খালেদা জঙ্গিযুদ্ধে হেরে বিভ্রান্তির জাল বুনে রাজনীতিতে ফেরার ষড়যন্ত্র করছেন
মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ রিপোর্টঃ
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জঙ্গিযুদ্ধে হেরে বিভ্রান্তির জাল বুনে আবারও রাজনীতির মাঠে ফিরে আসার ষড়যন্ত্র করছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু।
রোববার জাতীয় সংসদের চতুর্দশ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
পদ্মা সেতুর অর্থায়নে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে বিগত সময়ে গণমাধ্যমে বিভিন্ন সমালোচনার প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের গণমাধ্যমগুলো এত স্বাধীন যে, রাতে যখন টকশোগুলি দেখি তখন মনে হয়, দেশে কোনো সরকার নেই। কিন্তু সকালে উঠে দেখি সরকার আছে।’
তথ্যমন্ত্রী আরো বলেন, ‘বিএনপি এবং খালেদা জিয়ার কাছে নির্বাচন কখনো মূল এজেন্ডা ছিল না। তাদের মূল এজেন্ডা দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা। দেশকে সংবিধানের বাইরে ফেলে দেওয়া। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারসহ চুরি, দুর্নীতি ও মানুষ পোড়ানোর মামলা বন্ধ করে দেওয়া। গত আট বছরে তাদের এই এজেন্ডা পরিষ্কার হয়ে গেছে।’
জাসদ সভাপতি বলেন, ‘এরা আবারও নির্বাচনকে নতুন করে বিতর্কিত করার জন্য সহায়ক সরকারের প্রস্তাব দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করছে। কারণ, যখন খালেদা জিয়া নির্বাচন সহায়ক সরকারের কথা বলছেন, তখন মনে হচ্ছে, তারা আবার চক্রান্তের জাল বুনছে। সংবিধানের বাইরে দেশকে ঠেলে দিতে চাচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘২০১৯ সালের ৫ জানুয়ারির মধ্যে আগামী জাতীয় নির্বাচন করতে হবে। তাই এই সময়ের মধ্যে অনির্দিষ্ট কোনো প্রস্তাব নিয়ে আমরা আলোচনা করতে পারি না। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনকালীন সরকার তফসিল ঘোষণার পর থেকে সব ক্ষমতা কর্তৃত্ব করে। তখন নির্বাচনকালীন যে সরকার থাকে সেই সরকারই নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার হয়ে যায় এবং এ সময় সরকার নির্বাচন কমিশনের বাইরে কোনো প্রশাসনিক কোনো কাজ করে না। এটি সবাই জানেন। তারপরও নতুন করে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের প্রস্তাব মানে নির্বাচনকে ভণ্ডুল করার প্রস্তাব। সংবিধানকে ধ্বংস করার প্রস্তাব। বাংলাদেশে অরাজকতা তৈরি করার প্রস্তাব।’
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘খালেদা জিয়া জঙ্গিযুদ্ধে হেরে গিয়ে আবারও রাজনীতির মাঠে ফিরে আসার চেষ্টা করছেন; বিভ্রান্তির জাল বুনে। তাই আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে। বাংলাদেশ কোনোদিন আর চক্রান্তের কাছে পরাজিত হবে না। বাংলাদেশ এবার একাত্তরের মতোই অঙ্ক মেলাবে। সংবিধান অনুযায়ীই দেশ চলবে। নির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচন হবে এবং কোনো ছাড় না দিয়ে জঙ্গি দমন চলবে। দুর্নীতি, মানুষ পোড়ানোর দায় এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলবে। পাশাপাশি উন্নয়নের চাকাও চালু থাকবে।’
‘এ দেশে আর রাজাকার ও মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে মিউজিক্যাল চেয়ারের খেলা চলবে না। একবার রাজাকার, একবার মুক্তিযোদ্ধা- এই খেলা বন্ধ করতে হবে। এই খেলা আর চলতে পারে না। আগামী দিনে বাংলাদেশের মাটিতে শুধু মুক্তিযোদ্ধারাই খেলবেন। গণতন্ত্রের খেলার মাঠে শুধু মুক্তিযোদ্ধারাই থাকবেন। রাজাকার, যুদ্ধাপরাধী, জঙ্গি, হেফাজত, বিএনপি-জামায়াত, ফ্রিডম পার্টি- এদেরকে রাজনীতিতে একোমোটেড করলে রাজনীতিতে সঙ্কট ও অনিশ্চয়তা দেখা দেবে। বাংলাদেশে এবার রাজাকার-মুক্তিযোদ্ধা মিলমিশের তত্ত্বকে কবর দিতে হবে। অতীতে আমরা যেভাবে দ্বিজাতি তত্ত্ব করব দিয়েছি। ঠিক সেভাবেই রাজাকার মুক্তিযোদ্ধার মিলমিশের তত্ত্বকেও একেবারে চির কবর দিতে হবে। যাতে কোনোদিন বাংলাদেশের রাজনীতির ময়দানে রাজাকার-যুদ্ধাপরাধী ও তার সঙ্গীরা আস্ফালন করতে না পারে,’ বলেন তথ্যমন্ত্রী।