মূল সংবাদে যান
২৪ আগস্ট ২০২৬

শেয়ার করুন

ইয়াবাসহ ঘাতক মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে গত জানুয়ারি মাসে ৭৬০ মামলা

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ৩৪ বার পঠিত ৪ মিনিটের পাঠ

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ রিপোর্টঃ 

ইয়াবাসহ ঘাতক মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে গত জানুয়ারি মাসে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, গাঁজা, চোলাইমদ, ফেনসিডিল, স্পিরিট উদ্ধার করে ৭৬০টি মামলা ও ৮১৪ জন আসামিকে আটক করা হয়েছে।

অভিযানে ২ লাখ ১২ হাজার ১৬৫টি ইয়াবা,  ২৯১ কেজি গাঁজা, ৭ হাজার ৯৬৯ লিটার চোলাইমদ, ১৫২৩টি ফেনসিডিল ও ৮০৪টি স্পিরিটেউদ্ধার করা হয়।
রোববার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এ তথ্য দিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. সামসুল আরেফিন।
জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে মো. সামসুল আরেফিন বলেন, ঘাতক ইয়াবা নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন তৎপর রয়েছে। ঘাতক মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের সকল দফতর কাজ করছে। তারই প্রয়াস গত বছরের ডিসেম্বর ও এ বছরের জানুয়ারি মাস জুড়ে অভিযানে রেকর্ড সংখ্যক মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানে ৭৬০টি মামলায় ৮১৪ জন আসামীকে আটক করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, খুন, ধর্ষন, হত্যা, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ নিরসনে জানুয়ারি মাসে ৪২৩১টি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অভিযানে ১৬ কোটি ৭ লাখ ৮৩ হাজার ১৬৮ টাকার মালামাল উদ্ধার করা হয় এবং ৩৯৫টি মামলা ও ২৯৮ জন আসামীকে আটক করা হয়। যা গতবছরের ডিসেম্বর মাসে খুন, ধর্ষন, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে জেলায় ৩৭৩টি মামলা ও সিএমপি অধীভূক্ত থানাগুলোতে ৬২১টি মামলা দায়ের হয়েছিল।
সভায় জেলা পুলিশ সুপার নূরেআলম মিনা বলেন, মহানগরীর ৮০ লাখ ও জেলায় ৭০ লাখ মানুষের নিরাপত্তায় পুলিশ কাজ করছে। সম্প্রতি চট্টগ্রামের কোন উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোন অবনতি ঘটে নি। পুলিশ প্রশাসনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় অস্ত্র উদ্ধারে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সারাদেশে ২য় এবং মাদক উদ্ধাবে ৩য় স্থান অর্জন করেছে। তবুও অস্ত্র ও মাদক উদ্ধাবে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
যানজটের বিষয়ে পুলিশ সুপার বলেন, অপরিকল্পিতভাবে চট্টগ্রাম শহর গড়ে উঠেছে। কোথাও নেই কার্গো টার্মিনাল, বাস ও ট্রাক টার্মিনাল। জনগণের যাতায়াতের জন্য পরিবহনের প্রয়োজন আছে। তাইলে কোন প্রকার টার্মিনাল না থাকলে বাস ও ট্রাকগুলো কোথায় অবস্থান নিবে? কোথাও না কোথাও তো গাড়িটি রাখতে হবে। এক্ষেত্রে যানজটে নিরসনে প্রথমে টার্মিনাল নির্মাণ জরুরি। তাছাড়া পরিবহন সেক্টর নিয়ন্ত্রণ করা দুষ্কর। লাইন্সেনবিহীন সিএনজি, লক্করজক্কর পরিবহন ও ভাড়া নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কোন অভিযান পরিচালনা করলেই তারা নানা ইস্যু সৃষ্টি করে আন্দোলন করে। যা কাম্য নয়। এক্ষেত্রে যে গাড়িগুলো আমাদের দেশে নিষিদ্ধ,  ব্যবসায়ীদের সেই গাড়িগুলোর আমদানি বন্ধ করে দিতে হবে। এক্ষেত্রে সচেতন ও পরিকল্পিতভাবে সমস্যা সমাধানে কাজ করতে হবে বলেও জানান তিনি।
জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে গত জানুয়ারি মাসে জেলা ট্রাস্টফোর্সে ৩৬টি, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, চট্টগ্রাম পূর্বজোনে ১০৯টি, বিজিবিতে ৩টি, জেলা পুলিশ ১৮৫টি, মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে ৩৮টি, মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে (গোয়েন্দা বিভাগ) ৫টি, মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে চট্টগ্রাম উপ অঞ্চলে ৬টি, র‌্যাব-৭ এ- ২০টি, সিএমপি ৩৫৮টি মামলা দায়ের করেছে। এছাড়াও অভিযান চালিয়ে ৮১৪ জন আসামিকে আটক করেছে। এছাড়াও খুন, ধর্ষন, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে জেলায় ৪১২টি মামলা ও ৪১৬ জন আসামি আটক করা হয়েছে। গতবছরের ডিসেম্বর মাসে একইভাবে ৩৭৩টি মামলা ও ৩৮৯ জন আসামিকে আটক করেছিল।
অন্যদিকে, ভ্রাম্যমান আদালত গত জানুয়ারি মাসে মহানগরীতে ১৬টি অভিযানে ৭০টি মামলায় ৪৩ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং ২০ লাখ ৩শ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। একইভাবে ভ্রাম্যমান আদালত জেলায় ১১টি অভিযানে ২৪৩টি মামলায় ২৫ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং ১৩ লাখ ৩৮ হাজার ৫০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।