মূল সংবাদে যান
২৪ আগস্ট ২০২৬

শেয়ার করুন

কর্মচারীর পর এবার পুলিশের হাতে মার খেলো ছাত্র

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ১০৮ বার পঠিত ৩ মিনিটের পাঠ

পাপন সরকার শুভ্র, রাজশাহীঃ 

কর্মচারী কর্তৃক শিক্ষার্থী নির্যাতনের ঘটনার কয়েকদিনের মাথায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আবাসিক হলের প্রহরীর দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যের কাছে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এক সাধারণনন শিক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার সকাল সাতটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মতিহার হলে এ ঘটনা ঘটে।

নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থীর নাম মো. রফিকুল ইসলাম অভি, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়াবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত শফিকুল ইসলাম মতিহার হলের প্রহরীর দায়িত্বে নিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবল।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী অভি বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে আমার গেস্ট আসার কথা ছিল। আমি এ জন্য আমার বোনসহ হলের
গেটে অপেক্ষা করছিলাম। এসময় হলের গেটে প্রহরীর দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্য শফিকুল ইসলাম সিগারেট জ্বালায়। আমার বোনের অসুবিধা হচ্ছিল বলে আমি তাকে অনুরোধ করি দূরে গিয়ে সিগারেট খেতে। একথা শুনে তিনি আমার ওপর চড়াও হন। আমাকে বলেন, ‘তুই কে রে? তোর জন্য সিগারেট ফেলে দিতে হবে?’ এসময় আমি হলের আবাসিক শিক্ষার্থী পরিচয় দিলে তিনি আমাকে তার রাইফেলের বাট দিয়ে আঘাত করেন। পরে আবার বলেন, ‘তোর কোন বাপ আছে তাকেডেকে নিয়ে আয়। নাহলে বুকের ওপর বুট তুলে দেব।’ পরে আমি আমার হলের বড় ভাইদের ডেকে নিয়ে আসি। পরে প্রক্টর স্যারও আসেন।

মতিহার হল শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাব্বির হোসেন বলেন, ঘটনাটি শোনার পর সঙ্গেসঙ্গে আমি হলের গেটে যাই। গিয়ে দেখি হলের শিক্ষার্থীরা শফিকুল ইসলামের সঙ্গে বাকবিতন্ডা করছে। আমি তাদের শান্ত করি। পরে প্রক্টর
স্যারের দপ্তরে বিষয়টি নিয়ে মিমাংসায় বসি। অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য শফিকুল ইসলাম প্রথমে ঘটনাটি অস্বীকার করলেও পরে প্রক্টর দপ্তরে স্বীকার করে।

প্রক্টর দপ্তর সূত্রে জানা যায়, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রক্টর দপ্তরে বিষয়টি সমাধানে অভিযোগকারী শিক্ষার্থী অভি ও অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য শফিকুলকে নিয়ে বসেন প্রক্টর। এসময় শফিকুল ইসলাম অভিযোগ স্বীকার করে ক্ষমা চায়। পরে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এসময় প্রক্টর দপ্তরে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মহানগর পুলিশের ডেপুটি কমিশনার আমির জাফর, মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির, মতিহার হল শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাব্বির হোসেন, রাবি খেলোয়ার কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. কামরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আসলাম হোসেন প্রমূখ।

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যায়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. মজিবুল হক খান আজাদ বলেন, বিষয়টি আমরা সমাধান করেছি।

মতিহার থানার ওসি হুমায়ুন কবির বলেন, আমরা দুই পক্ষের বক্তব্য নিয়েছি। শফিকুল ইসলামকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে নেয়া হবে। পরে আমরা তার ব্যাপারে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেব।

প্রসঙ্গত, গত ১৮ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে দুই শিক্ষার্থীকে মারধর করে প্রশাসনিক ভবনের প্রকৌশল শাখার এক কর্মচারী। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে বেশ সমালোচানার সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধনও পালিত হয়।

 

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ডটকম/২৫-০৫-২০১৭ইং/ অর্থ