মূল সংবাদে যান
২৪ আগস্ট ২০২৬

শেয়ার করুন

ধর্ষণের পর রক্তাক্ত অবস্থায় কিশোরীকে হাসপাতালে ফেলে গেছে প্রেমিক

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ৫৯ বার পঠিত ৪ মিনিটের পাঠ

পাপন সরকার শুভ্র, রাজশাহীঃ 

ধর্ষণের পর রক্তাক্ত অবস্থায় নারীকে (২৫) রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বারান্দায় ফেলে রেখে পালিয়েছে কথিত প্রেমিক। এ সময় ধর্ষক তার মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালঙ্কারও নিয়ে যায়। শুক্রবার গভীর রাতে তাকে হাসপাতালের ২৮নং ওয়ার্ডে ফেলে রেখে যায় ওই ধর্ষক।

তবে শনিবার বিকেলে তাকে হাসপাতলের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়। মেয়েটির বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জে।

মেয়েটির মামা জানান, তারা খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের মেঝেতে মেয়েটিকে পড়ে থাকতে
দেখেন। অতিরিক্ত রক্ত ক্ষরণে সে নিস্তেজ হয়ে পড়েছিল। রক্ত আনার কথা বলে ধর্ষক মেয়েটির মোবাইলফোন ও
স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে পালিয়ে যায়। সারারাত রক্ত ক্ষরণের পরও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়নি বলে ওয়ার্ড থেকে তাকে বের করে দেয়া হয়। ভর্তি না করা হলেও তাকে বাঁচানোর জন্য একটি স্যালাইন দেয়া হয়েছিল। এ জন্য হাসপাতালের একজন কর্মচারী তার কাছ থেকে ৫০০ টাকাও নিয়েছে। তারপর তাদের বাইরে চিকিৎসা করাতে বলা হয়। তারা সেখান থেকে বাইরে কয়েকটি ক্লিনিকে ভর্তির চেষ্টা করেন।

কিন্তু ধর্ষণের ঘটনা ‘পুলিশ কেস’ বলে কোনো ক্লিনিকই ভর্তি করাতে রাজি হননি। পরে লক্ষ্মীপুওে অবস্থিত বেসরকারি ‘সিডিএম’ হাসপাতালে মেয়েটিকে বাঁচানোর জন্য চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।

সিডিএম হাসপাতালের চিকিৎসক তাসনিমা খাতুন জানান, ধর্ষণের কারণে  তার রক্তক্ষরণ বন্ধ হচ্ছিল না। তার রক্তক্ষরণ বন্ধের জন্য সিডিএম হাসপাতালে তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। পরীক্ষা নিরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে হাসপাতালের ব্যবস্থাপকের পরামর্শে আইনগত ব্যবস্থার জন্য তাকে মেডিকলে কলেজ হাসপাতালে ভর্তি পাঠানো হয়।

এদিকে নির্যাতিতার মামী জানান, মেয়েটির বাবা নেই। মেয়েটিকে নিয়ে তার মা মামার বাসায় থাকেন। মা মানসিক প্রতিবন্ধী। মেয়েটিও খানিকটা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। কয়েকদিন ধরেই মেয়েটি ফোনে কার সঙ্গে বেশি বেশি কথা বলছিল। মানার করার পরও কিছুটা মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় তাকে বোঝানো যাচ্ছিল না।

তাদেরকে মেয়েটি জানিয়েছে, যে ছেলের সঙ্গে কথা বলতো সে কুয়েতে চাকরি করে।  সেখান থেকে এসেছে। তাই শুক্রবার বিকেলে বাড়ির সবার নজর এড়িয়ে সে দেখা করতে গিয়েছিল। মেয়েটি তার মামা- মামীকে আরো জানিয়েছে, ছেলেটি
নগরীর রাজপাড়া থানার লক্ষ্মীপুরের কোনো এক জায়গায় নিয়ে এসে রাতে তাকে উপর্যপুুরি ধর্ষণ করে। এরপর প্রচুর
রক্তক্ষরণ হতে থাকলে তাকে হাসাপাতালে রেখে যায়। যাওয়ার সময় সে তার মোবাইলফোন ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে পালিয়ে
গেছে।

এবিষয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এএফএম রফিকুল ইসলামকে জানান, শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে মেয়েটিকে হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা
হয়েছে। সেখানে তার চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ওসিসি  থেকেই তাকে আইনগত সহযোগিতা দেয়া হবে।

রাজপাড়া থানার ওসি আমান উল্লাহ বলেন, পুলিশ খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছে মেয়েটি বিবাহিত। তার সন্তানও রয়েছে। মোবাইল ফোনে পরিচয়ের সূত্র ধরে অজ্ঞাত ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করে গোদাগাড়ীতে। এরপর সেখান থেকে চলে যায়
চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমনুরায়। তারপওে হাসপাতালে। এখন কোথায় এ ঘটনা ঘটেছে সে বলতেও পারছে না। এখনো মামলা হয় নি বলেও জানান তিনি।

 

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ডটকম/২৮-০৫-২০১৭ইং/ অর্থ