রায়পুরা চলছে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ আহত অর্ধশত
মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ রিপোর্ট,
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার চরাঞ্চল নিলক্ষা ইউনিয়নের ৪ গ্রামে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আজ রবিবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দুপক্ষের মধ্যে টেঁটাযুদ্ধ ও ককটেল বিস্ফোরণে কমপক্ষে অর্ধ শতাধিক লোক আহত হয়েছে। আহতদের নরসিংদীর বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হক সরকার ও বর্তমান চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন জানায়, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হক সরকার ও বর্তমান চেয়ারম্যান তাজুল ইসলামের সমর্থকদের মধ্যে তুচ্ছ ঘটনায় বিগত কয়েক বার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে থানায় পাল্টাপাল্টি মামলাও হয়েছে। এরই জের ধরে গত কয়েক দিন ধরে ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে এ দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। গত শনিবার সন্ধ্যায় নিলক্ষার বীরগাঁও গ্রামে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার এক পর্যায়ে শুরু হয় সংঘর্ষ। সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হন। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে আজ রবিবার দুপুরে পূর্ব প্রস্ততি নিয়ে দেশীয় অস্ত্র, আগ্নেয়াস্ত্র, টেঁটা বল্লম, রাম দা ও ককটেল নিয়ে দুই দল সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় উভয় পক্ষের লোকজন প্রতিপক্ষের ওপর কয়েক শতাধিক ককটেল নিক্ষেপ হয়। পরে সংঘর্ষ ইউনিয়নের দড়িগাঁও, হরিপুর গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাবার বুলেট ও টিয়ার সেল ছুড়েও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয়। পরে আমিরাবাদ গ্রামের লোকেরা দড়িগাও গ্রামে হামলা চালিয়ে বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে জানা যায়।
সংঘর্ষে হাছেন আলী (৩০), বস্কু মিয়া (৩২), আবুল কালাম (৩৫) রেকমত আলী (৩৪), জাহাদ আলী (৪০) সোমেদ আলী (৪৮), হামিদ মিয়া (৪৫), খোরশেদ আলী (৪০), মোমেন আলী (৩৮), আদম আলী (৩৬), রাজিব মিয়া (৩৮) শাহ আলম মিয়া (৩৭) ফারুক মিয়া (৪০), জলিল মিয়া (৩৫) শফিকুল ইসলাম (২৫) ও শাহিন মিয়া (১৮) সহ কমপক্ষে অর্ধ শতাধিক লোক আহত হয়েছে। এদের মধ্যে ককটেল বিস্ফোরণে শফিকুল ও শাহিন নামে আহত দুজনকে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে পুলিশি গ্রেপ্তার এড়াতে বাকীদের স্থানীয় ভাবে অজ্ঞাত স্থানে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে নিলক্ষা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম বলেন, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় সমেদ আলীর বাড়িতে সহি মেম্বার, তারু মেম্বার ও মোরশেদ মেম্বারের লোকজন এ হামলা চালিয়ে অগ্নিসংযোগের ঘঁটনা ঘটিয়েছে। পুলিশ সঠিক সময়ে না থাকলে কয়েক গ্রাম পুড়িয়ে দিত সন্ত্রাসীরা। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা না হলে পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হক সরকার পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, চেয়ারম্যান তাজুলের সেকেন্ড ইন কমান্ড সমেদ আলী নিলক্ষাকে অস্থিতিশীল করছে। সে ভাড়া করে লোকজন এনে আমার সমর্থকদের বাড়িতে হামলা চালিয়েছে, বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাত চালিয়েছে।
এ ব্যাপারে রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে জানান, আমরা ঘটনাস্থলে আছি। দুই পাশে দুই পক্ষ অবস্থান নিয়েছে, আমরা মাঝখানে থেকে ঘটনা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছি। তাদেরকে শান্ত করতে না পেরে বাধ্য হয়ে পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ার সেল নিক্ষেপ করছে। তবে এই ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে জানান তিনি।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ইউনিয়নের দড়িগাও গ্রামে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। অন্য গ্রামগুলোতেও থমথম অবস্থা বিরাজ করছে। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হুমায়ূন কবিরের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে।
মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ /১৩ -১১-২০১৬ ইং / মো: হাছিব