মূল সংবাদে যান
২৪ আগস্ট ২০২৬

শেয়ার করুন

পদ পদবি বিক্রি চলছে খোরশেদের ফেইসবুক স্ট্যাটাস

BenjaminBlumenth ৫৮ বার পঠিত ৪ মিনিটের পাঠ
মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ রিপোর্ট,
সিটি নির্বাচনের পর নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র জেলা ও মহা নগর কমিটি গঠন নিয়ে চলছে তোড়জোড়। কমিটি গঠনের লক্ষ্য এখন শুধু জেলা নেতৃবৃন্দদের নয় কেন্দ্রের শীর্ষ নেতাদেরও। তাই এ কমিটিগুলোর ঘোষনা আসা সময়ের ব্যাপার মাত্র। এ নিয়ে জেলা ও মহানগরের তৃনমূল থেকে শীর্ষ নেতারাও যার যার ভাবে চালাচ্ছেন জোর লবিং। একাধিক সূত্রের ভাষ্যে পদ পদবী পেতে আন্দোলন সংগ্রামে মাঠে ময়দানে না থাকলেও সমস্যা নেই, যদি থাকে চাটুকারিতা, অর্থ, জেলার শীর্ষ নেতাদের সাথে আতœীয়তা। অন্যদিকে কমিটি গঠন নিয়ে গুঞ্জন চলছে বানিজ্যনীতির। যদিও এ সব কথার কোন সত্যতা ও প্রমানাদি দেখাতে পারছেনা কেউ। তারপরও নেতাকর্মীদের মধ্যে এসব নিয়ে চলছে আলোচনা, সমালোচনা। এদিকে বৃহস্পতিবার (১২ জানুয়ারী) দুপুরে মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদের একটি ফেইস বুক স্ট্যাটাস সোস্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক সমালোচনার ঝড় তোলে। স্ট্যাটাসটির ভাষা ছিল চমকপ্রদ বিজ্ঞাপনের মতো, তা হলো- ‘ পদ পদবি বিক্রি চলছে…….। ঢাকার ঐতিহ্যবাহী দোকান “ রায় এন্ড সন্স” এ সূলভে পদ বিক্রি হচ্ছে। আসন সংখ্যা সীমিত। যোগত্যা ঃ পকেটে মাল থাকতে হবে, শিক্ষিত হতে হবে। বিঃ দ্রঃ মিছিল মিটিংয়ের কথা বলে বিরক্ত করবেন না।’ খোরশেদের এ স্ট্যাটাসের পর সোস্যাল মিডিয়ায় নানা মন্তব্য যোগ হতে থাকে। এর মধ্যে মধ্যে ঢাকা জেলা যুবদল লিখেছে, ভাই সুলভ মুল্যে না, একটু বেশী মুল্যে পদ বিক্রি হয়, সুবিধা আছে, মিছিল মিটিন না করলেও চলবে, আওয়ামীলীগ হলেও চলবে তবে টাকা একটু বেশী লাগবে। আর দরাদরী করার সুযোগ নাই, মুরিদ ধরে পেমেন্ট করার পর পীরের কাছে যেতে হবে। সোনিয়া দেওয়ার প্রীতি লিখেছেন, শুধু তাই নয়, সম্প্রতি ঘুষ বাণিজ্যও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। যারা ঘুষ দিতে পারে তাদের কোনো যোগ্যতার প্রয়োজন নেই, পদ-পদবি তাদেরই জন্য। তাই রাজনৈতিক দল কিংবা যে কোনো পেশাতেই পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর পেছনে না ছুটে ঘুষের টাকার ব্যবস্থা করাতে মনোযোগ দিলেই ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। নয়ত, ঘেচাং। ত্যাগি নেতাদের মূল্যায়ন কখনো এ দেশে হয়নি, আর হবেও না। ঘুষ কে না খায়? খালেদা, হাসিনা, এরশাদ- সব। কেউ কলা উপর থেকে ছিলে খায়, কেউ নিচ থেকে ছেলা শুরু করে। কিন্তু সবাই ই কলা ছিলেই খায়। ওমাইয়ুল ইসলাম খালেক লিখেছেন, ভেন্নাগাছে আংঙ্গুরের চাষ-ধানের শীষের সর্বণাশ। ছাগলে খাচ্ছে ধানের চারা-কর্মীরা এসব নেতা তাড়া। পদ-পদবীর ক্রয়-বিক্রয় সেন্টার জ্বালিয়ে দাও,পুড়িয়ে দাও। রেজাউল ইসলাম লিখেছেন, সুযোগ পেলে সবাই ‘সন্স’ বানিয়ে নেয়। সেটা তৃনমূলে হোউক আর কেন্দ্রীয়ভাবে হউক। জানা গেছে, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির পরাজয়ের ভরাডুবির কারন হিসেবে সাংগঠনিক দূর্বলতাকে মনে করছেন দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা। এ নিয়ে একাধিকবার দলের শীর্ষ পর্যায়ে বৈঠকও হয়েছে। বৈঠকের এক পর্যায়ে সকলে ঐক্যমতে পৌঁছতে পেরেছে বলে জানায় জেলার শীর্ষ নেতারা। মাইনাস নয়, সকলের সমন্বয়ে ভিত্তিতে তৃনমূলকে গুরুত্ব দিয়ে নতুন ও ত্যাগী নেতাদের নিয়ে কমিটি গঠন হবে। তবে খোরশেদের স্ট্যাটাসে অনেকেই মনে করছেন জেলার শীর্ষ নেতাদের আন্তঃ কোন্দল, প্রত্যেকের নিজ নিজ অনুসারি নেতৃবৃন্দদের পদে আসিনের চেষ্টা ও বানিজ্য নীতির অনুসরন করা হলে জেলায় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের কার্যক্রম স্থবীর হয়ে পড়বে।
মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/১৩ -০১-২০১৭ইং / মো: হাছিব