মূল সংবাদে যান
২৪ আগস্ট ২০২৬

শেয়ার করুন

খালেদা মূল বেদিতে উঠে শহীদ মিনারের পবিত্রতা নষ্ট করেছেন : প্রধানমন্ত্রী

Muktijoddhar Kantho ৫৮ বার পঠিত ৫ মিনিটের পাঠ

রাজনৈতিক ডেস্ক :

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া শ্রদ্ধা নিবেদনকালে মূল বেদীতে উঠে শহীদ মিনারের পবিত্রতা নষ্ট করেছেন।
বুধবার বিকালে রাজধানীর খামারবাড়িস্থ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে চিরপ্রেরণার অমর একুশে ফেব্রয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভাষার প্রতি বিএনপি নেত্রীর এতটুকু সম্মান নেই। শহীদ মিনার অত্যন্ত পবিত্র স্থান। শহীদ মিনারের যে স্থানটিতে (বেদী) রাষ্ট্রের প্রধান রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকারসহ সবাই শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন, সেই স্থান মাড়িয়ে বিএনপি নেত্রী দলবল নিয়ে উঠে গিয়ে ফুল দিয়েছেন। বেদী ছেড়ে উনি কোথায় ফুল দিলেন? নিজের পায়ে কী ফুল দিলেন? যেখানে সবাই শ্রদ্ধা জানালেন, বিএনপি নেতা তার ওপর উঠে শহীদ মিনারকে অবমাননা করলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, তারা (খালেদা জিয়া) দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেন না। এরা দেশের ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয় কীভাবে উপলব্ধি করবে? এদের মন তো স্বাধীন বাংলাদেশে নেই, এদের মন পড়ে থাকে হাজার মাইল দুরের পেয়ারের পাকিস্তানে। এ কারণেই শহীদ মিনারে কোথায় ফুল দিতে হয় তা জানে না। যারা (বিএনপি-জামায়াত) দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না, বঙ্গবন্ধুর খুনি ও যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী বানায়, আন্দোলনের নামে মানুষকে পুড়িয়ে পুড়িয়ে হত্যা করে, জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করে, তাদের কাছে দেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, সাহিত্য ও মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের কোন মূল্য থাকতে পারে না।
তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ মানুষ জীবন দিয়েছে এটি প্রতিষ্ঠিত সত্য। অথচ পরাজিত পাকিস্তানিদের সুরে দেশের একজন প্রতিষ্ঠিত নেত্রী, যিনি দু’বার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তিনি (খালেদা জিয়া) পাকিস্তানের সুরে সুরে বলেন ৩০ লাখ মানুষ নাকি মারা যায়নি! পাকিদের প্রতি তার কতো প্রেম তা দেখুন।
দলের প্রতিটি নেতাকর্মীকে বঙ্গবন্ধুর নীতি ও আদর্শ মেনে জনগণের কল্যাণে কাজ করার উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ যে আদর্শ নিয়ে স্বাধীনতা হয়েছে, সেই আদর্শ সবাইকে ধারণ করে দেশকে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করতে হবে। কী পেলাম বা কী পেলাম না, সেটি বড় কথা নয়। বরং দেশ ও দেশের মানুষকে কী দিতে পারলাম সেটিই বড় কথা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সততাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় শক্তি। পদ্মা সেতু নিয়ে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র হয়েছিল। আমি এবং আমার পরিবারই ছিল সেই ষড়যন্ত্রের মূল লক্ষ্য। তবে সততার শক্তি ছিল বলেই আমরা সেই ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে পেরেছি। যা আজ প্রমাণিত হয়েছে।
দেশবাসীর উদ্দেশ্যে করে বঙ্গবন্ধুর এই কন্যা দৃঢ়কণ্ঠে ঘোষণা দেন, দেশ ও দেশের মানুষের সম্মান এতটুকু ক্ষুণ্ণ হোক তা আমার এবং আমার পরিবারের দ্বারা কখনো হবে না। বাংলাদেশ যে উন্নয়নের অগ্রযাত্রা ও অন্ধকার থেকে আলোর পথে যাত্রা শুরু করেছে, কোন শক্তিই তা আর পেছনের দিকে টেনে ধরতে পারবে না ইনশাল্লাহ।
শেখ হাসিনা বলেন, বাঙালি জাতি বীরের জাতি। মুক্তিযুদ্ধ করে দেশকে বিজয়ী করার জাতি। বাঙালি জাতি কখনো মাথা নিচু করে চলবে না, কারোর কাছে ভিক্ষা নিয়ে চলবে না। কারোর কাছে হাত পেতে বা মাথা নিচু করে চলতে পারে না। কিন্তু জাতির দুর্ভাগ্য, ’৭৫-এ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ক্ষমতা দখলকারীরা বাঙালি জাতিকে বিশ্বের কাছে ভিক্ষুকের জাতি জানিয়ে ভিক্ষা এনে নিজেদের পকেট ভারি করেছে। বাঙালির কঙ্কালসার দেহ দেখিয়ে  নিজেরা বিদেশ থেকে ভিক্ষা এনে নাদুসনুদুস হয়েছে। বিশ্বের কাছে আমাদের দেশের মানুষকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল যে, তারা নিজেরা কিছু করতে পারে না, শুধু ভিক্ষা করে খায়।
বিএনপি-জামায়াত জোটের কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর খুনি ও যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী-উপদেষ্টা বানানো, মানুষকে পুড়িয়ে পুড়িয়ে হত্যা করা, শত শত পবিত্র কোরআন শরিফ পোড়ানো, জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করাই হচ্ছে বিএনপির আসল চরিত্র।
বাংলা ভাষার সঠিক ব্যবহার ও উচ্চারণে দেশের নতুন প্রজন্মকে আরও সচেতন হওয়ার আবারো আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাতৃভাষায় শিক্ষায় যেভাবে গ্রহণ করা যায়, অন্য কোন ভাষায় তা হয় না। তবে গোটা বিশ্বই এখন গ্লোবাল ভিলেজ। তাই মাতৃভাষার পাশাপাশি অন্য ভাষাও শেখার সুযোগ থাকতে হবে।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই সকল ভাষা শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরাবতা পালন করা হয়।
আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য অধ্যাপিকা মেরিনা হোসেন, ইতিহাসবিদ অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, নাট্য ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার ও কবি নির্মলেন্দু গুণ। আলোচনা সভা পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ ও উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন।

 মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/২২-ফেব্রুয়ারি-২০১৭ইং/নোমান