পীরগঞ্জের আধ্যাত্মিক কবি কাজী হেয়াত মামুদ (রহঃ) এর মাজার শরিফ
রবিউল ইসলাম জুয়েল,পীরগন্জ (রংপুর) থেকে :
আজ ১৭ই ফেব্রুয়ারি কবি কাজি হেয়াত মামুদ (রঃ) এর জন্ম ও মৃত্যু দিবস। ১৬৯৩ সালে রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার অধীন ঝাড়বিশিলা গ্রামে জন্ম নেন। তাঁর পিতা শাহ কবীর ছিলেন পীরগঞ্জ সরকারের দেওয়ান এবং তিনি নিজে ছিলেন ওই সরকারের কাজী । ব্যক্তিজীবনে তিনি সাধক ও সাত্ত্বিক পুরুষ ছিলেন এবং সূফী সাধনার প্রতি ছিল তাঁর গভীর অনুরাগ।
তিনি মোট চারটি কাব্য রচনা করেন। হেয়াত মামুদ জন্মগত ভাবে রংপুরের অধিবাসী থাকায় তাঁর সাহিত্যে রংপুর অঞ্চলের ভাষা ও ভাষারীতির ব্যবহার রয়েছে। জঙ্গনামা (১৭২৩) কাব্যগ্রন্থে রয়েছে কারবালার বিষাদময় কাহিনীর বিবরণ। এটি মূলত ফারসি কাব্যের অনুসরণে রচিত। সর্বভেদবাণী (১৭৩২) কাব্যে রয়েছে নীতিকথামূলক বয়ান। মামুদ সংস্কৃত পঞ্চতন্ত্র কাব্যের ফারসি অনুবাদ মফরেহুল-কুলুব থেকে এর উপাদান সংগ্রহ করেন।
”যার বিদ্যা নাই সে জানে না ভাল মন্দ, শিরে দুই চক্ষু আছে তথাপি সে অন্ধ” – তাঁর বহুলপ্রচলিত অনেক আধ্যাতিক বানীর মধ্যে একটি।
কবি হেয়াত মামুদের সম্মানে রংপুরস্হ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ভবনের নামকরণ করা হয়েছে কবি হেয়াত মামুদ ভবন ।
ধারণা করা হয় আনুমানিক ১৭৬০ সালে তিনি মৃত্যু বরণ করেন। প্রতি বছর পীরগঞ্জ উপজেলার ঝাড়বিশিলায় কবির মাজার প্রাঙ্গণে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে কবির জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী ১৭ ফেব্রুয়ারি পালিত হয়ে আসছে। এছাড়াও সরকারি জেলা পরিষদের উদ্যোগে কবির স্মৃতি কেন্দ্র স্থাপিত করা হয়েছে।
মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ডটকম/১৭-০২-২০১৭ইং/ অর্থ