ইসি গঠন নিয়ে সংকট থেকে উত্তরণের’ জন্য দ্বিপক্ষীয় সংলাপের ওপরই গুরুত্ব দিচ্ছে বিএনপি
মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ রিপোর্ট,
নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা এবং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে যে ‘সংকট চলছে তা থেকে উত্তরণের’ জন্য ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সংলাপের ওপরই গুরুত্বারোপ করছে বিএনপি।
ফলে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনের লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার সময় ‘পরস্পরের মধ্যে সংলাপের প্রয়োজনীয়তার’ যে কথা বলেছেন, তাকে স্বাগত জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
‘জনগণও চায় সংলাপের মাধ্যমে রাজনৈতিক সংকটের সমাধান হোক’ উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বিএনপি সব সময়ই চায় সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হোক।’
‘রাষ্ট্রপতি যখন বলেছেন যে, সংলাপ করা উচিত রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে, আমি জানি না রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সরকারের সম্পর্কের অবনতি কি না, সে কথা আমরা বলতে চাই না, বলতেও পারি না।’
মির্জা ফখরুল আরো বলেন, ‘শুধু এটুকু বলতে চাই, যদি রাষ্ট্রপতি কথাটা সত্যিকারভাবেই আন্তরিকভাবে বলে থাকেন, তিনি সত্যি কথা বলেছেন। এই দেশের মানুষ সংলাপের মধ্য দিয়েই এই রাজনৈতিক সংকটের নিরসন চায়। এটা শেষ করতে চায়, শেষ দেখতে চায়। জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চায়।’
দলের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৮১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আজ বুধবার রাজধানীর এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব।
আলোচনা সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, অপপ্রচার চালিয়ে জিয়াউর রহমানকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার চক্রান্ত চলছে।
আগামী নির্বাচন নিয়ে সংলাপে বসার জন্য বিএনপির পক্ষ থেকে বারবার আলোচনার কথা বলা হলেও আওয়ামী লীগ তা গোড়া থেকেই প্রত্যাখ্যান করছে। দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা এ প্রসঙ্গে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে সংলাপের জন্য প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান প্রত্যাখ্যান করার বিষয়টি সামনে নিয়ে আসেন।
তবে আজ বিএনপির নেতারা অভিযোগ করেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে সংলাপের জন্য বিএনপি চেয়ারপারসনকে প্রধানন্ত্রীর ফোনের ঘটনাটি ছিল সাজানো।
সভায় গণতন্ত্রকে নির্বাসনে পাঠিয়ে দেশে সরকার অঘোষিত একদলীয় শাসন চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন বক্তারা। গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য নিরপেক্ষ কমিশন গঠন প্রাথমিক ধাপ এমন মন্তব্য করে বিএনপি নেতারা বলেন, দলনিরপেক্ষ সরকার ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব না।
অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন এবং নির্বাচনকালীন একটি নিরপেক্ষ সরকারের মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন করতে হবে- তা নাহলে বর্তমানে যে সংকট চলছে, সেই সংকট থেকে এই দেশ রক্ষা পাবে না।’
দলের স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য মওদুদ আহমদ বলেন, ‘একমাত্র আন্দোলন ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প আমাদের সামনে নেই। আমাদের মনে রাখতে হবে, যদি আমরা সেটা সফল করতে পারি, তাহলে আমরা সফর হব। যদি আমরা সফল করতে না পারি, তাহলে আমরা ব্যর্থ হব। রাজনৈতিক দল হিসেবে আমাদের সবাই তখন ব্যর্থ দল হিসেবে চিহ্নিত করবে।’
উন্নয়নের নামে ক্ষমতাসীনরা লুটপাট চালাচ্ছে এমন অভিযোগ করে বক্তারা আরো বলনে, সুষ্ঠু নির্বাচন হলেই জনগণের কাছে প্রত্যাখ্যাত হবে আওয়ামী লীগ।
মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/১৮ –০১-২০১৭ইং / মো: হাছিব