শিক্ষকদের অনিয়ম আর অবহেলায় নান্দাইল এর চন্ডীপাশা ইউনিয়নের প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোর শিক্ষাদান ব্যাহত
মোঃ তোফাজ্জল হোসেন, নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলাধীন ৪ নং চন্ডীপাশা ইউনিয়নের প্রায় সবগুলো প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনিয়ম আর বিশৃঙ্খলা বিদ্যমান। এতে করে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। সেই এলাকায় ঘুরে ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া যায়।
জানা যায়, স্কুলগুলোতে বাচ্চাদের সঠিকভাবে, প্রয়োজনমত পড়ানো হয় না। স্কুলে এসে তারা সারাক্ষণ মাঠে খেলাধুলা করে কাটায়। আর ছুটির সময় ছুটি দেয়া হয়। তাও নির্ধারিত সময়ের আগে।
শিক্ষকদের ঠিক সময়ে স্কুলে আসা নিয়েও রয়েছে নানান অভিযোগ। সকাল সাড়ে নয়টায় স্কুল শুরু হওয়ার কথা থাকলেও শিক্ষকদের দেখা মিলে ১০ টার পর। আবার স্কুল ছুটি হয়ে যায় সাড়ে তিনটার মধ্যেই। অথচ ছুটির সময় ৪.১৫ মিনিট। আর অনেক শিক্ষক ক্ষমতার জোরে বিনা অনুমতিতে স্কুল কামাই করছেন। যা পাঠদানের অন্যতম বাঁধা।
এই ইউনিয়নে প্রায় ১৫ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। তন্মধ্যে কুরাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বরুনাকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চামারুল্লাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কূলধূরুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ধরণের অভিযোগ বেশি। এ ব্যাপারে কথা বলতে গত মঙ্গলবার বিকাল ৪ টায় কুরাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গেলে সেখানে ছাত্র-শিক্ষক কাউকেই পাওয়া যায় নি। স্থানীয়রা জানান, এই স্কুল প্রতিদিন বিকাল ৩ টায় ছুটি হয়। এ নিয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসে জানানা হলেও কোনো ফল হয় নি।
স্কুলের শিক্ষকদের অবহেলায় আর অনিয়মের ফলে শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিপাকে পড়েছে অভিভাবকরা। তাদেরকে অতিরিক্ত প্রাইভেট-কোচিং করাতে হচ্ছে। কিন্তু এই গ্রামাঞ্চলের মধ্যবিত্ত পরিবারের অভিভাবকদের জন্য তা অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। আর যদিও বা কেউ আলাদা প্রাইভেট-কোচিং পড়াতে চায় তো সেক্ষেত্রে যোগ্য লোক ও প্রতিষ্ঠান পাওয়া যাচ্ছে না। তাই প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা নিয়ে উদ্বিগ্ন তারা।
বিষয়টি নিয়ে জানতে নান্দাইল উপজেলা শিক্ষা অফিসার এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি এ ব্যাপারে অবগত নন বলে জানান। বলেন, জানলে অবশ্যই বিষয়টা খতিয়ে দেখা হতো। সার্বিকভাবে বলা যায়, এগুলো দেখার কেউ নেই। ক্ষমতা ও প্রতাপশালী শিক্ষকদের হাত থেকে রক্ষা পেতে তাই উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছে এলাকাবাসী।
মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ডটকম/১৫-০৪-২০১৭ইং/ অর্থ