লক্ষ্মীপুরে অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই ভাষা শহীদের সৃতিস্তম্ভ শহীদ মিনার
মনির হোসেন রবিন, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধিঃ
লক্ষ্মীপুর জেলার ৫ টি উপজেলায় ৪০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ ৭শত ৩০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭শত টিতেই নেই শহীদ মিনার। রাষ্ট্রভাষা বাংলা প্রতিষ্ঠার প্রায় ৪৭ বছর হলেও ওইসব প্রতিষ্ঠানগুলোতে আজও শহীদ মিনার নির্মিত না হওয়ায় ভাষা শহীদদের প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা জানাতে পারছে না প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীরা। তবে দ্রুত এসব বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণের দাবি এখানকার শিক্ষার্থীদের। আরা না হওয়ায় বাধ্যহয়ে ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষাশহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধা জানাতে কলাগাছ দিয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ করে জেলার অনেক জায়গায় সম্মান করছে স্কুলের শিক্ষার্থীরাসহ এ জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের বাসিন্দারা।এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অস্থায়ীভাবে শহীদ মিনার তৈরি করে ভাষা শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আসছে। স্বাধীনতার এত বছর পরও বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ,অভিভাবক ও স্থানীয়রা। এদিকে জেলা কেন্দ্রিয় শহীদ মিনারকে সাজানো হয়েছে আলপনা ও রং তুলি দিয়ে।জানাগেছে,জেলার ৫টি উপজেলার ৭৩০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়,১৭৮টি মাধ্যমিক ও ১৩৩টি মাদ্রাসা রয়েছে। এর মধ্যে ১৭৮টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৪০ টিতেই শহীদ মিনার নেই। আর ৭৩০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭২০ টিতেই নেই শহীদ মিনার। অপরদিকে ১৩৩টি মাদ্রাসার বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানে নেই কোনো শহীদ মিনার। এখানকার হাজার শিক্ষার্থী ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রতিবছর নিজেরাই অস্থায়ীভাবে কলা গাছ ও বাঁশের কি দিয়ে শহীদ মিনার তৈরি করে আসছে।স্থানীয়দের দাবি সরকার কিংবা সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে আসাসহ একটু আন্তরিক হলেই প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একটি করে শহীদ মিনার নির্মাণ করা সম্ভব।তারা স্বেচ্ছাশ্রমের উদ্যেগে শহীদ মিনার নির্মাণ কিংবা সরকারিভাবে নির্মাণ না হওয়ায় কলাগাছ দিয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ করে জেলার অনেক জায়গায় সম্মান করছে স্কুলের শিক্ষার্থীরাসহ এ জেলার মানুষ।সদর উপজেলার তেওয়ারীগঞ্জ ইউনিয়নের শহর কসবা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো আবদুস শহীদ জানান,‘আমাদের বিদ্যালয়ের আশপাশের ২ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো শহীদ মিনার নেই। প্রতিবছর ২০ ফেব্রুয়ারি কলাগাছ দিয়ে বিদ্যালয়ের মাঠে শহীদ মিনার তৈরি করা হয়। আর ২১ ফেব্রুয়ারীতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মিলে পুষ্পমাল্য অর্পণ করি। বিষয়টি খুবই খারাপ লাগলেও কিছুই করার নেই। স্থায়ীভাবে শহীদ মিনার বানাতে খরচ হবে ৬০-৭০হাজার টাকা। আর নতুন বরাদ্দ পাওয়ার অপেক্ষায় নিজ উদ্যোগে একটি নির্মিত শহীদ মিনারের অভাবে তো শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো তো বন্ধ থাকতে পারে না।‘শিক্ষকের বক্তব্য শেষ হতেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন ওই বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী। তাদের অভিমত আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা প্রতিবছরই কলাগাছ দিয়ে বানানো শহীদ মিনারে ফুল দিয়েই ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানায় ।সদর উপজেলার পশ্চিম চররমনী মোহন জুনিয়র উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মাওলা জানান,‘বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার স্থাপনের জন্য কোনো অর্থ আমাদের নেই। কলাগাছ দিয়ে বানানো শহীদ মিনারই একমাত্র ভরসা। শিক্ষার্থীসহ আরো কয়েকজন জানান,এবার আমরা একত্র হয়ে কলাগাছ দিয়ে শহীদ মিনার তৈরি করে শহীদ মিনারে শহীদদের শ্মরণে পুস্পমাল্য অর্পণ করবো। তারা একটি স্থায়ীভাবে শহীদ মিনার তৈরিতে সরকারের সহায়তা কামনা করেন।কমলনগরে শিক্ষক কামরুল হাসান জানান, উপজেলার সরকারি-বেসরকারি ৭০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোনোটিতে শহীদ মিনার না থাকায় বিদ্যালয়গুলোর কোমলমতি শিক্ষার্থীরা অস্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ করে প্রতিবছর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করে।উপজেলার হাজিরহাট হামেদিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা যায়েদ হোছাইন ফারুকী জানান, রাষ্ট্রভাষা বাংলা প্রতিষ্ঠার প্রায় ৪৭ বছর হলেও উপজেলার সবকটি মাদ্রাসা শহীদ মিনারবিহীন থাকা খুবই দুঃখজনক। তাই শহীদ মিনারবিহীন প্রতিষ্ঠানগুলোতে অতিদ্রুত শহীদ মিনার নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানান তিনি।রায়পুর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসার ফাতেমা ফেরদৌসি জানান,রায়পুরে মোট প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ১২০ টি রয়েছে । তবে কয়েকটিতে শহীদ মিনার থাকলে ও অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই।জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আবদুল আজিজ জানান, জেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে শহীদ মিনার নির্মাণে কোন সরকারি ভাবে এ পর্যন্ত কোন বরাদ্ধ দেওয়া হয় নাই। তবে স্ব-স্ব বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণে বিত্তবানরা সহযোগিতা ও আন্তরিক হলেই প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একটি করে শহীদ মিনার নির্মাণ করা সম্ভব। তবে ইতোমধ্যে স্ব-স্ব বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদেরকে স্থানীয় সহায়তায় শহীদ মিনার নির্মাণে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান ভুঁইয়া জানান, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার সংখ্যা তথ্য আগেও রাখা হয় নাই । এখনো নেই। তবে কেউ এ তথ্য না চাওয়ায় সঠিক গুরুত্ব দিয়ে হিসাবটি রাখা হয়নি।লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক মো. জিললুর রহমান চৌধুরী জানান, ডিজাইন অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে প্রতিটি বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার তৈরি করা হবে।যেন ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারে শিক্ষার্থীরা। সে ব্যবস্থা করা হবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে। তবে এ কাজে সংশ্লিষ্টরা একটু আন্তরিক হলে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একটি করে শহীদ মিনার নির্মাণ করা সম্ভব মনে করেন তিনি।
মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ডটকম/২১-০২-২০১৭ইং/ অর্থ