রায়পুরে প্রবাসী পরিবারকে ফাঁসাতে মাকড়াসার জাল
শাহাদাত হোসাইন সাদিক, রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) সংবাদদাতাঃ
লক্ষ্মীপুরে রায়পুর উপজেলার চরকাচিয়া গ্রামের সৌদি প্রবাসী কাশেম আলী গাজী ও তার পরিবারের সদস্যদের ফাঁসাতে একটি চক্র মতলববাজি করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য (মেম্বার) শেখ ফারুক আহমেদ মদদ দিয়ে উদ্দেশ্য মূলকভাবে ‘গল্প সাজিয়ে’ তার, স্ত্রী ও কলেজ পড়ুয়া ছেলের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ করিয়েছেন। কাশেম আলীর ছেলে জহিরুল ইসলাম ফেনী পলিটেকনিক্যাল ইনষ্টিটিউটের ছাত্র।
হয়রানি থেকে মুক্তি পেতে শুক্রবার বিকেলে আবুল কাশেম ও তার স্ত্রী জহুরা বেগম স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে এ অভিযোগ করেছেন।
আবুল কাশেম ও তার স্ত্রী জহুরা বেগম জানান, প্রায় ৮ মাস আগে তাদের ছেলে ব্যাগ নিয়ে বাড়ি থেকে ফেনী পলিটেকনিক্যাল ইনষ্টিটিউটের উদ্দেশ্যে বের হয়। এসময় দাদন মিয়া গাজীর বাড়ির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় উৎশৃঙ্গল কয়েকজন যুবক তাকে ধাওয়া করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই জহিরুল দৌঁড় দেয়। এক পর্যায়ে তার চিৎকারে স্থানীয় ইউপি সদস্যের (মেম্বার) শেখ ফারুকসহ লোকজন জড়ো হতে দেখে তারা পালিয়ে যায়। সম্প্রতি শেখ ফারুক মতলববাজির উদ্দেশ্য গল্প সাজায়।
তারা অভিযোগে আরো জানায়, মতলব বাজির অংশ হিসেবে পুরনো ওই ঘটনার জেরধরে গত ২১ মার্চ লক্ষ্মীপুর আদালতে এক কলেজ ছাত্রীকে দিয়ে অভিযোগ করানো হয়। তাতে বলা হয়, জহিরুল বাড়িতে গিয়ে ছাত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালিয়েছে। এক পর্যায়ে তার চিৎকারে লোকজন জড়ো হয়। পরে জহিরুল তাকে ১০ দিনের মধ্য বিয়ে করবে জানিয়ে চলে যায়। বাবা ও মা বিলম্ব করায় তাদেরকেও অভিযুক্ত করা হয় অভিযোগে। আদালত বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন।
ইউপি সদস্য (মেম্বার) শেখ ফারুক আহমেদ বলেন, জহিরুলকে ধাওয়ার ঘটনায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা একাধিকবার বসেছি। তখন ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ আসেনি। কার পরামর্শে মামলা করা হয়েছে তা আমি অবগত নই। তিনি কোন মতলববাজির সাথে জড়িত নয় বলে দাবি করেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শিউলী আক্তার বলেন, অভিযোগটি তদন্তে সরজমিনে যাওয়া হয়েছে। ধর্ষণ চেষ্টার কোন ঘটনা প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ডটকম/৩১-০৩-২০১৭ইং/ অর্থ