবাগের জাদুঘরে সামনে বের হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে টিএসসির ডাস ঘুরে পুনরায় শাহবাগে শেষ হয়।
সকালে রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে বাসার কাছেই চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয় ওয়াশিকুরকে।
ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার দুই হামলাকারীর মধ্যে জিকরুল্লাহ নামের একজন চট্টগ্রামের হাটহাজারি মাদ্রাসার ছাত্র। আর আরিফুল নামে অন্যজন পড়েন মিরপুরের দারুল উলুম মাদ্রাসায়।
সামহোয়্যারইন ব্লগে ‘বোকা মানব’ নামে একটি অ্যাকাউন্ট থাকলেও তিনি মূলত লেখালেখি করতেন ফেইসবুকের কয়েকটি অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে।
জনগণকে প্রতিরোধের আহ্বান জানিয়ে ইমরান বলেন, “যারা এই সব হত্যাকাণ্ড পরিচালনা করেছে সেই ধর্মান্ধ মৌলবাদী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে। এই সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করতে আমরা প্রস্তুত আছি।”
“প্রয়োজনে প্রতিরোধের শক্তি হিসেবে আমাদের রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করতে হবে।”
এই হত্যাকাণ্ডের দায় রাষ্ট্রের জানিয়ে তিনি বলেন, এক মাসের বেশি সময় হয়ে গেলে সহযোগী অভিজিৎ রায়ের হত্যাকাণ্ডে সঠিক কোন তদন্ত হয়নি, এরই মধ্যে আবারও আরেক ব্লগার ওয়াশিকুর বাবুকে হত্যা করা হলো। অভিজিৎ হত্যার কোন কলুই এখন পর্যন্ত পুলিশ বের করতে পায়নি।”
মুক্তচিন্তার মানুষদের নিস্তব্ধ করতেই জঙ্গিরা হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটাচ্ছে বলে মনে করেন ইমরান।
এই ধরনের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ না করায় রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “একমাস আগে অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডে রাজনৈতিক দলগুলো নীরব থেকেছে। কোন ধরনের পদক্ষেপে নেয়নি।
“এসব হত্যাকাণ্ডে রাজনৈতিক দলগুলো নীরবতা পালন করছে, মৌন থাকছে কারণ ক্ষমতায় যাওয়ার নেশা তারা এই জঙ্গিগোষ্ঠীকে আশ্রয় প্রশয় দিচ্ছে।”
নিরীহ মানুষ জঙ্গিদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হলেও রাজনৈতিক দলগুলোর পেশীশক্তির কারণে তাদের ওপর হামলার সাহস দেখায় না বলেও মনে করেন গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র।
